উপন্যাস        :         তপোবনে যখন সন্ধ্যা নামে
লেখিকা        :          নৌশিন আহমেদ রোদেলা
গ্রন্থ             :         
প্রকাশকাল   :         
রচনাকাল     :         

লেখিকা নৌশিন আহমেদ রোদেলার “তপোবনে যখন সন্ধ্যা নামে” শিরোনামের এই ধারাবাহিক উপন্যাসটি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া হয়েছে। ‘কবিয়াল’ পাঠকদের জন্য উপন্যাসটি পর্ব আকারেই প্রকাশিত হবে। লেখিকা অনবদ্য এ উপন্যাসটি তার ফেসবুক পেজে ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে লেখা শুরু করেছেন।
তপোবনে যখন সন্ধ্যা নামে || নৌশিন আহমেদ রোদেলা
তপোবনে যখন সন্ধ্যা নামে || নৌশিন আহমেদ রোদেলা

তপোবনে যখন সন্ধ্যা নামে || নৌশিন আহমেদ রোদেলা (১০ম এবং শেষ পর্ব)

রোদেলা পাহাড়ি বৃষ্টিতে ভেজা সেই বাড়ি। চারপাশে নিস্তব্ধতা, শুধু ধূসর আকাশের আওয়াজ।
রুদ্র, তপু, মিতু এবং নিশি—চারজন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিটা শ্বাস যেন ভীষণ ভারী।

রুদ্রের চোখে অদ্ভুত স্থিরতা, কিন্তু ভেতরে এক অশেষ দুঃখ। সে জানে—এই জায়গা থেকে বের হওয়া আর সহজ নয়।

নিশি তার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। তার চোখে শুধু নিরব দৃষ্টি।
“তুমি এখানে এসেছো, ঠিক আছে?”—তার কণ্ঠে কোনো সুখ নেই, শুধু এক অতৃপ্ত আশার প্রতীক্ষা।

রুদ্র ধীরে মাথা নেড়ে, “হ্যাঁ… আমি এসেছি।”
কিন্তু তার চোখে ঝিলিক, মনে হচ্ছে সে জানে—এইবার কোনো পালানোর পথ নেই।

বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ ভূমিকম্পের মতো এক কেঁপুনি। মাটির নিচ থেকে কালো ধোঁয়া উঠে আসে। ধোঁয়ার ভেতর থেকে অদ্ভুত ছায়ামূর্তি গাঢ় অন্ধকারের মতো আবির্ভূত হয়।

তপুর ভয় পেলেও দাঁড়িয়ে থাকে। সে বুঝতে পারে—এ যে শুধু ছায়া নয়। এটা সেই রহস্য, যে রহস্যের কথা রাতভর তারা ভয়ে ফিসফিস করেছিল।

রুহুল আমিন স্থির দৃষ্টিতে বললেন—
“ওটা… এখানে লুকানো কিছু। বহু বছর ধরে।”

মিতু কণ্ঠে কম্পমান হয়ে বলল—
“কিছু হচ্ছে, বড় মামা… আমরা কি প্রস্তুত?”

রুদ্র একটুও না থেমে ভীষণ ঠান্ডা কণ্ঠে বলল—
“আমরা আর প্রস্তুত হইনি। এখন শুধু দেখতে হবে।”

নিশি ধীরে হাত বাড়ালো। কালো ছায়ামূর্তিটি তার দিকে ধীরে এগোলো।
রুদ্রের বুক কাঁপছে, কিন্তু সে দাঁড়িয়ে থাকে। এই মুহূর্তে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময় এসেছে।

“আমি…” রুদ্র বলল, “আমি আর পালাব না। আমি এখানেই থাকব। তাদের মুখোমুখি হব।”

নিশি ধীরে ধীরে মাথা নেড়ে। ছায়ামূর্তির অদ্ভুত কণ্ঠ響 হলো—
“যদি তুমি সত্যিই এখানে থাকো… তাহলে তুমি সব হারাবে।”

রুদ্র চোখ বন্ধ করল। মনে মনে বুঝেছে—এবার বাঁচা সম্ভব নয়।
সে ধীরে ধীরে ধরা দেয়।

হঠাৎ—

ছায়ামূর্তির ভেতর থেকে অগণিত ছোট ছায়া বেরোতে শুরু করে।
সেসব ছায়া মানুষ নয়। প্রাণীও নয়। ভীতিকর, অদ্ভুত, চোখের পলকে মানুষকে আড়াল করার মতো, অশুভ, অসীম শক্তি।

তপু চিৎকার করে উঠে, “রুদ্র—এগুলো… ওরা কি?”
রুদ্র ধীরে বলল, “ওরা… অতৃপ্ত আত্মা। যারা বহু বছর ধরে অপেক্ষা করছে।”

বৃষ্টি তীব্র হয়ে ওঠে। ঝড়ের গর্জন আর কালো ছায়ার মিলনে চারপাশে সব অন্ধকারে ডুবে যায়।

রুদ্রের চোখে শান্তি নেই, শুধু এক অশেষ দুঃখ।
সে জানে—এবার জীবন আর ফিরে পাবার নয়।

নিশি তার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। ছায়া-প্রাণেরা চারপাশে ঘিরে রাখে।
“সব শেষ।”—নিশির কণ্ঠ।

রুদ্র ধীরে ধীরে মাথা নেড়ে, নিজের সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়।
“হ্যাঁ… সব শেষ। আমি এখানেই থাকব। আমি ওদের মধ্যে মিলিত হব।”

তপু কেঁদে ফেললো। মিতু থমকে দাঁড়ালো।
ছায়ামূর্তির মধ্যে রুদ্র ধীরে ধীরে মিলতে লাগল। তার শরীর অদৃশ্য হতে লাগল, কিন্তু চোখে চিরন্তন শান্তি।

জঙ্গলের মধ্যে কেবল বৃষ্টির শব্দ এবং ধূসর বাতাসের মধ্যে অদ্ভুত কণ্ঠ।
রুদ্র আর নেই। তাকে কখনো আর দেখা যাবে না।

নিশি ধীরে ফিরে গেলো ছায়ামূর্তির ভেতর।
ছায়াপ্রাণীরা আবার অদৃশ্য হয়ে গেল।

তপু চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে নিরাশা, মুখে এক অদ্ভুত হতাশা।
মিতু কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল—
“এটাই… শেষ?”

জঙ্গলের চারপাশ আবারও নিস্তব্ধ।
কেবল অন্ধকার, বৃষ্টি, এবং সেই অজানা ছায়ার শীতল ছোঁয়া।

রুদ্র—যে একদিন পৃথিবীতে ছিল, আজ শুধুই অজানা, ভয়ংকর, এবং চিরকাল অদৃশ্য।

- সমাপ্ত -



লেখক সংক্ষেপ :
তরুণ লেখিকা নৌশিন আহমেদ রোদেলা সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায়নি। তবে জানতে পারলে তা অবশ্যই কবিয়াল পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হবে।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন