উপন্যাস        :         প্রিয় ইরাবতী
লেখিকা        :          রাজিয়া রহমান
প্রকাশনা       :         
প্রকাশকাল   :         
রচনাকাল     :         ২০ জুলাই, ২০২৫ ইং

লেখিকা রাজিয়া রহমানের “প্রিয় ইরাবতী” নামের এই ধারাবাহিক উপন্যাসটি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া হয়েছে। ‘কবিয়াল’ পাঠকদের জন্য উপন্যাসটি পর্ব আকারেই প্রকাশিত হল। লেখিকা অনবদ্য এ উপন্যাসটি  ২০২৫ সালের ২০ জুলাই থেকে লেখা শুরু করেছেন। 
প্রিয় ইরাবতী || রাজিয়া রহমান kobiyal
প্রিয় ইরাবতী || রাজিয়া রহমান


১৩ তম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক/ট্যাপ করুন

প্রিয় ইরাবতী || রাজিয়া রহমান (পর্ব - ১৪)


সকাল থেকে আকাশের মুখ ভার।আস্তে আস্তে অন্ধকার হয়ে আসছে চারদিকে। বেলা বারোটার দিকে গাঢ় হয়ে এলো অন্ধকার। ধূসর অন্ধকার যেনো সূর্যকে ঢেকে দিলো।চারদিকে ভীষণ নিস্তব্ধতা নেমে এলো।

বারান্দায় দাঁড়িয়ে ইশতিয়াক বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে। বাতাস বইতে শুরু করেছে।

মনে হয় ঝড় আসবে!

এমন একটা ঝড় আসুক যেই ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে তার অতীত।

লিনা ইরাকে নিয়ে ফিরেছে। গেইট খুলে গাড়িটা ভেতরে ঢুকলো।অলকানন্দা গাছটা থেকে একটা দুটো করে ফুল ঝরে পড়ছে।

ইরা এই প্রথম লিনাদের বাসায় এলো।এতো বিশাল বাড়ি দেখে ইরা কিছুটা চমকায়।

লিনারা বড়লোক জানতো,কিন্তু কতটা বড়লোক তার ধারণা ছিলো না ইরার।

গাড়ি থেকে নামতেই ইরার মন ভালো হয়ে যায়। লিনাদের গেইটের সাথে লাগোয়া অলকানন্দা গাছটাকে ইরার কাছে স্বর্গীয় মনে হচ্ছে। ফুলের জন্য পাতা দেখা যাচ্ছে না। গাছের নিচে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ফুল।

বাতাসে ফুল উড়ছে।ইরা হাত বাড়ায় সেই ফুল ধরার জন্য।

ইরার মনে হয় সে ফরে গেছে সেই শৈশবে। ঠান্ডা বাতাস ইরার মন প্রাণ জুড়িয়ে দেয়।

একটা ফুল ধরে ইরা কানে গুঁজে নেয়।

ইশতিয়াক দাঁড়িয়ে দেখছে সাদা সেলোয়ার-কামিজ পরা একটা মেয়ে কেমন মুগ্ধ হয়ে অলকানন্দা ফুল দেখছে।

হুট করে ইরার মনে হয় কেউ যেনো ওকে দেখছে।

ইরা পেছনে ঘুরে তাকায়।

যা ভেবেছে তাই,ছাদের উপর ভীষণ লম্বা একজন পুরুষ দাঁড়িয়ে। যে হাসি হাসি মুখে ইরার দিকে তাকিয়ে আছে। ইরার মনে হলো বুঝি একটা পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে। এতো লম্বা একটা মানুষ!

ইরা অপ্রস্তুত হয়ে লিনার সাথে চলে গেলো।

লিনা ইরাকে বললো, “চল ছাদে যাই,আমাদের ছাদটা তোকে দেখিয়ে আনি।”

ইরা আমতাআমতা করে বললো, “এখন না,কিছুক্ষণ পরে যাই।আগে আংকেল আন্টির সাথে দেখা করবো।”

“ও হ্যাঁ, আমি ভুলে গেছি। চল।”

লিনা ইরাকে বাবার রুমে নিয়ে যায়।

ইরার কেমন মন খারাপ লাগে হাসিবুল শেখের অবস্থা দেখে। প্রায় ২৫ বছর ধরেই নাকি ভদ্রলোক এরকম হুইলচেয়ারে বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন।

কুশল বিনিময় করে লিনা ইরাকে মা'য়ের রুমে নিয়ে গেলো।

শায়লা কারো সাথে ফোনে কথা বলছে উত্তেজিত হয়ে।

ইরা ঢুকতেই শুনতে পেলো শায়লা বলছে, “বললাম তো আমার কালেকশনে নেই,সবসময় টাকা দিয়ে সব পাওয়া যায় না।”

লিনার সাথে একটা মেয়েকে দেখে হোল্ড করলো কল।

শায়লা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলো ইরাকে।ইরা সালাম দিলো।

সালামের উত্তরে শায়লা শুধু মাথা ঝাঁকালো।

ব্যাপারটা ইরার কাছে অস্বস্তিকর লাগলো।

শায়লা থমথমে গলায় বললো, “ইরা,আমি একটু বিজি আছি।তোমার সাথে পরে গল্প করবো।”

লিনা ইরাকে নিয়ে নিচে গেলো।

লিনার রুমে ইরা হাত পা ছড়িয়ে সবে বসেছে সেই মুহূর্তে ইকবাল গিয়ে হাজির হলো।ইরা চমকে নিজেকে সংযত করে নিলো।

লিনা বললো, “আমার বড় ভাইয়া,ইকবাল।ভাইয়া,ও হচ্ছে ইরা।”

ইকবাল হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো, “নাইস টু মিট ইউ”

ইরা বিব্রত হয়ে লিনার দিকে তাকিয়ে রইলো।

ইকবালের সাথে হ্যান্ডশেক করবে কেনো এটাই ইরার মাথায় ঢুকলো না।

ইকবাল বুঝতে পেরে হাত নামিয়ে নিলো।

লিনা চোখ দিয়ে ইশারা করলো ইকবালকে এখন যেতে।

লিনা ইরাকে যতটুকু বুঝতে পেরেছে তাতে শুরুতেই এরকম করলে ইরা এক্ষুনি চলে যাবে।ওকে আগে সহজ হওয়ার সময় দিতে হবে।

ইকবাল উঠে দাঁড়ায়। পকেট থেকে একটা গোলাপ ফুল বের করে ইরার সামনে রেখে চলে যায় ইকবাল।

ইরা লিনার দিকে তাকায়।

লিনা ইরাকে বললো, “আমার বড় ভাইয়া খুবই মিশুক স্বভাবের মানুষ।এখানে তো ও একেবারে একা হয়ে পড়েছে। তাই আমি বলছি আমার সব ফ্রেন্ডদের সাথে ওকে ফ্রেন্ডশিপ করিয়ে দিবো।এজন্য তোকে ফুল দিয়েছে।”

ইরা আর প্রশ্ন করলো না। তবে ব্যাপারটা স্বাভাবিক ও লাগলো না।

শায়লার ভীষণ অস্থির লাগছে।শান্তি পাচ্ছে না কোথাও শায়লা।তারিনের বাবা ইশতিয়াককে দেখে বেঁকে বসেছে।দুটো মেয়েকেই তিনি এক ঘরে বিয়ে দিতে চান।

তা না হলে ইকবালের সাথে তিনি তারিনের বিয়ে দিবেন না।

শায়লা বুঝতে পারছে না কি হবে।একটা মোটা অঙ্কের বিজনেস ডিল তাদের। ইশতিয়াকের সাথে বিয়ের ব্যবস্থা হলে শায়লা নিজের পকেট আরো ভারী করতে পারতো।

অস্থির হয়ে হাঁটতে হাঁটতে শায়লার মনে হলো, আর না।এবার ইশতিয়াকের মুখোমুখি হতে হবে।ইশতিয়াককে তার মতো ছেড়ে দিয়েই শায়লা বরং ভুল করেছে।

দুপুরে খাওয়ার টেবিলে ইশতিয়াক নিঃশব্দে এসে বসে।প্রতিদিন শায়লা পরে খায়।ইশতিয়াক দুই চামচ ভাত বেড়ে নিলো। শাকের বাটি থেকে শাক আর এক পিস মাছ ভুনা দিয়ে ভাত খেতে লাগলো।

খাবার মধ্যেই শায়লা এসে ইশতিয়াকের পাশের চেয়ারে বসলো।হাসিবুল শেখ, ইকবাল শেখ দু'জনেই চমকে উঠে খাওয়া বন্ধ করে তাকিয়ে থাকে ইশতিয়াকের দিকে।

ইশতিয়াক যেমন নিঃশব্দে এসে বসেছিলো ঠিক তেমনই নিঃশব্দে উঠে দাঁড়ায়। যেতে নিতেই শায়লা ইশতিয়াকের হাত চেপে ধরে।

হাসিবুল শেখের বুক মোচড় দিয়ে উঠে। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসবে যেনো যেকোনো মুহূর্তে।

ইশতিয়াকের রক্তলাল চোখের দিকে তাকিয়ে শায়লার কিছুটা ভয় লাগলেও ৬০% লাভের সম্ভাবনায় শায়লা সেসব পাত্তা দিলো না।

শায়লার হাত ঝাড়া দিয়ে ইশতিয়াক থমথমে গলায় বললো, “হাউ ডেয়ার ইউ!”

“আই অ্যাম ইয়োর মাদার,দ্য ওয়ান হু গেভ ইউ বার্থ…অব কোর্স আই ক্যান ডেয়ার।”

“ইউ আর অ্যান ইমমোরাল উম্যান… ইউ ওনলি গেভ মি বার্থ, বাট কুড নেভার বি মাই মাদার!

টু মি… ইউ উইল অলওয়েজ রিমেইন আ সেলফিশ, গ্রিডি, অ্যান্ড ক্যারেক্টারলেস উম্যান… অ্যান্ড ইউ আর নট দ্য ওনলি ওয়ান–ইউর এন্টায়ার জেন্ডার ইজ লাইক ইউ!”

“তোমার কাছে আমি কেমন আমি তা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নই।আমি জানি আমি খুবই খারাপ একজন মহিলা। তা নিয়ে আমি চিন্তিত নই। চরিত্র নিয়ে বসে থাকলে আরো আগেই তোমার বাপকে তার দুই ছেলে নিয়ে ভিক্ষার থালা হাতে নিয়ে রাস্তায় বসতে হতো।”

“সেখানে ও সম্মান ছিলো। তোমার মতো চরিত্রহীন নারী সম্মানের কী বুঝবে?”

“নিজেকে খুব সম্মান বুঝতে পারা বলে দাবী করছো না-কি তুমি? তাহলে তো ভালোই হলো।শোনো,তোমার ভাইয়ের বিয়ের কার্ড আরো সপ্তাহ খানেক আগে থেকে বিলি করা শুধু হয়ে গেছে। গতকাল রাতে তারিনের বাবা জানিয়েছেন ওনার দুই মেয়েকে আমার দুই ছেলের সাথে বিয়ে দিতে চান।যদি হয় দু-জনের বিয়ে এক বাড়িতে হবে নয়তো বিয়ে ক্যান্সেল।

এবার অরিনকে বিয়ে করে তোমার বাবার সম্মান বাঁচাও।”

“আমি বাধ্য নই।আর না আমার কোনো মাথা ব্যথা আছে তোমাদের সম্মান নিয়ে। যেই পরিবারের সম্মান তুমি নিজেই নিলামে তুলেছো সেখানে তোমার মুখে এসব কথা মানায় না।জাস্ট স্টপ!

নেক্সট টাইম আমার সাথে কথা বলার স্পর্ধা দেখাবে না।আমি সবকিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিবো।”

ইকবাল বুঝতে পারলো এভাবে হবে না।ইশতিয়াককে বিয়ে করাতে হলে অন্যভাবে ভাবতে হবে।

শায়লা উঠে দাঁড়িয়ে বললো, “এই বিয়ে যদি না হয়,তবে মনে রেখো তোমার বাবার ব্যাপারে আমি আর কিছু জানি না।এমনিতেও শুধু লোক দেখানো ছাড়া তোমার বাবার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।সেই লোক দেখানো সম্পর্ক ও এখানেই শেষ হয়ে যাবে।”

“আই ডোন্ট কেয়ার।”

ইশতিয়াক চলে গেলো উপরে।

ইরা সবেমাত্র লিনার রুম থেকে বের হয়েছে। লিনাদের ছাদে যাবে।রুম থেকে বের হতেই ইরার মনে হলো সে বুঝি একটা খাম্বার সাথে ধাক্কা খেয়েছে।

বিশালদেহী মানুষটার দিকে তাকিয়ে ইরা চমকে উঠলো।

এটা আবার কে!

এরা সবাই এমন সাইজের কেনো!

ইশতিয়াক রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো, “চোখ কি পকেটে?”

দ্রুত ইরা রুমে ঢুকে গেলো।

লিনা বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছে।ইরাকে ভীত হয়ে রুমে আসতে দেখে বললো, “কি হয়েছে তোর?”

“একটা বেবি হাল্কের সাথে ধাক্কা খেয়েছি।”

লিনা বুঝতে পারলো না কথাটা।

ইরা বললো, “সম্ভবত উনি তোর ছোট ভাই।একেবারে যেনো একটা বেবি হাল্ক!”

লিনা হিহিহি হেসে বললো, “ভালো একটা নিকনেম দিয়েছিস তুই।”

আপনার পছন্দের গল্পের নাম কমেন্টে জানান 

 Follow Now Our Google News



চলবে ...

১৫ তম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক/ট্যাপ করুন


লেখক সংক্ষেপ:
তরুণ লেখিকা রাজিয়া রহমান বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্মগ্রহন করেন। লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন তিনি। তরুণ এই লেখিকা বৈবাহিক সূত্রে লক্ষ্মীপুরেই বসবাস করছেন। বর্তমানে তিনি একটি পুত্র সন্তানের জননী। পেশাগতভাবে তিনি গৃহিনী হলেও লেখালেখির প্রতি তার ভিষন ঝোক। আর তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও শখের বশে ধারাবাহিকভাবে লিখে যাচ্ছেন একের পর এক উপন্যাস। ২০২২ সালের মধ্যদিকে গর্ভকালিন সময়ে লেখিকা হিসেবে হাতেখড়ি নিলেও এরই মধ্যে লিখে ফেলেছেন “তুমি অন্য কারো সঙ্গে বেঁধো ঘর” ও “শালুক ফুলের লাঁজ নাই” -এর মতো বহুল জনপ্রিয় উপন্যাস।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন