কবিতা          :         বিদ্ধ মলাট ও কর্দমাক্ত আবর্তন
কবি              :         তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
গ্রন্থ               :         
প্রকাশকাল   :         ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
রচনাকাল     :         ২ এপ্রিল, ২০২৬ ইং

কবি তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র লেখা ‘বিদ্ধ মলাট ও কর্দমাক্ত আবর্তন’ শিরোনামের কবিতাটি তার ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া হয়েছে। কবির অনুমতি সাপেক্ষে এই কবিতাটি কবিয়াল পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।

বিদ্ধ মলাট ও কর্দমাক্ত আবর্তন || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
বিদ্ধ মলাট ও কর্দমাক্ত আবর্তন || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ

বিদ্ধ মলাট ও কর্দমাক্ত আবর্তন || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ


আমাদের সেই কর্দমাক্ত প্রেতকাল আজ এক গলিত মৎস্যের ন্যায়; নব্য সময়ের স্রোততলে সে স্ফীত উদর নিয়ে নির্লজ্জ ভেসে ওঠে। বিস্মৃতির চরে আমরা একদিন কতই না লালসায় সেই জলজের উদর বিদীর্ণ করেছি, চর্বণ করেছি তার রক্তাক্ত আঁশ! সেই হিংস্র ঘ্রাণ আজও আমাদের সত্তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে এক অমোচনীয় দুর্গন্ধ হয়ে লেপ্টে আছে।

​এখন নবজাত সলিলে অবগাহন করতে গেলেও ভীতি জাগে— সামান্য শৈবালদামেও বিভ্রম হয়, এ কি তবে সেই ঘাতক মৎস্যের পুনরাগমন? আমাদের এই বর্তমান আসলে এক বিষাদময় চিহ্নতাত্ত্বিক গোলকধাঁধা। সেখানে অজস্র বিস্ময়চিহ্ন স্তম্ভের মতো দাঁড়িয়ে, আর বক্র প্রশ্নবোধকগুলো বড়শির কাঁটা হয়ে বিঁধে আছে আমাদের মজ্জায়।

​আমরা দম্ভভরে এই পঙ্কিল ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে নির্বাসনে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন নিয়তির বর্শা আমাদের পাঁজরের এপার-ওপার করে দিল, তখন উপলব্ধি হলো— আমরা আসলে ধাবমান নই, বরং আষ্টেপৃষ্ঠে আবদ্ধ সেই অতীতের জঠরেই। এই কট্টর কাল এক নিষ্ঠুর শিকারি; সে আমাদের স্বতন্ত্র হতে দেয়নি। বরং একই মরণ-শলাকায় সে আমাদের দুই জনকেই গ্রথিত করেছে এক অচ্ছেদ্য যন্ত্রণার সমান্তরালে।

​আমরা এখন সেই একই বর্শার মুখে বিদ্ধ দুটি ছটফটানো প্রাণ, যাদের মুক্তি কেবল সেই কর্দমাক্ত অতীতের অন্ধকারেই বিলীন হওয়া!


আপনার কবিতা পাঠান - kobiyal.com@gmail.com 


 Follow Now Our Google News

তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস




লেখক সংক্ষেপ:
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ। জন্ম ৪ মার্চ ১৯৯৯। শব্দের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক নীরব যাত্রার নাম এই তরুণ কবি। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। সাহিত্য ও সমাজচিন্তার এই দ্বৈত পথচলা তাঁর ভাবনায় তৈরি করেছে আলাদা এক দৃষ্টিভঙ্গি।
লেখালেখি ও বইপড়া তাঁর কাছে শুধু অভ্যাস নয়, এক ধরনের আত্মরক্ষা। একা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন; নিঃসঙ্গতার ভেতরেই তিনি খুঁজে পান ভাষার অন্তরঙ্গতা। একসময় অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জীবনের ভিন্ন মোড় তাকে নিয়ে এসেছে শব্দের মঞ্চে।
অন্যের অহেতুক আলোচনা তাঁর অপছন্দ। হয়তো সেই কারণেই তাঁর লেখায় অপ্রয়োজনীয় কোলাহল নেই; আছে সংযত অনুভব, ব্যক্তিগত স্বর, আর নীরব অথচ দৃঢ় অবস্থান।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন