উপন্যাস        :         তপোবনে যখন সন্ধ্যা নামে
লেখিকা        :          নৌশিন আহমেদ রোদেলা
গ্রন্থ             :         
প্রকাশকাল   :         
রচনাকাল     :         

লেখিকা নৌশিন আহমেদ রোদেলার “তপোবনে যখন সন্ধ্যা নামে” শিরোনামের এই ধারাবাহিক উপন্যাসটি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া হয়েছে। ‘কবিয়াল’ পাঠকদের জন্য উপন্যাসটি পর্ব আকারেই প্রকাশিত হবে। লেখিকা অনবদ্য এ উপন্যাসটি তার ফেসবুক পেজে ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে লেখা শুরু করেছেন।
তপোবনে যখন সন্ধ্যা নামে || নৌশিন আহমেদ রোদেলা
তপোবনে যখন সন্ধ্যা নামে || নৌশিন আহমেদ রোদেলা

তপোবনে যখন সন্ধ্যা নামে || নৌশিন আহমেদ রোদেলা (পর্ব - ৪)


রাতের বাকি সময়টুকু আর কেউ ঘুমায়নি।

মিতু বিছানার এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে ছিলো। চোখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। তপুর অবস্থা ভিন্ন—তার চোখে ভয় থাকলেও তার চেয়েও বেশি কিছু আছে… কৌতূহল।

ভোরের আলো ফুটতেই জঙ্গলটা যেন বদলে গেলো।
রাতের সেই ভয়ংকর, অশুভ পরিবেশ কোথায় যেন মিলিয়ে গেছে। পাখির ডাক, হালকা কুয়াশা—সবকিছুই স্বাভাবিক।

কিন্তু তপু জানে—
সবকিছু স্বাভাবিক না।

খাবার টেবিলে নীরবতা।

রুহুল আমিন চা খাচ্ছেন। মিতু চুপচাপ। তপু হঠাৎ বললো,
“বড় মামা, এখানে আগে কোনো অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে?”

রুহুল আমিন ভ্রু কুঁচকালেন।
“কী ধরনের ঘটনা?”

তপু একদম সরাসরি বললো না। একটু ঘুরিয়ে বললো,
“মানে… রাতের বেলা কোনো অদ্ভুত শব্দ, বা… কেউ দেখা যায়—এমন কিছু?”

মিতু দ্রুত তপুর দিকে তাকালো।
“তপু!”

রুহুল আমিন কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
তারপর ধীরে ধীরে কাপটা নামিয়ে বললেন,
“এই জঙ্গলটা… সবসময়ই অদ্ভুত।”

ঘরের ভেতর হালকা ঠান্ডা নেমে এলো।

“আমি এখানে প্রথম আসি ১৯৯৭ সালে। তখন একটা ঘটনা ঘটেছিল…”

তপু আগ্রহে ঝুঁকে পড়লো।
“কী ঘটনা?”

রুহুল আমিন নিচু গলায় বললেন—

“আমাদের টিমের একজন সৈনিক… রাতের বেলা পাহারায় ছিলো।
হঠাৎ করে সে রিপোর্ট করে—সে একটা শিশুর কান্না শুনেছে।”

মিতুর হাত থেমে গেলো।

“আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম কোনো গ্রাম থেকে শব্দ আসছে। কিন্তু…”
তিনি থামলেন।

“পরের দিন সকালে… তাকে পাওয়া যায় জঙ্গলের ভেতর।
একটা গাছের নিচে বসে ছিলো… সম্পূর্ণ নিঃশব্দ।”

তপু গিলে ফেললো লালা।
“তারপর?”

“তার চোখ দুটো ফাঁকা ছিলো।
আর সে শুধু একটা কথাই বলছিলো—”

রুহুল আমিন ধীরে ধীরে উচ্চারণ করলেন—

“ও আমাকে ডাকছে…”

মিতু ফিসফিস করে বললো,
“কে ডাকছে?”

রুহুল আমিন উত্তর দিলেন না।

ঠিক তখনই—

বাহাদুর দৌড়ে ভেতরে ঢুকলো।
মুখ ফ্যাকাশে।

“স্যার… পেছনের জঙ্গলে… কিছু একটা আছে!”

রুহুল আমিন উঠে দাঁড়ালেন।
“কী হয়েছে?”

“মাটিতে… পায়ের দাগ। ছোট্ট বাচ্চার মতো… কিন্তু—”

“কিন্তু কী?”

বাহাদুর কাঁপা গলায় বললো—
“দাগগুলো… উল্টো দিকে।”


(একই সময়—ঢাকা)
রুদ্র জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।

আজ তার চোখে অন্যরকম কিছু।
গত রাতের কথাগুলো মাথায় ঘুরছে।
“তপোবনের জঙ্গল…”
মারিয়া দরজার পাশে দাঁড়িয়ে।

রুদ্র হঠাৎ বললো,
“তুমি কি কখনো কাউকে বাঁচানোর জন্য তার বিরুদ্ধে গিয়েছো?”

মারিয়া কিছুক্ষণ চুপ।
“না।”

“আমি গিয়েছিলাম।”

মারিয়া তাকালো।
“কাকে বাঁচাতে?”

রুদ্র ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ালো।
চোখে অদ্ভুত এক অন্ধকার।

“একটা মেয়েকে…”

“সে কোথায় এখন?”

রুদ্র হেসে উঠলো—একটা ভাঙা, নিষ্ঠুর হাসি।

“মরে গেছে।”

ঘরের বাতাস ভারী হয়ে উঠলো।

“আর জানো কীভাবে?”
রুদ্র ফিসফিস করে বললো—

“ঠিক ওই জঙ্গলে…
যেখানে এখন কেউ আবার গেছে।”

মারিয়ার চোখ সরু হয়ে এলো।
“কে গেছে?”

রুদ্র জানালার বাইরে তাকালো।
“আমি জানি না… কিন্তু ওরা আবার ওকে জাগাবে।”

“ওরা কারা?”

রুদ্র ধীরে ধীরে বললো—

“যারা মরেও থাকে না…”


(তপোবন—জঙ্গল)
তপু, মিতু আর রুহুল আমিন দাঁড়িয়ে আছে।
মাটিতে স্পষ্ট পায়ের ছাপ।
ছোট্ট… বাচ্চার মতো।

কিন্তু—

পায়ের আঙুলগুলো উল্টো দিকে।

তপু নিচু হয়ে দাগগুলো দেখছে।
মাথা কাজ করছে দ্রুত।

“এটা কোনো নরমাল জিনিস না…” — ফিসফিস করলো সে।

হঠাৎ—

দাগগুলো যেখানে শেষ হয়েছে, ঠিক সেখানে একটা জিনিস পড়ে আছে।

একটা পুরনো… মরচে ধরা ঘুঙুর।

মিতু কেঁপে উঠলো।
“তপু… এটা ছুঁয়ো না!”

কিন্তু তপু হাত বাড়ালো।

ঘুঙুরটা হাতে নেওয়ার সাথে সাথেই—

তার চোখের সামনে সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেলো।

(তপুর দৃষ্টি)

সে দাঁড়িয়ে আছে অন্য এক জগতে।

চারপাশে আগুন…
চিৎকার…
রক্ত…

একটা ছোট্ট মেয়ে দৌড়াচ্ছে।
পেছনে কয়েকজন মানুষ।

মেয়েটা কাঁদছে—
“বাঁচাও!”

হঠাৎ—

একজন লোক তাকে ধরে ফেললো।

তপুর বুক ধড়ফড় করতে লাগলো।

লোকটার মুখ ধীরে ধীরে স্পষ্ট হলো—

আর তপু জমে গেলো।

কারণ—

লোকটা দেখতে একদম রুদ্রর মতো।

তপু চিৎকার করে উঠলো—
“না!”

চোখ খুলতেই সে আবার জঙ্গলে।

হাঁপাচ্ছে।

মিতু তার কাঁধ ঝাঁকাচ্ছে,
“তপু! কী হয়েছে?”

তপু কাঁপা গলায় বললো—
“…ওটা শুধু কোনো ভূত না।”

রুহুল আমিন গম্ভীর চোখে তাকালেন।
“তুমি কী দেখেছো?”

তপু ধীরে ধীরে বললো—

“ওটা… একটা হত্যা।
আর… ওই লোকটা…”

সে থেমে গেলো।

মিতু উৎকণ্ঠিত,
“কোন লোক?”

তপু ফিসফিস করে বললো—

“রুদ্র ভাইয়ার মতো দেখতে…”

চলবে ...

৫ম পর্ব পড়তে এখানে ট্যাপ/ক্লিক করুন


লেখক সংক্ষেপ :
তরুণ লেখিকা নৌশিন আহমেদ রোদেলা সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায়নি। তবে জানতে পারলে তা অবশ্যই কবিয়াল পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হবে।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন