কবিতা : ছায়া-সমাধি
কবি : তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
গ্রন্থ :
প্রকাশকাল : ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
রচনাকাল : ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
ছায়া-সমাধি || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
সেই শহরটার কথা মনে আছে—
যে শহর আমার হাঁটার ভঙ্গি চিনে রেখেছিল,
আমার ছায়ার দৈর্ঘ্য মেপে রেখেছিল দুপুরের রোদে।
সেখানে এক জোড়া হাত ছিল।
শুধু হাত না—সেই হাতের আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে
আমার নিঃশ্বাস জমা ছিল,
আমার না-বলা কথাগুলো বসে থাকত
পাখির মতো, নিরুপদ্রবে।
ভেবেছিলাম—এই হাত আমার।
কী আজব বিশ্বাস।
মানুষ হাতকে নিজের ভাবে,
আর হাত তখন নিজের পথ খুঁজে নেয় নিঃশব্দে।
খবরটা এলো হুটহাট—
যেভাবে বৃষ্টি আসে রোদের বুকে ছুরি মেরে।
সে হাত নাকি এখন অন্য এক জোড়া হাতের মুঠোয়,
অন্য কোনো আঙুলের উষ্ণতা গুনছে সে,
অন্য কারো নখের আঁচড় তার হাতের রেখায়
নতুন ভবিষ্যৎ লিখে দিচ্ছে প্রতিদিন।
আর আমি?
আমার ছায়া তখন একা একা হেঁটে গেল সেই শহরে—
শরীর ছাড়া, উদ্দেশ্য ছাড়া, শুধু অভ্যাসবশত।
মোড়ের মাথায় আরেকটা ছায়া দাঁড়িয়ে।
দুটো ছায়া মুখোমুখি হলো—
কোনো কথা নেই,
কোনো অভিযোগ নেই,
শুধু দুটো অন্ধকারের নীরব চেনাচেনি।
ছায়ারা জানে—
যা হারায়, তা হারায় আলোর দিক থেকেই।
তারপর কে একজন এলো।
থেঁতলে যাওয়া শিউলি কুড়িয়ে এনেছে সে—
সেই ফুল, যেগুলো রাতভর ঝরেছে,
ভোরে পায়ের তলায় পিষে গেছে,
তবু গন্ধ ছাড়েনি—একটুও না।
একটা একটা করে গেঁথে
একখানা মালা।
সমাধির ওপর রেখে গেল চুপচাপ।
কার সমাধি?
কোনো মানুষের না—
একটা বিশ্বাসের,
একটা ‘ভেবেছিলাম’-এর,
একটা “এই হাত আমার”—এই নিখাদ ভুলের।
ও শহরে এখন ছায়া নামে সন্ধ্যায়।
কোলাহল পেরিয়ে, রিকশার ঘণ্টা পেরিয়ে,
মানুষের হাসি পেরিয়ে—
একটা ছায়া একা হাঁটে।
শহর চেনে তাকে।
শহর কিছু বলে না।
শহর শুধু তার ছায়াটুকু
মাটিতে ধরে রাখে—
যত্ন করে,
নিঃশব্দে,
চিরকালের মতো।
আপনার কবিতা পাঠান - kobiyal.com@gmail.com
Follow Now Our Google News
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস
লেখক সংক্ষেপ:
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ। জন্ম ৪ মার্চ ১৯৯৯। শব্দের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক নীরব যাত্রার নাম এই তরুণ কবি। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। সাহিত্য ও সমাজচিন্তার এই দ্বৈত পথচলা তাঁর ভাবনায় তৈরি করেছে আলাদা এক দৃষ্টিভঙ্গি।
লেখালেখি ও বইপড়া তাঁর কাছে শুধু অভ্যাস নয়, এক ধরনের আত্মরক্ষা। একা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন; নিঃসঙ্গতার ভেতরেই তিনি খুঁজে পান ভাষার অন্তরঙ্গতা। একসময় অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জীবনের ভিন্ন মোড় তাকে নিয়ে এসেছে শব্দের মঞ্চে।
অন্যের অহেতুক আলোচনা তাঁর অপছন্দ। হয়তো সেই কারণেই তাঁর লেখায় অপ্রয়োজনীয় কোলাহল নেই; আছে সংযত অনুভব, ব্যক্তিগত স্বর, আর নীরব অথচ দৃঢ় অবস্থান।
কবিয়াল
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন