কবিতা          :         প্রজনন
কবি              :         কেতকী কুশারী ডাইসন
গ্রন্থ               :         
প্রকাশকাল   :         
রচনাকাল     :         

নীরবতা || কেতকী কুশারী ডাইসন
নীরবতা || কেতকী কুশারী ডাইসন

প্রজনন || কেতকী কুশারী ডাইসন

মানে না সে জন্ম নিয়ন্ত্রণ।
তারই অপত্য সব
ঝাঁকে ঝাঁকে জন্মায় আর ওড়ে,
বাতাসে তাদেরই ভন্ ভন্।

কেউ দীপ্ত, কেউ ম্লান,
কারও তৃষ্ণা, কারও অভিমান।
কারও ঠোঁট কেঁপে ওঠে,
রাত্রি জুড়ে কারও বা রোদন।

পড়ুক সে দেয়াললিখন।
অনুপস্থিত জনকের
দিন গেছে—শোনেনি কি বন্দোবস্ত,
নয়া উচ্চারণ?

সামলাক এদের এবার।
আমার কি নেই
হাটে-মাঠে অন্য কাজ,
ঘাটে-বাটে-পাবে নিমন্ত্রণ?

আপনার পছন্দের কবিতার নাম কমেন্টে জানান 


 Follow Now Our Google News



লেখক সংক্ষেপ:
কেতকী কুশারী ডাইসন ছিলেন বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যের এক অনন্য দ্বিভাষিক প্রতিভার অধিকারী কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, অনুবাদক ও গবেষক। অবনীমোহন ও অমিতা কুশারীর সন্তান কেতকী ১৯৪০ সালের ২৬ জুন কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ প্রবাস জীবন কাটিয়ে ২০২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ৮৬ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯৫৮ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে রেকর্ড নম্বর নিয়ে স্নাতক হওয়ার পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুনরায় প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও ১৯৭৫ সালে পিএইচডি লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি পদার্থবিজ্ঞানের ব্রিটিশ ছাত্র রবার্ট ডাইসনকে বিয়ে করেন এবং এই দম্পতির সংসারে ভার্জিল পূজারী ও ইগর নীলাদ্রি নামে দুই পুত্রসন্তান রয়েছে।

বুদ্ধদেব বসুর অনুপ্রেরণায় প্রবাসে থেকেও তিনি নিয়মিত বাংলায় সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যান। বিলেতের অভিবাসী জীবনের চিত্র নিয়ে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর নোটন নোটন পায়রাগুলি উপন্যাসটি বিপুল পাঠকপ্রিয়তা পায়। তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে নারী, নগরী এবং জল ফুঁড়ে আগুন। কবি হিসেবে তিনি বল্কল, সবীজ পৃথিবী, জলের করিডোর ধরে, কথা বলতে দাও ইত্যাদি বাংলা কাব্যগ্রন্থ এবং ইংরেজিতে স্যাড-উড ও হিবিস্কাস ইন দ্য নর্থ রচনা করেন। এছাড়া তিনি রাতের রোদ ও সুবর্ণরেখা নামে নাটকও লিখেছেন।

বিশ্বদরবারে রবীন্দ্র-গবেষক ও অনুবাদক হিসেবে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সম্পর্ক নিয়ে তাঁর গবেষণাধর্মী বিখ্যাত গ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে সাহিত্যজগতে বিশেষ আলোড়ন তোলে। পাশাপাশি সুশোভন অধিকারীর সঙ্গে যৌথভাবে রবীন্দ্র-চিত্রকলার ওপর লেখা রঙের রবীন্দ্রনাথ, প্রবন্ধগ্রন্থ ভাবনার ভাস্কর্য ও শিকড়বাকড় তাঁর গভীর পাণ্ডিত্যের পরিচয় দেয়। তিনি রবীন্দ্রনাথ ও বুদ্ধদেব বসুর অসংখ্য কবিতা অত্যন্ত নিপুণভাবে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন। এই অসামান্য সাহিত্যকীর্তির জন্য তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৯৭ সালে দুইবার মর্যাদাপূর্ণ আনন্দ পুরস্কার, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুবনমোহিনী দাসী স্বর্ণপদক এবং ২০০৯ সালে সেরা বাঙালি সম্মাননা লাভ করেন।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন