![]() |
| Bangladesh Files: বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর দিন |
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর দিন
শিমুল চৌধুরী ধ্রুব: ১৯৭৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর—বাংলাদেশ বিমানবাহিনী তথা বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও শোকাবহ দিন। এই দিনে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টরস স্কুলের (FIS) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠান চলাকালে এক আকস্মিক বিমান দুর্ঘটনায় আমরা হারিয়েছিলাম বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তৎকালীন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ খাদেমুল বাশার (বীর উত্তম) এবং সহ-পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার মফিজুল হক-কে।
✈️ উদ্বোধনী উড্ডয়ন ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা:
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর নবগঠিত পাইলটদের দেশে উন্নত প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল 'ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টরস স্কুল'। স্কুলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী উড্ডয়ন বা Maiden Flight-এর জন্য একটি 'NZAI Air Tourer' হালকা প্রশিক্ষণ বিমান প্রস্তুত করা হয়। তৎকালীন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল খাদেমুল বাশার নিজেই এই ঐতিহাসিক ফ্লাইটের পাইলট-ইন-কমান্ড হিসেবে যোগ দেন, এবং তাঁর সাথে সহ-পাইলট ও ফিটনেস অফিসার হিসেবে ছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার মফিজুল হক।
উড্ডয়নের পর বিমানটি যখন আকাশে তার সক্ষমতা ও কৌশল প্রদর্শন করছিল, ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি। বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় এবং মাত্র কয়েকশো ফুট উচ্চতা থেকে তেজগাঁও রানওয়েতে সংলগ্ন মাটিতে নাক থুবড়ে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলেই এই দুই বীর কর্মকর্তা শাহাদাত বরণ করেন।
🎖️ অসামান্য অবদান ও স্মৃতি রক্ষার্থে:
এয়ার ভাইস মার্শাল খাদেমুল বাশার ছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৬ নম্বর সেক্টরের সফল কমান্ডার। বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে 'বীর উত্তম' খেতাবে ভূষিত করা হয়। স্বাধীনতার মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় এবং বিমানবাহিনীর পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর এই চলে যাওয়া দেশের জন্য ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি।
এই মহান বীরের স্মৃতি ও অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে পরবর্তী সময়ে ঢাকার তেজগাঁওস্থ বিমানবাহিনী ঘাঁটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বিএএফ ঘাঁটি বাশার’ (BAF Base Bashar)।
আজও তেজগাঁওয়ের আকাশে যখন কোনো বিমানের গর্জন শোনা যায়, নীরবে স্মরণ করিয়ে দেয় দেশের আকাশ সীমার সুরক্ষায় জীবন উৎসর্গ করা এই বীরদের মহান আত্মত্যাগের কথা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন