উপন্যাস : তপোবনে যখন সন্ধ্যা নামে
লেখিকা : নৌশিন আহমেদ রোদেলা
গ্রন্থ :
প্রকাশকাল :
রচনাকাল :
লেখিকা নৌশিন আহমেদ রোদেলার “তপোবনে যখন সন্ধ্যা নামে” শিরোনামের এই ধারাবাহিক উপন্যাসটি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া হয়েছে। ‘কবিয়াল’ পাঠকদের জন্য উপন্যাসটি পর্ব আকারেই প্রকাশিত হবে। লেখিকা অনবদ্য এ উপন্যাসটি তার ফেসবুক পেজে ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে লেখা শুরু করেছেন।
![]() |
| তপোবনে যখন সন্ধ্যা নামে || নৌশিন আহমেদ রোদেলা |
তপোবনে যখন সন্ধ্যা নামে || নৌশিন আহমেদ রোদেলা (পর্ব - ৩)
রাতটা যেন শেষই হতে চাইছে না।
তপুর ঘুম আসেনি। বিছানায় শুয়ে থেকেও চোখ বন্ধ করতে পারছে না সে। মাথার ভেতর বারবার ফিরে আসছে সেই শব্দ—ঘুঙুরের রিমঝিম, তারপর শিশুর কান্না।
এই জঙ্গলে… এই নির্জন, জনমানবহীন স্থানে…
একটা শিশুর কান্না?
অসম্ভব।
তপু উঠে বসলো। লন্ঠনের আলোটা একটু বাড়িয়ে দিলো। টেবিলের উপর রাখা খাতাটা টেনে নিলো সামনে। মুহিবের মতো করে চিন্তা করার চেষ্টা করলো।
ফ্যাক্ট ১: রাত প্রায় বারোটার পর শব্দ শুরু হয়েছে।
ফ্যাক্ট ২: শব্দের উৎস দৃশ্যমান নয়।
ফ্যাক্ট ৩: কুকুরগুলোও প্রতিক্রিয়া দিয়েছে → অর্থাৎ শব্দটা বাস্তব।
ফ্যাক্ট ৪: হঠাৎ করে থেমে গেছে → কোনো প্যাটার্ন আছে।
তপু ঠোঁট কামড়ে ভাবলো,
“ইট’স নট নরমাল… কিছু একটা আছে এখানে।”
ঠিক তখনই— ঠক… ঠক… ঠক…
দরজায় ধাক্কা।
তপু চমকে উঠলো। বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করতে লাগলো। ধীরে ধীরে দরজার কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো,
“কে?”
বাইরে থেকে চাপা গলায় উত্তর এলো, “আমি… মিতু।”
তপু দরজা খুলে দিলো। মিতুর মুখ ফ্যাকাশে। চোখ দুটো ভয়ার্ত।
“তুইও শুনেছিস?” — ফিসফিস করে বললো সে।
তপু মাথা নাড়লো।
“হ্যাঁ। কিন্তু… ব্যাপারটা নরমাল না আপা।”
মিতু এক পা ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো।
“আমি স্পষ্ট শিশুর কান্না শুনেছি। খুব কাছ থেকে… কিন্তু বাইরে গিয়ে কাউকে দেখলাম না।”
দু’জনেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো।
হঠাৎ তপু বললো,
“আপা… তুই কী জানালার দিকে কিছু দেখেছিস?”
মিতু থমকে গেলো। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে ধীরে ধীরে মাথা নাড়লো,
“হ্যাঁ… মনে হলো কেউ দাঁড়িয়ে ছিলো। কিন্তু আমি নিশ্চিত না।”
ঘরের ভেতর হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে এলো।
তপু ফিসফিস করে বললো,
“আমিও দেখেছি… নিচে… অন্ধকারে।”
ঠিক তখনই—
টান টান নিস্তব্ধতার মাঝে আবারও সেই শব্দ।
রিম… ঝিম… রিম… ঝিম…
এইবার শব্দটা অনেক কাছ থেকে আসছে।
দু’জনেই একসাথে বারান্দার দিকে তাকালো।
ধীরে… খুব ধীরে…
বারান্দার দরজাটা নিজে নিজেই কেঁপে উঠলো।
ক্যাঁচ…
মিতু তপুর হাত চেপে ধরলো।
“ডোন্ট ওপেন ইট!”
কিন্তু তপু যেন সম্মোহিত।
ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে গেলো।
দরজাটা একটু ফাঁক করতেই—
ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটা এসে লাগলো মুখে।
আর সেই সাথে—
বারান্দার ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একটা ছোট্ট অবয়ব।
ভেজা চুল…
মাথা নিচু…
পায়ে রূপার ঘুঙুর…
ধীরে ধীরে মাথা তুললো সে।
চোখ দুটো… সম্পূর্ণ ফাঁকা।
হঠাৎ করেই শিশুটি মুখ খুলে কেঁদে উঠলো—
একটা ভয়ংকর, অমানবিক কান্না।
মিতু চিৎকার করে উঠলো,
“তপু দরজা বন্ধ কর!”
তপু ঝট করে দরজা বন্ধ করে দিলো। দু’জনেই হাঁপাতে লাগলো।
কিছুক্ষণ পর—
সব শান্ত।
একদম নিস্তব্ধ।
যেন কিছুই ঘটেনি।
তপু ধীরে ধীরে বললো,
“…ওটা মানুষ না।”
মিতুর গলা কাঁপছে,
“আমরা কালই এখান থেকে চলে যাবো।”
তপু মাথা নাড়লো না।
চোখে অদ্ভুত এক জেদ।
“না… আমরা যাবো না।
এই রহস্যটা আমি বের করব।”
মিতু অবাক হয়ে তাকালো।
তপু ধীরে ধীরে বললো—
“আর এজন্য… আমাদের একজন দরকার।”
“কে?”
তপুর ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটলো।
“মুহিব ভাই।”
---
(অন্যদিকে)
ঢাকা শহর। গভীর রাত।
বৃষ্টিতে ভিজে থাকা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে রুদ্র।
হাতকড়া নেই, শিকল নেই—
তবুও সে বন্দী।
মারিয়া কয়েক ফুট দূরে দাঁড়িয়ে আছে। সতর্ক চোখে চারপাশ দেখছে।
রুদ্র হঠাৎ বললো,
“তুমি কী কখনো ভেবেছো… আমরা দু’জনই আসলে বন্দী?”
মারিয়া তাকালো না।
“আই’ম ডুইং মাই জব, স্যার।”
রুদ্র হেসে উঠলো।
“জব? নাকি প্রিজন?”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে মারিয়া বললো,
“আপনি পালাতে পারবেন না।”
রুদ্র আকাশের দিকে তাকালো।
বৃষ্টির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে মুখে।
ধীরে ধীরে বললো—
“আমি পালাবোই… কারণ আমি মরতে চাই না।”
মারিয়া এবার তাকালো তার দিকে।
“মরবেন?”
রুদ্র নিচু গলায় বললো—
“হ্যাঁ…
কারণ আমি জানি…
ওরা আমাকে খুঁজে বের করবে।”
মারিয়ার চোখ সরু হয়ে এলো।
“ওরা কারা?”
রুদ্র কোনো উত্তর দিলো না।
শুধু ফিসফিস করে বললো—
“তপোবনের জঙ্গল…
ওখানেই সব শুরু হয়েছিল…”
চলবে ...
৪র্থ পর্ব পড়তে এখানে ট্যাপ/ক্লিক করুন
লেখক সংক্ষেপ :
তরুণ লেখিকা নৌশিন আহমেদ রোদেলা সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায়নি। তবে জানতে পারলে তা অবশ্যই কবিয়াল পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হবে।
কবিয়াল
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন