কবিতা : থেঁতলানো গর্ভাশয়ের আমি
কবি : তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
গ্রন্থ :
প্রকাশকাল : ২৬ মার্চ, ২০২৬ ইং
রচনাকাল : ২৬ মার্চ, ২০২৬ ইং
কবি তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র লেখা ‘থেঁতলানো গর্ভাশয়ের আমি’ শিরোনামের কবিতাটি তার ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া হয়েছে। কবির অনুমতি সাপেক্ষে এই কবিতাটি কবিয়াল পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।
![]() |
| থেঁতলানো গর্ভাশয়ের আমি || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ |
থেঁতলানো গর্ভাশয়ের আমি || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
তোমায় জন্ম দিতে গিয়ে আমি কোরআনের আয়াতকে বানিয়েছিলাম রক্তের তসবিহ, পুরানের দেবতাদের নাম গিলে ফেলেছিলাম গর্ভের অন্ধকারে দগ্ধ হওয়া ধূপের মতো, বেদের মন্ত্রকে বুকে বেঁধেছিলাম আগুনের বর্মের মতো, আর ত্রিপিটকের নির্বাণকে ছুঁয়ে দেখেছিলাম আমার শিরার ভিতর ছুটে চলা বিদ্যুতের মতো—আমি পৃথিবীর সব মহাকাব্যকে আত্মস্থ করেছিলাম যেন আমার পেটের ভিতর একটি নতুন সূর্য জন্মায়, যেন আমার জরায়ু হয়ে ওঠে সৃষ্টির রাজসিংহাসন; কিন্তু শেষে এসে আমি যা হাতড়ে পেলাম তা কোনো দেবতার আশীর্বাদ নয়, কোনো স্বর্গীয় শ্লোক নয়—শুধু আমার থেঁতলানো গর্ভাশয়, যেন যুদ্ধশেষে পতাকা-ছেঁড়া এক রাজ্য, যেন বজ্রাঘাতে ফাটা এক প্রাচীন মন্দির, যেন রক্তাক্ত ফুলদানির ভিতর পড়ে থাকা ভাঙা চাঁদের টুকরো, আর কিছু বীর্যের সমারোহ—অথচ সেই সমারোহও ছিল ধুলোঝড়ের মতো ক্ষণস্থায়ী, অন্ধকারের মতো নির্লজ্জ, এবং শেষে তার সমস্ত ধোঁয়া-ধ্বংসের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আমি আবিষ্কার করলাম, জন্মের নামে আমি আসলে কোনো শিশুকে পাইনি, আমি পেয়েছি আমাকেই—নিজেরই মাংসের ভিতর খুঁড়ে ওঠা এক অনন্ত নরক, নিজেরই বুকের ভিতর জ্বলে ওঠা এক মহাপ্রলয়ের প্রদীপ, যেখানে ঈশ্বর নেই, শুধু আমি—একটা মা, একটা ক্ষত, আর একটা মহাকাব্যিক শূন্যতা।
আপনার পছন্দের কবিতার নাম কমেন্টে জানান
Follow Now Our Google News
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস
লেখক সংক্ষেপ:
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ। জন্ম ৪ মার্চ ১৯৯৯। শব্দের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক নীরব যাত্রার নাম এই তরুণ কবি। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। সাহিত্য ও সমাজচিন্তার এই দ্বৈত পথচলা তাঁর ভাবনায় তৈরি করেছে আলাদা এক দৃষ্টিভঙ্গি।
লেখালেখি ও বইপড়া তাঁর কাছে শুধু অভ্যাস নয়, এক ধরনের আত্মরক্ষা। একা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন; নিঃসঙ্গতার ভেতরেই তিনি খুঁজে পান ভাষার অন্তরঙ্গতা। একসময় অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জীবনের ভিন্ন মোড় তাকে নিয়ে এসেছে শব্দের মঞ্চে।
অন্যের অহেতুক আলোচনা তাঁর অপছন্দ। হয়তো সেই কারণেই তাঁর লেখায় অপ্রয়োজনীয় কোলাহল নেই; আছে সংযত অনুভব, ব্যক্তিগত স্বর, আর নীরব অথচ দৃঢ় অবস্থান।
কবিয়াল
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন