![]() |
| The Feminine Hour : এটিএম মেশিনে পানি বেচেন আসমা |
The Feminine Hour : এটিএম মেশিনে পানি বেচেন আসমা
মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী: রাজধানীর মোহাম্মদপুর শেখেরটেকের ২ নম্বর রোডের শেষ মাথায় যে পানির পাম্পটা আছে, শেষ বিকেলে সেখানে এসে জড়ো হয়েছেন কিছু মানুষ। প্রিপেইড কার্ডে এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) থেকে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করছেন তাঁরা। কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই দেখা গেল, পুরো বিষয়টি দেখভাল করছেন এক নারী। ক্রেতাদের কার্ড রিচার্জ করা, টাকা নেওয়া, হিসাব রাখা, পানির পরিমাণ দেখা—সব এক হাতেই সামাল দিচ্ছেন। এরই মধ্যে এক ক্রেতা এসে জানালেন পানির গতি কম। সঙ্গে সঙ্গে গতি বাড়িয়ে দিলেন তিনি। সন্ধ্যা নামার পরও সমানতালে চলতে থাকল কাজ। চলবে রাত ১০টা অবধি।
কিছু সময় অপেক্ষায় থাকার পর কথা বলার সুযোগ হলো। তাঁর নাম আসমা আক্তার। এটিএম বুথে কাজ করছেন চার মাস। এসব বুথে প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি বিক্রি করে ওয়াসা। আসমা বলেন, ‘ভাইয়ের মাধ্যমেই জানতে পারি এই কাজের কথা। প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা খোলা থাকে স্মার্ট পানির কল। দুই শিফটে কাজ করতে হয়। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে কাজ করি। সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা অথবা ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।’
আসমাদের ছয়জনের পরিবার। মাস শেষে যে টাকা পান, তা দিয়ে পরিবারকে সাহায্য করেন। এতেই আসমার আনন্দ, ভালো লাগা। কাজের ব্যাপারে পরিবার থেকেও বেশ সহযোগিতা পান আসমা।
রাস্তার পাশে কর্মস্থল, নানা ঝামেলা। আসমা বলেন, ‘মাঝেমধ্যে বখাটে ছেলেরা এসে ঝামেলা করে। ব্যক্তিগত বিষয় জানতে চায়। ছেলেরা এসে আমার কাছে জানতে চায় কোথায় থাকি, দেশের বাড়ি কই? কত দিন ধরে কাজ করি? নানা প্রশ্ন। মাঝেমধ্যে খুব বিরক্ত লাগে।’ এত সব ঝামেলার মধে৵ও প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ ক্রেতাকে সামলাতে হয়। আসমার প্রতিদিনের কাজের মধ্যে রয়েছে পানি রাখার বড় পাত্রগুলো পরিষ্কার করা। পাত্রগুলোয় পানি ভরার ব্যবস্থা করা। এরপর যে পাত্র থেকে ক্রেতারা পানি নেবেন, সেগুলোতে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি ভরে রাখা। ক্রেতাদের কার্ড রিচার্জ করা, টাকা নেওয়া। নতুন যাঁরা ক্রেতা হবে, তাঁদের কাছে কার্ড বিক্রি। এ ছাড়া কত লিটার পানি যাচ্ছে, কয়জন পানি নিতে এলেন, এসব তথ্যও রাখতে হয় নিয়মিত। কাজের শুরুতে মুঠোফোনে অ্যাপের মাধ্যমে পাঠাতে হয় কিছু তথ্য।
এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন আসমা। তারপর বন্ধ হয়ে যায় পড়াশোনা। এখন আবার পড়াশোনা শুরু করতে চান। এইচএসসি পাস করে বড় বোনের মতো নার্সিংয়ে ভর্তি হতে চান আসমা। হতে চান বড় নার্স।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন