কবিতা          :         ভুল জন্মের মরুদাহন
কবি              :         তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
গ্রন্থ               :         
প্রকাশকাল   :         
রচনাকাল     :         ২০ মার্চ, ২০২৬ ইং

কবি তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র লেখা ‘ভুল জন্মের মরুদাহন’ শিরোনামের কবিতাটি তার ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া হয়েছে। কবির অনুমতি সাপেক্ষে এই কবিতাটি কবিয়াল পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।
 
ভুল জন্মের মরুদাহন || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
ভুল জন্মের মরুদাহন || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ


ভুল জন্মের মরুদাহন || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ


এই যে দগ্ধ মরুভূমির মতো বুকে বহন করা অনন্ত পিপাসা—
তারও একদিন নিশ্চয়ই কোনো শেষ থাকে,
কিন্তু সেই শেষেরও যেন আরেকটা অনাথ প্রান্ত আছে,
যেখানে দাঁড়িয়ে থাকে নিঃশেষ হওয়ারও অক্ষমতা।
আমি হেঁটে গেছি জাপটানো আলোর ভেতর দিয়ে—
যেন সূর্যের অতিরিক্ত স্নেহে পুড়ে যাওয়া কোনো ভ্রূণ,
যার চোখে আলো ঢোকার আগেই দৃষ্টি ভেঙে যায় কাঁচের মতো।
তখনই শিখেছি—
আলোকে পাশ কাটিয়ে যেতে যেতে
অন্ধকারকে আঁকড়ে ধরা যায় কেমন করে—
যেমন মৃত নদী আঁকড়ে ধরে শুকিয়ে যাওয়া মাছের শেষ নড়াচড়া।
অমাবস্যা তখন আমার শিরায় শিরায় ঢুকে পড়ে—
একটা চুপচাপ বিষের মতো,
যা আলোর ভাষা ভুলিয়ে দেয়,
আর আমাকে শেখায়—
নিজের ছায়াকেও কীভাবে ধীরে ধীরে হত্যা করতে হয়।
আমি বুঝতেই পারিনি—
কখন আমার ছায়া আমার চেয়েও বেশি অন্ধকার হয়ে উঠলো,
কখন সে আমার শরীর ছেড়ে
নিজেরই এক অচেনা গহ্বরে ডুবে গেলো—
যেন জন্মের আগেই মৃত কোনো সন্তানের মতো
মায়ের গর্ভেই নিজেকে সমাধিস্থ করে ফেলে।
তার আগেই—
হ্যাঁ, ঠিক তার আগেই—
আমি হাড়ের ভেতর একটা ভাঙা সত্য টের পেয়েছিলাম:
আমি ভুল জন্মের মানুষ।
আমার জন্ম যেন কোনো ক্যালেন্ডারের ভুল তারিখে,
কোনো ঈশ্বরের ক্লান্ত হাতের অসাবধান ছাপ,
অথবা সৃষ্টির খাতায় জমে থাকা এক ফেলে দেওয়া খসড়া—
যাকে কখনোই চূড়ান্ত করা হয়নি।
ঠিক তখনই
দূরে কোথাও শকুনেরা ঘুরছিলো—
তাদের চোখে ছিলো না কোনো দুঃখ,
শুধু নিশ্চিত এক জ্ঞান—
হাড়ের গন্ধ কখনো ভুল হয় না।
তারা যেমন টের পায়—
এই শুকনো অস্থি একদিন ছিলো রক্তমাংসের উষ্ণ ইতিহাস,
তেমনি আমিও টের পাই—
আমার এই জীবিত শরীর আসলে
একটা বিলম্বিত মৃতদেহ,
যার ভেতর এখনো শব্দ করে ভাঙছে
অপরিণত থাকার সমস্ত সম্ভাবনা।
এভাবেই আমি বেঁচে আছি—
মরুভূমির মতো নিজেকে বহন করে,
অন্ধকারের মতো নিজেকে লুকিয়ে,
আর শকুনের চোখে নিজের ভবিষ্যৎ দেখে—
ধীরে ধীরে, অত্যন্ত নীরবে,
একটি ভুল জন্মের দীর্ঘ আত্মসমর্পণে।


আপনার পছন্দের কবিতার নাম কমেন্টে জানান 


 Follow Now Our Google News

তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস




লেখক সংক্ষেপ:
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ। জন্ম ৪ মার্চ ১৯৯৯। শব্দের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক নীরব যাত্রার নাম এই তরুণ কবি। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। সাহিত্য ও সমাজচিন্তার এই দ্বৈত পথচলা তাঁর ভাবনায় তৈরি করেছে আলাদা এক দৃষ্টিভঙ্গি।
লেখালেখি ও বইপড়া তাঁর কাছে শুধু অভ্যাস নয়, এক ধরনের আত্মরক্ষা। একা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন; নিঃসঙ্গতার ভেতরেই তিনি খুঁজে পান ভাষার অন্তরঙ্গতা। একসময় অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জীবনের ভিন্ন মোড় তাকে নিয়ে এসেছে শব্দের মঞ্চে।
অন্যের অহেতুক আলোচনা তাঁর অপছন্দ। হয়তো সেই কারণেই তাঁর লেখায় অপ্রয়োজনীয় কোলাহল নেই; আছে সংযত অনুভব, ব্যক্তিগত স্বর, আর নীরব অথচ দৃঢ় অবস্থান।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন