![]() |
| চাবুকের আঘাত সহ্য করলেই বিয়ে? |
চাবুকের আঘাত সহ্য করলেই বিয়ে?
শিমুল চৌধুরী ধ্রুব: পশ্চিম আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী ফুলানি জনগোষ্ঠী তাদের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি, সামাজিক কাঠামো এবং ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এই জনগোষ্ঠীর কিছু উপগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত একটি প্রথা—‘শারো (Sharo)’—নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই রীতিকে “চাবুকের আঘাত সহ্য করলেই বিয়ে” হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও নৃতাত্ত্বিক গবেষণা বলছে, বাস্তবতা আরও ভিন্ন ও গভীর।
কী এই শারো?
‘শারো’ মূলত একটি সামাজিক পরীক্ষা, যা একজন যুবকের মানসিক দৃঢ়তা, আত্মসংযম এবং সহনশীলতা যাচাইয়ের প্রতীকী মাধ্যম। এই রীতিতে অংশগ্রহণকারী যুবককে জনসম্মুখে চাবুকের আঘাত সহ্য করতে হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সে যেন কোনো ব্যথা বা কষ্টের প্রকাশ না করে।
সমাজে বিশ্বাস করা হয়, যে ব্যক্তি এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, সে ভবিষ্যতে পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে।
বিয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক কতটা?
গবেষকরা বলছেন, শারো কোনোভাবেই সব ক্ষেত্রে বিয়ের বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। বরং—
এটি একটি rite of passage বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সামাজিক স্বীকৃতি
অনেক অঞ্চলে এটি উৎসবের অংশ
কোথাও এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক
তবে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিকে সমাজে অধিক মর্যাদার চোখে দেখা হয়, যা বিয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কীভাবে অনুষ্ঠিত হয় এই রীতি?
শারো সাধারণত উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে থাকে—
ঐতিহ্যবাহী পোশাক
গান ও বাদ্যযন্ত্র
নৃত্য এবং সমবেত অংশগ্রহণ
দুই বা ততোধিক যুবক পালাক্রমে চাবুকের আঘাত গ্রহণ করে। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়।
নারীদের দৃষ্টিভঙ্গি
এই রীতির একটি সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে নারীদের জন্যও। অনেক ক্ষেত্রে এটি সম্ভাব্য বরের—
দায়িত্ববোধ
ধৈর্য
সামাজিক নিয়ম মানার সক্ষমতা
প্রমাণের একটি প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে আধুনিক সময়ে অনেক নারী ও পরিবার এই প্রথার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
পরিবর্তনের ধারা
বর্তমান সময়ে শারো প্রথায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে—
অনেক পরিবার এই প্রথা পরিত্যাগ করছে
কোথাও এটি প্রতীকী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ
শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা কমছে
বিশ্বায়ন, শিক্ষা এবং মানবাধিকার সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে এই পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
বাইরের দৃষ্টিভঙ্গি বনাম স্থানীয় বাস্তবতা
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শারোকে প্রায়ই কঠোর বা অমানবিক হিসেবে দেখা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট সমাজের ভেতরে এটি ঐতিহ্য, সম্মান এবং সামাজিক পরিচয়ের অংশ।
নৃতাত্ত্বিকদের মতে, কোনো সংস্কৃতিকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি।
উপসংহার
ফুলানি সমাজের ‘শারো’ প্রথা দেখায়, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সমাজে পুরুষত্ব, সাহস এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ধারণা কতটা ভিন্ন হতে পারে। যদিও আধুনিকতার প্রভাবে এই রীতিতে পরিবর্তন আসছে, তবুও এটি এখনো অনেক স্থানে ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে টিকে আছে।
কবি শিমুল চৌধুরী ধ্রুব তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'নিষিদ্ধ পাণ্ডুলিপিতে' নিজের পরিচিতি সম্পর্কে লিখেছেন ❝নাম, ধাম, বয়স, জন্ম, সময়-বিবিধের বেড়াজালে আমি কোনোদিন হারাতে চাইনি এবং ভবিষ্যতেও চাইনা। বইয়ের শেষ পৃষ্টা উল্টিয়ে কবি'র পরিচয় পাওয়া কি আদৌ সম্ভব! কবি যুবক নাকি বৃদ্ধ, ধনী নাকি দরিদ্র, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত কিনা, এসব আমার কাছে বরাবরই অপ্রাসঙ্গিক। কবির পরিচয় নিহিত থাকে মূলত তার সন্তানসম কবিতায়।
আমার পরিচয়ের কথা যদি বলতেই হয়, সেক্ষেত্রে আমি অতি সাধারণ এবং নগন্য এক মানুষ। এর বাইরে দেবার মতো পরিচয় আমার নেই।❞
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন