কবিতা          :         শিমুল-যোনীর লাল আগুনে কামের সন্ন্যাস-সূত্র
কবি              :         তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
গ্রন্থ               :         
প্রকাশকাল   :         ৩০ মার্চ, ২০২৬ ইং
রচনাকাল     :         ৩০ মার্চ, ২০২৬ ইং

কবি তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র লেখা ‘শিমুল-যোনীর লাল আগুনে কামের সন্ন্যাস-সূত্র’ শিরোনামের কবিতাটি তার ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া হয়েছে। কবির অনুমতি সাপেক্ষে এই কবিতাটি কবিয়াল পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।

শিমুল-যোনীর লাল আগুনে কামের সন্ন্যাস-সূত্র || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
শিমুল-যোনীর লাল আগুনে কামের সন্ন্যাস-সূত্র || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ


শিমুল-যোনীর লাল আগুনে কামের সন্ন্যাস-সূত্র || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ


রতি-কেলীতে জন্ম দেওয়া আমার কামদেব—তুমি শুধু প্রেমিক নও, তুমি আমার শরীরের ভিতরে গোপনে পুঁতে রাখা এক নিষিদ্ধ ঋতু; তোমার নিঃশ্বাস যেন কানের পাশে ফিসফিস করে ওঠা বারুদের সলতে, তোমার চোখ যেন গভীর রাতের বুক চিরে জ্বলে ওঠা দুটো রক্তিম প্রদীপ, তোমার স্পর্শে আমার রক্ত কাঁপে এমনভাবে—যেন শিরার ভেতর দিয়ে রক্ত নয়, ফুটন্ত লাভা গড়িয়ে চলে, যেন আমার বুকের মধ্যে আটকে থাকা কোনো পাখি নয়—একটা যুদ্ধক্ষুধার্ত সিংহ দাঁত বের করে হুংকার দেয়। তোমার জন্য আমিও না হয় শত জনমের কামদেবী হলাম—আমি সেই নারী, যে প্রেমকে ফুলদানি করে রাখে না, প্রেমকে বুকের ভেতর বিষাক্ত মধুর মতো জমিয়ে রাখে; তুমি কাছে এলে আমার শরীর যেন বন্ধ দরজার তালা ভেঙে খোলা কোনো মন্দির, আর আমি বুঝে ফেলি—পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর সত্য হলো আকাঙ্ক্ষা। তুমি যেন কামনায় পাগল কোনো শিমুলগাছ—যার প্রতিটি লাল ফুল রক্তাক্ত জিভের মতো বেরিয়ে আসে, যেন বসন্তের গোপন ক্ষত; সেই ফুলের ভেতর দিয়ে তুমি নির্গত করো তপ্ত বীজ, আর আমি তা গ্রহণ করি এমনভাবে যেন আমি শুধু নারী নই—আমি সৃষ্টির কালো মাটি, যেখানে আগুন পড়লেও ফসল জন্মায়। তোমার শরীর আমার কাছে এক অদৃশ্য তীর্থ—যেখানে পাপ ধুয়ে যায় না, বরং পাপই পবিত্রতার নতুন ভাষা হয়ে ওঠে; তুমি আমাকে ছুঁলেই আমি মানুষ থাকি না—আমি হয়ে যাই জোয়ারের উন্মত্ত ঢেউ, আমি হয়ে যাই মরুভূমির তৃষ্ণার্ত ঝড়, আমি হয়ে যাই কোনো দেবীর নিষিদ্ধ আরাধনা। আমার ভেতর তখন শুধু কাম থাকে না—থাকে জন্ম দেওয়ার হিংস্র বাসনা, যেন তোমার একটুখানি ছোঁয়াতেই আমি আবার পৃথিবীতে এসে পড়ি, আবার মৃত্যুতে গলে যাই, আবার নতুন করে আগুন হয়ে উঠি। আর এত দাহের পরও আমি বলি—আমি সন্ন্যাসী হবো; কিন্তু সে সন্ন্যাস পালানোর নয়, সে সন্ন্যাস তোমার বুকের ওপর বসে থাকার, সে সন্ন্যাস কামের ভেতর ডুবে থেকে নিজেকে শুদ্ধ করার, যেখানে ত্যাগ মানে দূরে সরে যাওয়া নয়—ত্যাগ মানে আরও গভীরে পুড়ে যাওয়া; যেখানে শরীরই আমার মসজিদ-গির্জা-মন্দির, আর তোমার নামই আমার শেষ তসবিহ। তুমি আমাকে কাম দাও—আমি তোমাকে উপাসনা বানাই, তুমি আমাকে আগুন দাও—আমি সেই আগুনকে শপথ বানাই, তুমি আমাকে ভাঙো—আমি সেই ভাঙা টুকরো দিয়েই তোমার জন্য নতুন করে নিজের ভিতর একটা গর্ভ নির্মাণ করি; কারণ তুমি আমার প্রেমিক নও—তুমি আমার অভিশপ্ত নিয়তি, আমার রক্তমাখা বসন্ত, আমার দহন-সাম্রাজ্য, আর আমি তোমার কামের পথের শেষ সাধিকা—যে প্রেমকে লজ্জা বলে না, পাপ বলে না, শুধু বলে—অমর তৃষ্ণা।


আপনার কবিতা পাঠান - kobiyal.com@gmail.com 


 Follow Now Our Google News

তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস




লেখক সংক্ষেপ:
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ। জন্ম ৪ মার্চ ১৯৯৯। শব্দের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক নীরব যাত্রার নাম এই তরুণ কবি। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। সাহিত্য ও সমাজচিন্তার এই দ্বৈত পথচলা তাঁর ভাবনায় তৈরি করেছে আলাদা এক দৃষ্টিভঙ্গি।
লেখালেখি ও বইপড়া তাঁর কাছে শুধু অভ্যাস নয়, এক ধরনের আত্মরক্ষা। একা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন; নিঃসঙ্গতার ভেতরেই তিনি খুঁজে পান ভাষার অন্তরঙ্গতা। একসময় অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জীবনের ভিন্ন মোড় তাকে নিয়ে এসেছে শব্দের মঞ্চে।
অন্যের অহেতুক আলোচনা তাঁর অপছন্দ। হয়তো সেই কারণেই তাঁর লেখায় অপ্রয়োজনীয় কোলাহল নেই; আছে সংযত অনুভব, ব্যক্তিগত স্বর, আর নীরব অথচ দৃঢ় অবস্থান।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন