কবিতা          :         অ্যাস্ট্রাল হার্বেরিয়ামের ধূসর-সুবাস তত্ত্ব
কবি              :         তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
গ্রন্থ               :         
প্রকাশকাল   :         ২৯ মার্চ, ২০২৬ ইং
রচনাকাল     :         ২৯ মার্চ, ২০২৬ ইং

কবি তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র লেখা ‘অ্যাস্ট্রাল হার্বেরিয়ামের ধূসর-সুবাস তত্ত্ব’ শিরোনামের কবিতাটি তার ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া হয়েছে। কবির অনুমতি সাপেক্ষে এই কবিতাটি কবিয়াল পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।
অ্যাস্ট্রাল হার্বেরিয়ামের ধূসর-সুবাস তত্ত্ব || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
অ্যাস্ট্রাল হার্বেরিয়ামের ধূসর-সুবাস তত্ত্ব || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ


অ্যাস্ট্রাল হার্বেরিয়ামের ধূসর-সুবাস তত্ত্ব || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ


শেষমেশ আমি জীবনের কাছ থেকে একটা জীবন জিতে এসেছি—যেন মৃত্যুর দাঁতভাঙা অন্ধকারের ভেতর থেকে আমি ছিনিয়ে এনেছি একখানা নরম আলো, আর সেই আলো ছিল আমার বকুল ফুল; ট্রেনিং সেন্টারের লম্বা ঘোড়ার আস্তাবলে বাঁধা সবচেয়ে সুদর্শন বকুল—যার চোখে ছিল শেকলের ভিতরেও মুক্তির উজ্জ্বলতা, যার নিঃশ্বাসে ছিল মাটির গন্ধ মেশানো আশ্বাস, যার উপস্থিতি ছিল ঠিক তপ্ত দুপুরে মাথার ওপর রাখা একটুখানি ছায়ার মতো; আমার জীবনের এক তৃতীয়াংশ ভালো থাকা কোনো সাধারণ সুখ নয়—সে ছিল দুঃখের বুকের ওপর স্থাপন করা একখানা নীরব মসজিদ, যেখানে প্রতিদিন আমি ভাঙা মন নিয়ে সেজদা দিয়েছি, আর বকুল ফুল আমার জন্য দান করেছে নিঃশ্বাসের দুধ, আশ্রয়ের জল, আর স্থিরতার সাদা আগুন; তারপর যখন সেই বকুল শুকিয়ে গেল—আমি তাকে হারাইনি, আমি আমার লম্বা চুলের অলক্ষ্য অলিন্দে তার সুবাস গেঁথে নিলাম, যেন মাথার ভিতর একখানা গোপন বাগান খুলে রাখলাম, যেখানে প্রতিটি চুলের ফাঁকে ফাঁকে ঝুলে থাকে তার ধূসর স্মৃতির মঞ্জরি, যেন আমার অস্তিত্বের সমস্ত ক্লান্তি একখানা সুগন্ধি শোক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে; ভালো থেকো বকুল, মিষ্টি বকুল—তুমি আমাকে শিখিয়ে গেলে, কিছু ভালোবাসা ফুল হয়ে ফোটে না, তারা মানুষকে কূলে ঠেকিয়ে দেয়, আর চলে যাওয়ার সময় রেখে যায় চিরস্থায়ী একখানা ঘ্রাণ-প্রতিমা, যা জীবনের সবচেয়ে ধূসর সময়টুকুকে পর্যন্ত পবিত্র করে দেয়।


আপনার পছন্দের কবিতার নাম কমেন্টে জানান 


 Follow Now Our Google News

তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস




লেখক সংক্ষেপ:
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ। জন্ম ৪ মার্চ ১৯৯৯। শব্দের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক নীরব যাত্রার নাম এই তরুণ কবি। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। সাহিত্য ও সমাজচিন্তার এই দ্বৈত পথচলা তাঁর ভাবনায় তৈরি করেছে আলাদা এক দৃষ্টিভঙ্গি।
লেখালেখি ও বইপড়া তাঁর কাছে শুধু অভ্যাস নয়, এক ধরনের আত্মরক্ষা। একা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন; নিঃসঙ্গতার ভেতরেই তিনি খুঁজে পান ভাষার অন্তরঙ্গতা। একসময় অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জীবনের ভিন্ন মোড় তাকে নিয়ে এসেছে শব্দের মঞ্চে।
অন্যের অহেতুক আলোচনা তাঁর অপছন্দ। হয়তো সেই কারণেই তাঁর লেখায় অপ্রয়োজনীয় কোলাহল নেই; আছে সংযত অনুভব, ব্যক্তিগত স্বর, আর নীরব অথচ দৃঢ় অবস্থান।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন