কবিতা : অবাস্তবতার নীল ইশতেহার
কবি : তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
গ্রন্থ :
প্রকাশকাল : ২ জুন, ২০২৬ ইং
রচনাকাল : ২ জুন, ২০২৬ ইং
![]() |
| অবাস্তবতার নীল ইশতেহার || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ |
অবাস্তবতার নীল ইশতেহার || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
যেমন করে বোবা জুতোরা কথা বলে ওঠে মাঝরাতে।
বিরহের ব্যথাটা হোক কাঁচা পাতার মতো কোমল-সবুজ,
অথচ তার ভেতরে লুকিয়ে থাক কোনো প্রাচীন কামানের গর্জন।
আমরা ব্যথাকে চিনি, যেমন করে অন্ধ লোকটা চেনে আলোর রেখা,
না চিনে উপায় কী বলো, যখন ছায়ারাও শরীর ছেড়ে পালিয়ে যায়?
বুদ্ধি দিয়ে নয়, আমরা তাকে ছুঁয়ে দেব—
যেমন করে এক ফোঁটা জল ছুঁয়ে ফেলে জ্বলন্ত কয়লার বুক।
বিরহ সহজ হোক, ঠিক একটা শিশুর অবুঝ প্রশ্নের মতো—
"আকাশের পিঠে কেন কোনো বোতাম নেই?"
বিরহ স্বাভাবিক হোক পাখির উল্টো ওড়ার মতো,
অবাধ হোক এমন এক আগুনের মতো—যা পুড়িয়ে ছাই করে না,
বরং আমাদের ফ্রোজেন অবয়বে এনে দেয় এক তীব্র শীতল আলো।
আমরা নিজেরাই একেকটা জ্বলন্ত মোমবাতি হয়ে উঠি,
যার শিখাটা অন্ধকার, কিন্তু চারপাশটা আলোয় মাখামাখি।
সহজ শবনম আর সুদূর সূর্যের মতো,
একজোড়া কাঁচের চোখ হয়ে জ্বলজ্বল করুক আমাদের এই দূরত্ব।
বিরহ স্বচ্ছন্দ হোক তরল লোহার সাঁতার কাটার মতো,
যখন আমরা নিজের মগজের ব্ল্যাকহোলে ডুব দেব—
সে যেন আমাদের পকেটে হাত গুঁজে বসে থাকে।
বিরহকে বগলদাবা করে আমরা ট্রামে উঠব, বাজারে যাব,
সে যেন আমাদের পথ আগলে দাঁড়ানো কোনো দেয়াল না হয়।
আমরা মুক্ত থাকব—ঠিক যেভাবে একটা খাঁচা মুক্ত থাকে পাখির মৃত্যুর পর,
আমরা লগ্ন থাকব—শূন্যতার শেষ স্টেশনে।
আমাদের আত্মাকে সে যেন পঙ্গু না করে,
আমরা তো জন্মেছি সেই আদিম ডাইনোসরের মতো স্বাধীনতা নিয়ে।
বিরহ বিরাট হোক, এত বড় যে একটা আস্ত আকাশ তার ভেতরে হারিয়ে যায়,
সে যেন আমাদের পিঁপড়ের মতো ছোট করে না ফেলে।
অন্তত আমাদের প্রেমের চেয়ে যেন আমরা ক্ষুদ্র না হই,
বিরহের কলার ধরে যেন তাকে সস্তা উপন্যাসের পাতা না বানাই।
আমরা যেন তাকে অপমান না করি কোনো সস্তা কান্নায়।
বিরহ আমাদের মগজে লেপ্টে যাক, নির্ভার হোক ফুটো বেলুনের মতো।
আমরা যেন তার সেই অদ্ভুত খামখেয়ালিপনার যোগ্য হই,
আমাদের মাপে যেন তাকে কেটেকুটে ছোট না করি দর্জির মতো।
বিরহের সেই নীল মধু যখন জিভে এসে পড়বে,
তা যেন তিতকুটে না লাগে, বরং লাগুক চেনা রোয়াফজার মতো।
আমাদের জিহ্বা আর পাকস্থলী এই পরাবাস্তব বিষের যোগ্য হোক,
সে গরলে আমাদের শরীর নীল হয়ে উঠুক—ঠিক নীল তিমিদের মতো।
কিন্তু সাবধান! আমরা যেন এই যন্ত্রণায় অভ্যস্ত না হয়ে যাই,
প্রতিদিন সকালে বিরহ যেন আমাদের বুকে এক নতুন অচেনা পাথর হয়ে জাগে।
আপনার কবিতা পাঠান - kobiyal.com@gmail.com
Follow Now Our Google News
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস
লেখক সংক্ষেপ:
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ। জন্ম ৪ মার্চ ১৯৯৯। শব্দের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক নীরব যাত্রার নাম এই তরুণ কবি। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। সাহিত্য ও সমাজচিন্তার এই দ্বৈত পথচলা তাঁর ভাবনায় তৈরি করেছে আলাদা এক দৃষ্টিভঙ্গি।
লেখালেখি ও বইপড়া তাঁর কাছে শুধু অভ্যাস নয়, এক ধরনের আত্মরক্ষা। একা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন; নিঃসঙ্গতার ভেতরেই তিনি খুঁজে পান ভাষার অন্তরঙ্গতা। একসময় অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জীবনের ভিন্ন মোড় তাকে নিয়ে এসেছে শব্দের মঞ্চে।
অন্যের অহেতুক আলোচনা তাঁর অপছন্দ। হয়তো সেই কারণেই তাঁর লেখায় অপ্রয়োজনীয় কোলাহল নেই; আছে সংযত অনুভব, ব্যক্তিগত স্বর, আর নীরব অথচ দৃঢ় অবস্থান।
কবিয়াল
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন