গল্প                 :          অন্যবেলা
গল্পকার           :         সমর চক্রবর্তী
গ্রন্থ                 :         রঙিন স্বপ্নের বাসিন্দারা
প্রকাশকাল      :        বইমেলা ফেব্রুয়ারি/ ২০০১
রচনাকাল        :         

কবি ও লেখক সমর চক্রবর্তীর “অন্যবেলা” শিরোনামের এই ছোট গল্পটি তার 'রঙিন স্বপ্নের বাসিন্দারা' গল্পগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। এ গল্পটি কবিয়াল পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।
অন্যবেলা || সমর চক্রবর্তী
অন্যবেলা || সমর চক্রবর্তী


অন্যবেলা || সমর চক্রবর্তী

বড়ো রাস্তা থেকে সামনে আলপথ ধরে কিছুটা এগোয় ছুরনের মা। আর একটু এগোলেই মোল্যাপাড়া। মোল্যাপাড়া থেকে ডানে বেঁকে গিয়েছে আর একটা কাঁচা রাস্তা, সে রাস্তাটা পার হয়ে জামিল চেয়ারম্যানের বাড়ির কিছুটা দক্ষিণে এগোলেই, একটা ফাঁকা বাড়ি চোখে পড়ে। ওই বাড়িটাই জমিরনের।

জমিরন ছুরতনের মার সঙ্গে কাজ করে। প্রতিদিন ছুরতনের মা সেই সেখপাড়া থেকে ইছাখালী রাস্তায় কাজ করতে যাওয়ার পথে-জমিরনকে ডেকে নিয়ে যায়।
দ্রুত পায়ে হাঁটতে থাকে সে। তারপর তাকায় পূব আকাশের দিকে। তখন সূর্যটা
ক্যাবল শীতের চাঁদর ফুঁড়ে জেগে উঠছে আকাশে। দৃশ্য দেখে মনে হয় নীল কাপড় পরা কোনো শ্যামলী মেয়ের কপালে লাল টিপ পরিয়ে দিয়েছে কেউ। আর মেয়েটির সেই টিপের উজ্জ্বল কিরণ ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে।

আকাশ থেকে চোখ নামিয়ে ছুরতনের মা একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে। তার চলার গতি আরো একটু বেড়ে যায়। বেড়ে যায় চলার সঙ্গে আকাশের দিকে বারবার ফিরে ফিরে তাকানো। ছুরতনের মার শরীর ঘেষে টুং টাং শব্দ করে চলে যায় একটা বাইসাইকেল। আর একটু হলেই হয়তো ছুরতনের মা, তার নিচে চাপা পড়তো। সামনে থেকে একটা গরুর গাড়িও এগিয়ে আসছিলো ক্যাঁচ-ক্যাঁচ শব্দ করে। তাই সাইকেলের শব্দটা তার কানে বাজেনি----। অন্যদিনের চেয়ে আজ একটু বেশিবেলা হয়েছে বলে ছুরতনের মা সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে পথ চলছিলো।

হঠাৎ চলা থামিয়ে জমিরনের বাড়ির সামনের উঁচু রাস্তা থেকে জমিরনকে ডাক দ্যায় ছুরতনের মা। বাড়ির ভেতর থেকে উত্তর না পেয়ে সে আবারো উঁচু গলায় ডাক দ্যায়। বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে ছয়-সাত বছরের একটা রোগা, লিকলিকে সুন্দর শ্যামবর্ণের মেয়ে। পরণে ময়লা একটা লাল রঙয়া কুচি দেয়া প্যান্ট, গায়ে ফ্রকের উপর জড়িয়েছে আধছেঁড়া একখানা গামছা।

শীত ঠেকাবার জন্যই হয়তো গামছা জড়িয়েছে মেয়েটি। মেয়েটিকে দেখে ছুরতনের মা জিজ্ঞেস করে, ফুলু-তোর মায় কি চইলা গেছে?
তোমার দেরী দেইখ্যা মায় কইলো, তোর খালার মনে হয়-আজ মনডা খারাপ আছে, আজ আর কাজে যাইবো না। আমি চইলা যাই। জবাব দেয় মেয়েটি।

আর কোনো কথা না বাড়িয়ে পা চালায় ছুরতনের মা।
চলতে চলতে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে তার শুষ্ক বুভূক্ষ বুক থেকে।
ফুলুর কথাটা তার কানে বার বার প্রতিধ্বনিত হতে থাকে।
মন খারাপ? হ মন খারাপ-ই তো? গত রাতে পোলাডারে পুলিশ না মিলিটারীরা ধইর‍্যা নিয়ে গ্যাছে। দোষ কি ছিল তার পটলের? সে-তো অস্তর-টস্তর কিছু কাছে রাহে না।
খাবার জোডে না আর অস্তর পাইবো কই পটল?
আপন মনে বিড় বিড় করে বলতে থাকে ছুরতনের মা।

সে ভাবে-তার অতীত-ভবিষ্যত। কি না ছিলো তার। স্বামীডা বছর অইল চইলা গ্যাছে। সার আনতে গেছিলো। গুলি খাইয়া সেই যে লুটাইয়া পড়লো মাটিতে আর উঠলো না। ছুরতন তারও পোড়া কপাল বিয়ার বছর দুই পরে- স্বামীডা তালাক দিলো। তার না কি চরিত্রে দোষ আছে। আর অই পটল-ওরে কতোবার বারণ করছি, রাজনীতি-ফিতি আমাগো জন্যে না রে বাজান ও হচ্ছে রাজ-রাজাগের জন্যি! কিন্তু পোলাডা বোঝে না। ও কয়, মা যে দ্যাশে সারের জন্যি কিষক মরে আমার আব্বার জেবন যায়, সেই দ্যাশ তো খালি আমাগের- আমাগোরেই মা-----------------

ছেলের কথা ভাবতে ভাবতে ছল্ ছল্ করে ওঠে ছুরতনের মার চোখ। বয়স তার পঞ্চাশ পেরিয়ে গ্যাছে। বয়সের ভার আর কাজের বোঝা সহ্য হয় না তার।
রাস্তার মাটি কেটে তার সংসার চলে। শোনা যাচ্ছে বয়স্কদের না কি চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।

সবকিছু ছুরতনের মাকে বিমর্ষ করে তোলে। সে ভাবতে পারে না আর। চোখ মুছতে মুছতে হাঁটতে থাকে।
ছুরতনের মা যখন ইছাখালী রাস্তায় এসে পৌছালো তখনো সুর্যটা পূব দিক থেকে হেলে প্রায় কপালের উপর দুলছে। সে কোনো কথা না বলে কাঁখ থেকে ঝুড়ি নামিয়ে এগিয়ে যায় জমিরনের দিকে।
জমিরন আর কালীদাসী মাটি কাটছে। আর ঝুড়িতে সেই মাটি কোহিনুর আর সাজেদা রাস্তায় ঢেলে দিচ্ছে।

ছুরতনের মা এবার তাদের সংগে কাজে যোগ দ্যায়। কাজের অন্ধকারে ডুবে সে ভুলে যায় একটু আগের উছলে পড়া দুঃখ-কষ্ট। জমিরন, কালিদাসী, কোহিনুর, সাজেদা সবাইকে অতি আপন মনে হয় তার।
পরস্পরের আলাপচারিতা আর কাজে বেলা বেড়ে যেতে থাকে।
দূর থেকে হৈ-চৈয়ের শব্দ শুনে জমিরন কোঁদাল থামিয়ে রেখে, কান পাতে সেই দিকে।
কালীদাসী জমিরনকে প্রশ্ন করে, কি শুনতাছিস রে জমরিন, কাজ ফালাইয়া?
জমিরণ একটু মুচকি হেঁসে জবাব দ্যায়, ভাগ্য রে দিদি, ভাগ্যে ফেরণের কথা শুনতাছি।
কোহিনুর আর সাজেদা প্রায় এক সংগে প্রশ্ন করে, ভাগ্য ফেরনের কতা শনতাছুস, সে কিরে?

এ সময় একদল ছেলে-ছোকড়ারা নির্বাচনের শ্লোগান দিতে দিতে তাদেরকে পার করে যায়।
এবার জমিরন স্মিত হেসে জবাব দ্যায়, বুঝলি?
ছুরতনের মা হঠাৎ উত্তেজিত হোয়ে ওঠে। ঠোঁট বিকৃত করে বলে ওঠে, শান্তি পাইবো দ্যাশের লোক? এ আবার গজাইলো কবে থনে?
ছুরতনের মার কথা শেষ না হতেই সবাই এক সঙ্গে হিঃ হিঃ হো-হো-করে হেসে উঠে। তাদের কথা আর হাসির শব্দ শুনে কয়েকটি যুবক ঘাড় বাঁকা করে তাকায়। জমিরন তাদের চোখ থেকে চোখ নামিয়ে আবার কাজে মন দ্যায়। বেলা চলে যায়। কোঁদালঝুড়ি যে যার সরঞ্জাম নিয়ে হাঁটতে থাকে।

মল্লিক পাড়া এসে কোহিনুর আর সাজেদা চলে যায় তাদের বাড়ির দিকে। একটু এগিয়ে হাটখোলার কাছে এসে কালিদাসীও নেমে যায় তার পথে।

সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই করছে আকাশ। যে যার পথে ফিরে গ্যাছে। মসজিদ থেকে ভেসে আসছে আযানের ধ্বনি। শীতের আড়ষ্ট পাখিগুলোর জড়তায় ঢাকছে নিজেদের।
ছুরতনের মা বলে, ওই জমিরন আর একটু পা চালাইয়া চল দেহি, রাইত অইয়া গ্যালো।
হ'বুবু, ফুলুরে একলা রাইখ্যা আইছি তাড়াতাড়ি যাইতে অইবো।- জবাব দ্যায় জমিরন।
দুজনেই দ্রুত হাঁটতে থাকে। হাটুভাংগার মোড় ঘুরে আষাঢ়ী বিলের মাঠ। চারদিক ফাঁকা। নির্জন। কোনো মানুষ-জনের বসতি নেই। শীতের রাত। হয়তো তাই সকাল সকাল কাজ সেরে ফিরে গ্যাছে যে যার ঘরে।

জমিরন হঠাৎ বলে, বুবু, ছুরতনের কথা কিছু ভাবছো? ছুরতনের মা জবাব দ্যায়, না রে ওরতো তোর মতোই পোড়া কপাল!
ছুরতনের মার জবাব শুনে জমিরনের বুকের ভেতরটা খাঁ খাঁ করে ওঠে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটা মুখ। জামিল। হ' জামিল, আজও জমিরন ভোলে নাই তারে। ভালোবাইসে বিয়া করছিলো। বাবা-মা অমত করলেও তারা কোনে কথা শোনেনি সেদিন বিয়ের এক বছরের মাথায় ফুলুরে জন্ম দিয়ে সেই যে কোনে হারায় গ্যালো-আর ফিরা আইলো না।
তারপর বাপ-মা দুজনেই গ্যালো। কোলে আইলো ফুলু।
ভাবতে ভাবতে জমিরনের চোখ ভরে ওঠে। আঁচল দিয়ে চোখ মুছে নেয়-পাছে যদি ছুরতনের মা দেখে ফেলে।

ছুরতনের মা আর জমিরন প্রায় মাঠের মাঝমাঝি এসে পৌঁছেছে। তিনজন লম্বা-চওড়া গোছের ছেলে পাশ কাটিয়ে চলে যায় তাদের। জমিরন পেছন ফিরে-ড্যাব ড্যাব চোখে তাকায়, তারপর ঈষৎ কেঁপে ওঠে। ছেলে তিনটি দাঁড়িয়ে পড়েছে একটি জায়গায়। দাঁড়িয়ে পড়েছে ছুরতনের মা, জমিরনও। হঠাৎ অপেক্ষাকৃত ষন্ডা গোছের ছেলেটি

জমিরনের দিকে এসে চোখে চোখ রেখে বলে, এই তুই সেই ছেখড়ি না, মিছিলের সময় ভেংছি কাটছিলি? জমিরন কোনো কথা বলতে পারে না।
থরথর করে কাঁপতে থাকে। বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে। চোখ দুটো অসম্ভব বড়ো হোয়ে যায়।
ছুরতনের মা জমিরনের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলে, এই ছ্যামড়া চইলা যা, নইলে ডাক ছাড়বানে কলাম।
কথা শেষ হতে না হতেই অদুরে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলে দুটি হো হো করে হেসে ওঠে।
তারপর একজন জমিরনের নিতম্ব স্পর্শ করে বলে, বাঃ ভালোই তো ডাগর ডোগর ছেমড়ি, চলবো রে বাবুল।

এই কথা শোনা মাত্রই জমিরন সুযোগ বুঝে দৌড় দ্যায়। কিন্তু পাশের ছেলেটি হাত বাড়িয়ে ধরে ফেলে জমিরনের একটি হাত। বাধা দিতে চেষ্টা করে ছুরতনের মা। তৃতীয় ছেলেটি ঠেলে ফেলে দ্যায়, ছুরতনের মাকে। পড়ে গিয়ে ছুরতনের মার কপাল ফেটে দর্ দর্ করে রক্তে ভেসে যায়। অতঃপর সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে।
প্রথম ছেলেটি জমিরনকে জোর করে শুইয়ে দ্যায় মাটিতে। জড়িয়ে ধরে জমিরনের শরীর।
জমিরন ছাড়িয়ে নিতে চেষ্টা করে। পারে না। অবশেষে জমিরন এক সময় শান্ত হয়ে যায়। অবশ হোয়ে আসে শরীর। নিস্তেজ হয়ে যায় হাত-পা। তারপর এক, দুই-তিন বলাৎকার করে ওরা চলে যায় হাসির ছল্লোড় ভেঙে।
জমিরন পড়ে থাকে।

পড়ে থাকে সারা রাত।
পুব আকাশের কুহেলিকা ফুঁড়ে যখোন ভোরের আলো পৃথিবীকে আলোকিত করলো। ভোরের পাখিগুলো ডেকে উঠলো চঞ্চল ব্যাকুলতায়, তখোন জমিরনকে ঘিরে অনেক লোকের ভিড়। সেই ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছুরতনের মার কানে শুধু বাজাতে থাকে, শান্তি পাইবো দ্যাশের লোক ----

আপনার লেখা পাঠাতে আমাদের ইমেইল করুন। ইমেইল ঠিকানা- kobiyal.com@gmail.com 


 Follow Now Our Google News

সমর চক্রবর্তী’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস
  • বঙ্গ নগরীর বাউলাকাশ (0000)
  • রঙিন স্বপ্নের বাসিন্দারা (গল্পগ্রন্থ) (২০০১)
  • দিগন্তের স্বপ্নারোহী
  • আদিম অশ্বের পিঠে (কবিতা)
  • নক্ষত্র মরে মরে গ্রহ হয়ে যায়
  • বঙ্গীয় সভ্যতার লীলাভূমিঃ ভূষণা নগর রাজ্যের ইতিহাস (গবেষণাধর্মী গ্রন্থ)
  • অন্ধকার ডানার মানুষ (কবিতা)
  • ছায়াছায়া মুখ (উপন্যাস)
  • লবণ সংক্রামক প্রার্থণা (কবিতা)

লেখক সংক্ষেপ:
১৯৭৩ সালের ১৫ মার্চ জন্ম নেয়া কবি সমর চক্রবর্তী দুই বাংলার সাহিত্যাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নাম। বাহ্যিক চাকচিক্য নয়, তিনি পরিচিতি পেয়েছেন তাঁর মৌলিক সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে। নব্বই দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই কবির কাছে সাহিত্যই ধ্যান-জ্ঞান। সাহিত্য সাধনার জন্য তিনি সরকারি চাকরি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদ বারবার ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস—সাহিত্য কোনো সাধারণ কাজ নয়, এটি এক ধরনের সাধনা।

সমর চক্রবর্তী সার্বক্ষণিক কবি ও সব্যসাচী লেখক। কবিতা, গল্প থেকে গবেষণাধর্মী ইতিহাস—সাহিত্যের নানা শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ। পাঠক ও সমসাময়িক লেখক—উভয়ের জন্যই তিনি লিখেছেন নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানবিক মূল্যবোধ ও প্রতিবাদী চেতনা তাঁর লেখার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

এ পর্যন্ত তিনি ১২টি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে দিগন্তের স্বপ্নারোহী, আদিম অশ্বের পিঠে, নক্ষত্র মরে মরে গ্রহ হয়ে যায়, রঙিন স্বপ্নের বাসিন্দারা প্রভৃতি। তাঁর গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ভূষণা রাজ্যের ইতিহাস বিশেষভাবে প্রশংসিত।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন