গল্প : ইহাই কাব্য পংক্তি
গল্পকার : সমর চক্রবর্তী
গ্রন্থ : রঙিন স্বপ্নের বাসিন্দারা
প্রকাশকাল : বইমেলা ফেব্রুয়ারি/ ২০০১
রচনাকাল :
কবি ও লেখক সমর চক্রবর্তীর “ইহাই কাব্য পংক্তি” শিরোনামের এই ছোট গল্পটি তার 'রঙিন স্বপ্নের বাসিন্দারা' গল্পগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। এ গল্পটি কবিয়াল পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।
![]() |
| ইহাই কাব্য পংক্তি || সমর চক্রবর্তী |
ইহাই কাব্য পংক্তি || সমর চক্রবর্তী
উঁচু রাস্তাটার উপর উঠে দাঁড়িয়ে চারিদিক ভালো করে দেখে নেয় কায়েস। না, রাস্তায় কোন জন-প্রাণী নেই। শুন্য খাঁ-খাঁ করছে রাস্তাটা। কিছু অন্ধকার খসে চারিদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে হাল্কা হয়ে পড়েছে। এ জন্য অন্ধকার নীরেট না হয়ে কিছু ম্লান হয়ে মিশে গ্যাছে রাত্রির বাতাসের সাথে। পথ চিনতে কোনো কষ্ট নেই।
ঝিঁ ঝিঁ পোকার একটানা সুর রাত্রির একক স্থায়িত্বকে কিছুটা হলেও খন্ড করে দিতে পেরেছে।
আকাশে বেশ দূরত্ব সৃষ্টি করে ছড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু নক্ষত্র। হালকা ম্লান বাতাসে ফুর ফুর করে কায়েসের চুলগুলো উড়ছে। দু'হাতের আঙুল চালিয়ে সেগুলো উপরের দিকে ঠেলে দ্যায় সে। হাত নামাতেই চুলগুলো আবার আছড়ে পড়ে কপালের উপর। সে আর বাঁধা দ্যায় না। বরং সেগুলো বাতাসের তালে পাগলা নাচ নাচতে থাকে আরো। চুলের হালকা আঘাত কপালে স্নিগ্ধ অনুভব না হলেও, মন্দ লাগে না তার।
পশ্চিম দিকের নদীর ঘাট থেকে রাস্তাটা এঁকে-বেঁকে পূব দিকের থানা সদরে গিয়ে পৌছেছে।
রাস্তার দক্ষিণে একটা নদী। ঠিক নদী নয়, নদীর মতো। নাম বারাশিয়া। শোনা যায়, এ এক সময় বড় নদী ছিলো। মধুমতির শাখা নদী। নদীটার যৌবন হারিয়ে গ্যাছে। মৃত্যু প্রতীক্ষয় এ্যাখোন। এ্যাখোন আর নদী নেই এটা, নদীর নাম রক্ষা করে কোনো রকম বেঁচে আছে মাত্র। নদীর পাড় ঘেঁষে সম্প্রতি কিছু বাড়িঘর তৈরী হয়েছে। ওইপারে অন্যগ্রাম।
কায়েস আবারো রাস্তার দুপ্রান্ত দেখে নেয়। উত্তরদিক থেকে উঠে আসা একটা গ্রামীণ পায়ে চলা হালটপথে হেঁটে এ রাস্তায় উঠে এসেছে সে।
রাস্তার অদুরেই নদীটা।
রাস্তায় উঠে দাঁড়াতেই সে কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়ে।
তারপর ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ আকাশের দিকে তাকাতেই একটা শিহরণ খেলে যায় তার সারা শরীর জুড়ে।
অদ্ভুত এক শিহরণ।
যার প্রকাশ নেই কোন কিছুতেই। শিহরণের সাথে সাথে কিছুটা অধীর হয়ে পড়ে কায়েস। চোখ থেকে তার ঝরে পড়ে উচ্ছাস। শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে পুলক। বুক থেকে সমুদ্র। করতল থেকে দুরন্ত কিছু অগ্নিশিখা।
কায়েস এ্যাখোন তেইশ বছরের যুবক।
বয়স অনুপাতে শরীর কাঠামোটা কিঞ্চিত চাপা-শীর্ণ। উজ্জলগৌরবর্ণ, লম্বাটে মুখাকৃতিতে তাকে সু-পুরুষ না দেখালেও পৌরুষে তাঁর আভিজাত্যের প্রকাশ সর্বক্ষণ। সে আর কোনোদিক না তাকিয়ে তার দাড়িয়ে থাকা মাটিকে ক্রমশ পেছনে ফেলে এগিয়ে যায় পুব দিকে। যে দিকে রাস্তাটা মিশে গ্যাছে থানা সদর শহরটায়।
কায়েস প্রায় তিন মিনিট হাঁটার পর একটা জায়গায় এসে তার চলা থামিয়ে দ্যায়। এই জায়গা থেকে থানা সদর প্রায় দুই কিলোমিটার দূরত্বে বজায় রেখেছে।
উঁচু রাস্তা থেকে দক্ষিণ দিকের একটা হালটপথে অতঃপর সে নেমে যায় নিচে। বারাশিয়ার কোল ঘেঁষে এখানে কিছু জীর্ণ খড়ো ঘর, বেশ দূরত্ব রেখে-রেখে কিছু ঘর বাড়ি বিচ্ছিন্ন হয়ে গড়ে তুলেছে পাড়া। প্রায় সব বাড়িগুলোকে ঘিরে রেখেছে কলা আর অতি সম্প্রতি বেড়ে ওঠা কিছু বাঁশ-ঝোঁপ।
কায়েস একটা ঘরের পেছনে এসে দাঁড়ায়।
ঘরটার পিছন অতিক্রম করেই এ বাড়িটার ভেতর ঢুকতে হয়।
চারিদিক আবার ভালো করে দেখে নেয় সে। চাপ চাপ্ অন্ধকারে বাড়িটা তলিয়ে রয়েছে।
কিছুটা বিচলিত হয়ে আবার আকাশের দিকে তাকাতেই অদ্ভুত সেই শিহরণ খেলে যায় তার শরীর জুড়ে।
বেড়ে যায় অধীরতা।
অতঃপর ঘরটা অতিক্রম করে এগিয়ে যায় সামনের দিকে। একটাই মাত্র ঘর। দুদিক ঘিরে রয়েছে কলা, পেঁপে আর বাঁশ-ঝোঁপ।
দক্ষিণের খোলা দিকটা অর্থাৎ বাড়িটার পায়ের নিচেই বয়ে গ্যাছে সেই নদীটা, যার নাম বারাশিয়া।
কায়েস মাথার উপর তাকায়।
তৃতীয়ার চাঁদ কাস্তের মতোই ঝুলে আছে ঈষৎ পশ্চিমে।
একটা ম্লান হাসি ছড়িয়ে পড়ে ঠোঁটে। এ্যাখোন চাঁদের খন্ডাংশকে কাস্তে আর বিশাল আকাশটিকে একটা পড়ো জমি বলে মনে হয় তার।
যতোবারই তার এ কথা মনে হয়, ততবার তার হাসিটা ফুটে ওঠে প্রকট হোয়ে।
অমাবশ্যার আকাশে তাকালে তার প্রায়ই এ্যামন মনে হয়। মনে হয় আকাশটা একটা পতিত জমি। যা এ্যাখোন অব্যবহৃত। অথচ এক সময় জমিটা উর্বর ছিলো, কর্ষনও
হতো। ফুলে ফলে ঝলমল ছিলো। অথচ এ্যাখোন নিস্তরঙ্গ রসিকতার এক মহাপ্লাবন। সে মোসুমটা হয়তো এ্যাখোন নয়। কিন্তু এ্যাখোন শুধু পতিত বলে মনে হয় উলঙ্গ এ আকাশটাকে। আর এই খন্ডাংশ চাঁদ? ওটাকে মনে হয় ব্যাকুলিত এক তৃষ্ণার্ত কাস্তে! যে কর্ষণের আপেক্ষায় কৃষকের দিকেই যুগ যুগ ধরে গভীর ব্যাকুল হয়ে তীব্রতায় জ্বলে আছে। কায়েস এবার চারচালার খড়ো ঘরটার বারান্দায় উঠে পড়ে ধীরে ধীরে। পাশের বাড়ি থেকে একটা কুকুর ডেকে ওঠে। কাছে কোথাও একটা পুরুষ বিড়ালের গম্ভীর ডাক কানে
তীব্র হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণ পরেই পুরুষ এবং মেয়ে কন্ঠের দুটি বিড়ালের চিৎকার-হুঙ্কার শোনা যায়। মনে হয় ঝগড়া করছে দুটোতে।
কায়েস কাঠের দরজায় আঙুল দিয়ে মৃদু আঘাত করে।
কোন সাড়াশব্দ আসে না ভেতর থেকে।
আবারো আঘাত করে সে।
না, এবারো কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যায় না।
তারপর প্রায় দুমিনিট কাল নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকার পর হঠাৎ দরজাটা খুলে যায়।
দরজা-খুলে যেতেই সে ঢুকে যেতে চায় ভেতরে। ভেতর থেকে একটা হাত, দরজায় ঠেকিয়ে বাধা দ্যায়। ফলে কায়েস ভেতরে ঢুকতে পারে না।
ঘরের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে একটা মূর্তি। সে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘর থেকে তার একহাত ধরে মূর্তিটা বেরিয়ে আসে
ঘরের এক কোণে। যে দিকটায় অন্ধকার প্রকট হয়ে বাসা বেঁধেছে।
কায়েস কোন কথা বলে না।
মূর্তিটা কায়েসকে প্রবল আবেগে বাহুবন্ধ করতে গিয়েও থেমে যায়।
অন্ধকার হলেও তার ভেতর থেকে নারী প্রতিকৃতি প্রকাশ পায়।
কায়েসের সেদিকে কোন আগ্রহ প্রকাশ পায় না।
সে এ্যাখোন আকাশ দেখছে। আকাশ।
বিশাল আকাশ। একখন্ড কালো আকাশ।
ধীরে ধীরে আকাশ থেকে চোখ নামিয়ে সোজা নারী মূর্তিটার চোখে চোখ রাখে সে।
তারপর দুহাত প্রসারিত করে গভীর আলিঙ্গনে জড়ায় মূর্তিটাকে।
ঈষৎ উষ্ণ আবেশে কেঁপে ওঠে নারী!
অতঃপর এক ঝাপটায় আলিঙ্গন মুক্ত হয়ে ডুকরে কেঁদে ওঠে উচ্ছল ঝর্ণার মতো নারী প্রতিকৃতিটা।
ঘটনার আকস্মিকতায় কায়েসের বোবা হয়ে যাবার কথা থাকলেও নির্লিপ্ত সে।
তার চোখ দুটো আবারো উঠে যায় আকাশে।
ঈষৎ নরম উষ্ণ হাত-করতলে পড়তেই সবিস্ময়ে তাকায় কায়েস। অন্ধকার হলেও অনুভূতির আলো এতোই প্রকট, সেখানে স্বচ্ছ জোছনার মতোই দুটি নারী পুরুষ নিজেদের দেখে নেয় অনতিবর্তী দূরত্ব থেকে।
কায়েস কোন কথা বলে না।
নারী আবারো কেঁদে ওঠে।
কিন্তু তা প্রকট হোয়ে ওঠে না, বরং চাপা কণ্ঠে মিহিন ক্ষীণ সুরের একটা বেহালার রাগিণী বলে মনে হয়।
সে দু'হাতে নারীর চোখ মুছে দ্যায়।
নারী ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নেয়। তারপর ক্ষীণ স্বরে ডাক দেয় কায়েসকে।
উত্তর দ্যায় কায়েস।
নারী এবার জেগে ওঠে, সম্পূর্ণ জেগে ওঠার আগের দৃশ্যের মতো। আর ঠিক তখোনি মুখোমুখি দাঁড়ায় কায়েসের। অতঃপর ধীরে ধীরে দু'হাত প্রসারিত করে তার দিকে।
কায়েস কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
অবশেষে সে তার পকেট হাতড়ে বের করে দেয় আয়তাকার একখানা খসখসে কাগজ।
অন্ধকার হলেও মুহুর্তে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে কাগজখানা।
দশ টাকার চকচকে উজ্জ্বল নোট।
নোটখানা অতি সন্তর্পনে আচলে বেধে রাখে নারী। (এ-কী গৈরিক আঁচল?)
নারী নিজেকে মেলে ধরে।
কায়েস গভীর আলিঙ্গনে জড়ায় নারীর কপট শরীরের সাথে। (নারী হ্রদে যাওয়ার জন্য?)
সে দুরন্ত ওষ্ঠঘাতে ব্যাকুলিত করে তার ঠোঁট, চিবুক, বুক, সমস্ত মাংসল শরীর।
নারীটি এক এক করে খুলে ফেলে তার সমস্ত অন্তর্বাস। সম্পূর্ণ নগ্ন এক নারী তার সামনে দাঁড়িয়ে।
নারী শরীর স্পর্শে কায়েসের শরীর খরস্রোতা নদীর মতো তরঙ্গায়িত হলেও নারীটি কোনো স্পন্দন অনুভব করে না।
কায়েস পূর্বে এমন দৃশ্য কখনো দ্যাখেনি।
লুকিয়ে লুকিয়ে ভাবীদের স্নানের দৃশ্য সে অনেকবার দেখে শিউরে উঠেছে। মনে মনে অনেককেই কামনা করেছে। অথচ তার সামনের নগ্ন নারীটা এ মুহূর্তে কায়েসকে কোন শিহরণ জাগাতে পারে না। কায়েস নির্লিপ্ত!
অতঃপর কায়েসও সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে যায়।
অসম্ভব ঢেউবতী এক নারীর সামনে দুজনে বাহুবন্ধ হয়। মিশে যায় মাটিতে। যেন পদাবলী বিধ্বস্ততার নগ্ন-মহা উল্লাসে এ মিশে যাওয়া।
চারিদিকে ঝি ঝি পোকারা একটানা ডেকে চলে। ডেকে ওঠে দু'একটা রাস্তার কুকুর।
নদীর জলে কিসের একটা শব্দ ওঠে যেন।
ধীরে ধীরে সকল শব্দেরা স্নান হয়ে যায় এক সময়।
বিদ্ধস্ত দুই নর-নারী সর্বংসহা মাটির বুক থেকে উঠে দাঁড়ায় এবার।
দু'জনেই পরে নেয় বস্ত্র।
কায়েস পুনরায় তাকায় তৃতীয়ার ঢলে পড়া চাঁদের দিকে। অন্ধকার আকাশের দিকে।
ঈষৎ হাসির রেখা ফুটে ওঠে তার ঠোঁটে। ধীর পায়ে সে বেরিয়ে আসতে থাকে বাড়ির বাইরে। হঠাৎ তীব্র এক চিৎকারে থমকে দাঁড়ায় কায়েস। দরজায় মূহুর্মুহু আঘাতের প্রতিধ্বনী, সঙ্গে মিনতিমাখা আর্তিও কানে আসে তার।
সে আকাশে চোখ তুলতে গিয়েও পারে না।
আর্তির সাথে-সাথে একটা গম্ভীর পুরুষালী কণ্ঠ তীব্র স্বরে ঝাঁঝিয়ে ওঠে। নারী কণ্ঠ ক্রমেই ব্যাকুল হয়ে ওঠে। দরোজা খোলার আবেদন জানায়। কিন্তু ভেতর থেকে যে পুরুষ কণ্ঠটির চিৎকার শোনা যায় তার কঠোরতা বেড়ে যায় আরো। দূর্দমনীয় কণ্ঠে চিৎকার করে ওঠে, ভাবছিস পঙ্গু বইলা কিছুই ট্যার পাই না?
তারপর ডুকরে ওঠে কন্ঠ, একপাও কারখানায় নেছে আর তুই সনমান নিলি?
পর মুহূর্তে ঝাঁঝিয়ে ওঠে নারীটিও, সমান, কি হইবো সনমান দিয়া?
মুহুর্তেই সশব্দে খুলে যায় দরোজা।
ক্র্যাচ ভর করে বেরিয়ে আসে একটা পুরুষ। পুরুষটি দু' বগলে ক্র্যাচ ঠেকিয়ে দু'হাত প্রসারিত করে দু'বাহুতে ঝাঁকি দ্যায় নারীটিকে; বাঃ-বাঃ ভালই কইলি মর্জিনা। অথচ, এই তুই-ই একদিন আমার জন্যে ঘর ছাড়ছিলি না?
নারীটি ডুকরে ওঠে, হঃ ভালবাসছিলাম, ভাল বাইসাইতো------
পুরুষ নারীটিকে জাপটে ধরে। একি করলি, একি করলি তুই?
নারীটি কোন কথা বলতে পারে না। নির্লিপ্ত থাকে কিছুক্ষণ।
তারপর আঁচল থেকে ধীরে ধীরে একটু আগের উপার্জিত দশ টাকার নোটখানা পুরুষটির মুখে ছুঁড়ে দ্যায়।
অন্ধকার হলেও পুরুষটি টাকা চিনতে ভুল করে না।
অন্ধকারেও টাকার রং উজ্জ্বল।
দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া নোটখানা পড়ে যায় পুরুষটির শরীর ছুঁয়ে মাটিতে।
পুরুষটি চিৎকার করে ওঠে, মর্জিনা তুই যেদিন ঘর ছাড়ছিলি সেইদিন আমারে তুই কইছিলি না, টাকা পয়সা তুই কিছুই চাসনা আমারে চাস?
নারীটি আকস্মিক বিচলিত হয়ে ওঠে, পেট থাবড়ে বলে, আমি না, আমি না, এই প্যাট, এই খিদা সব নেছে। আমিও তো টাহা চাইনা, ভালবাসা-ভালবাসাইতো চাই---
মুহুর্তে ঘরের ভেতর থেকে একটি শিশু কেঁদে ওঠে।
তারপর কারো মুখে কোনো কথা ফোটে না। অসম্ভব নীরবতা। যেন কিছুই ঘটেনি এখানে। সবকিছু ঠেলে ফেলে দ্রুত পায়ে ঘরে ঢোকে মর্জিনা। যেন এক পাহাড় ডিঙিয়ে পার হয় সে।
অন্ধকার হাতড়ে দেশলাই জ্বালায়। আলোয় ভরে ওঠে ঘরখানা।
অতঃপর কান্নারত শিশুটিকে অবলীলায় বুকে টেনে নেয়।
মুখে গুঁজে দ্যায় স্তন।
পুরুষটি ধীরে ধীরে বিছানার কাছে আসে। দৃশ্যটি অপলক দ্যাখে।
অতঃপর গভীর আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরে মর্জিনার শরীর। মর্জিনার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে অন্য আর এক নারী। গভীর আর্তিতে খ' সে পড়ে সে।
মর্জিনা স্বামীর ক্র্যাচ ফেলে দ্যায়। বাহুবন্ধ হয়। যেন এই প্রথম বাহুবদ্ধতা তাদের।
দশ টাকার নোটখানা পড়ে থাকে অন্ধকারে মুখ থুবড়ে।
কায়েস ধীরে ধীরে বাড়িটি পেছনে ফেলে পশ্চিমের রাস্তা বেয়ে নেমে যায় উত্তরের আল পথে।
তখোন কয়েকটি বাদুড়ের ডানা ঝাপটানির শব্দ কায়েসের কানে আসে।
তার কানে বজ্রের মতো আঘাত করতে থাকে শরীর-প্রেম-ভালোবাসা-ক্ষুধা-দারিদ্র আর গার্হস্থ্য বাগানের অজস্র কাব্য পংক্তি।
আপনার লেখা পাঠাতে আমাদের ইমেইল করুন। ইমেইল ঠিকানা- kobiyal.com@gmail.com
Follow Now Our Google News
সমর চক্রবর্তী’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস
- বঙ্গ নগরীর বাউলাকাশ (0000)
- রঙিন স্বপ্নের বাসিন্দারা (গল্পগ্রন্থ) (২০০১)
- দিগন্তের স্বপ্নারোহী
- আদিম অশ্বের পিঠে (কবিতা)
- নক্ষত্র মরে মরে গ্রহ হয়ে যায়
- বঙ্গীয় সভ্যতার লীলাভূমিঃ ভূষণা নগর রাজ্যের ইতিহাস (গবেষণাধর্মী গ্রন্থ)
- অন্ধকার ডানার মানুষ (কবিতা)
- ছায়াছায়া মুখ (উপন্যাস)
- লবণ সংক্রামক প্রার্থণা (কবিতা)
লেখক সংক্ষেপ:
১৯৭৩ সালের ১৫ মার্চ জন্ম নেয়া কবি সমর চক্রবর্তী দুই বাংলার সাহিত্যাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নাম। বাহ্যিক চাকচিক্য নয়, তিনি পরিচিতি পেয়েছেন তাঁর মৌলিক সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে। নব্বই দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই কবির কাছে সাহিত্যই ধ্যান-জ্ঞান। সাহিত্য সাধনার জন্য তিনি সরকারি চাকরি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদ বারবার ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস—সাহিত্য কোনো সাধারণ কাজ নয়, এটি এক ধরনের সাধনা।সমর চক্রবর্তী সার্বক্ষণিক কবি ও সব্যসাচী লেখক। কবিতা, গল্প থেকে গবেষণাধর্মী ইতিহাস—সাহিত্যের নানা শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ। পাঠক ও সমসাময়িক লেখক—উভয়ের জন্যই তিনি লিখেছেন নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানবিক মূল্যবোধ ও প্রতিবাদী চেতনা তাঁর লেখার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।এ পর্যন্ত তিনি ১২টি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে দিগন্তের স্বপ্নারোহী, আদিম অশ্বের পিঠে, নক্ষত্র মরে মরে গ্রহ হয়ে যায়, রঙিন স্বপ্নের বাসিন্দারা প্রভৃতি। তাঁর গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ভূষণা রাজ্যের ইতিহাস বিশেষভাবে প্রশংসিত।
কবিয়াল
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন