নারীর কথা: এই গল্পটা সুমির
নারীর কথা: এই গল্পটা সুমির

পরিবারের সহযোগিতা থাকলে গোটা বিশ্ব জয় করা সম্ভব: সুমি


খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। সেদিন লক্ষ্মীবাজারের মতো জায়গায় গিয়ে দেখলাম, একজন নারী ফুডকোর্টে খাবার বিক্রি করছেন। এই দৃশ্য দেখে বেশ কৌতূহল নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলাম।

যার কথা বলছি, তাঁর নাম সুমি। এইচএসসি পরীক্ষার পর সুমির বিয়ে হয় একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে। পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলিতে তাঁর শ্বশুরবাড়ি। বিয়ের পর সংসারের কথা চিন্তা করে পড়াশোনা ছেড়ে দেন সুমি। বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি দুই সন্তানের মা হন। শুরুর দিকে তাঁর সংসার ছিল সুখের। কিন্তু দিন যত গড়াতে থাকে, সংসারের খরচও বাড়তে থাকে।

একদিকে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ, অন্যদিকে সংসারের খরচ তাঁর স্বামীর পক্ষে বহন করা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। স্বামীর কষ্ট দেখে সুমি মনে মনে কাজ করার কথা ভাবেন। কিন্তু চাকরি করে সংসার সামলানো কষ্টসাধ্য হবে, তাই চিন্তা-ভাবনা করে ঠিক করলেন অনলাইন ব্যবসা করবেন।

সুমি ভালো রান্না করেন। এ কথা ভেবে সুমি ২০১৯ সালে অনলাইনে রান্নার ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু অনলাইনে তেমন আয় না হওয়ায় আশাহত হয়ে ব্যবসাটা ছেড়ে দেন। এমন পরিস্থিতিতে স্বামী বাইরে খাবারের দোকানের বিষয়ে সুমিকে অনুপ্রাণিত করেন।

এরপর ২০২৪ সালে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে সুমি একটি ফুডকোর্ট চালু করেন। বর্তমানে এই ফুডকোর্ট থেকে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি আয় হচ্ছে।

লক্ষ্মীবাজারের মতো কোলাহলপূর্ণ জায়গায় একা খাবার দোকান পরিচালনা করা খুব একটা সহজ না। কখনো কী কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন? এ প্রসঙ্গে সুমি বলেন, ‘কোনো কাজে যদি পরিবারের সহযোগিতা থাকে, তাহলে গোটা বিশ্ব জয় করা সম্ভব।’

কবিয়াল

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন