উপন্যাস : প্রিয় ইরাবতী
লেখিকা : রাজিয়া রহমান
প্রকাশনা :
প্রকাশকাল :
রচনাকাল : ২০ জুলাই, ২০২৫ ইং
লেখিকা রাজিয়া রহমানের “প্রিয় ইরাবতী” নামের এই ধারাবাহিক উপন্যাসটি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া হয়েছে। ‘কবিয়াল’ পাঠকদের জন্য উপন্যাসটি পর্ব আকারেই প্রকাশিত হল। লেখিকা অনবদ্য এ উপন্যাসটি ২০২৫ সালের ২০ জুলাই থেকে লেখা শুরু করেছেন।
![]() |
| প্রিয় ইরাবতী || রাজিয়া রহমান |
১ম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক/ট্যাপ করুন
প্রিয় ইরাবতী || রাজিয়া রহমান (পর্ব - ২)
কলিং বেল বেজে উঠতেই শারমিন গিয়ে দরজা খুলে দিলো।সকাল থেকে শারমিন অপেক্ষায় থাকে লিনা আসার।এই মেয়েটা এতো ভালো একটা মেয়ে।সবসময় আসার সময় কিছু না কিছু নিয়ে আসে খাবার জন্য। শারমিন তাই অপেক্ষা করে থাকে যেদিন যেদিন ইরার ক্লাস থাকে সেদিনের।
দরজা খুলতেই লিনা শারমিনকে সালাম দিলো।একগাল হেসে শারমিন বললো, “বসো বসো মা।বসো।কেমন আছো?”
“এই তো আন্টি,আছি ভালোই।”
“তোমার আব্বা আম্মা কেমন আছেন?দেশে ফিরেছেন?”
“না আন্টি,এখনো ফিরে নি।আরো সপ্তাহ খানেক থাকবেন।সামারটা ওখানে কাটিয়ে ফিরবেন।”
শারমিন ইতিউতি করে লিনার দুই হাতের দিকে তাকায়। লিনা কাঁধের ব্যাগটা নামিয়ে একটা কাগজের ঠোঙ্গা শারমিনের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো, “ আন্টি,আপনার জন্য হালকা স্ন্যাকস এনেছি।”
শারমিন বিগলিত হেসে ঠোঙ্গাটা নিতে নিতে বললো, “কি দরকার ছিলো এসবের।”
ইরা সাবান দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে নেয়।তারপর ফেয়ার এন্ড লাভলী ক্রিম মাখে,হালকা করে ঠোঁটে লিপলাইনার লাগায় ঠোঁটে। রুম থেকে বের হয়ে দেখে ডাইনিং টেবিলে বসে শারমিন একটা ৩ লেয়ারের বার্গার খাচ্ছে। পাশেই দুটো স্যান্ডউইচ রাখা।
ইরা গম্ভীর হয়ে লিনাকে বললো, “তোকে আমি নিষেধ করেছি না কখনো এসব আনবি না?আজকে ও তুই?”
শারমিন বার্গারে কামড় বসিয়ে বললো, “তুই এমন করছিস কেনো ওকে?ওর মনটা অনেক বড়।”
লিনা মুচকি হেসে বললো, “কি আশ্চর্য! আমি কী তোর জন্য এনেছি না-কি! এটা আমার আর আন্টির ব্যাপার। খবরদার আমাদের মধ্যে ঢুকবি না।সবাই তো তোর মতো না।না নিজে খাস,না আমাকে কিছু খাওয়াস।মানুষ কতো আড্ডাবাজি করে ফ্রেন্ডদের সাথে। অথচ আমি ভাগ্য করে এমন ফ্রেন্ড পেয়েছি!”
“আমি ছাড়া ও তোর অনেক ফ্রেন্ড আছে লিনা।সবাই তো এক রকম হয় না।তুই এরপর থেকে আর আসিস না আমাকে নেওয়ার জন্য। আমি যেতে পারবো।”
“আমি এখানে আসি আন্টির জন্য। তুই না গেলে নাই আমি তবুও আসবো।আন্টির জন্য আমার অনেক মায়া লাগে।”
ইরার বিরক্ত লাগে।মা'কে ইরা চেনে।মা'র এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা, লোভ এসব ইরার জঘন্য লাগে।
মা আর ভাবী দুজনেই একই রকম। এজন্যই ঘরে অশান্তি কমে না।
মা'য়ের চোখ গোল করে তাকানো ইরার নজর এড়ায় না।
ইরা কথা বাড়ায় না আর।শারমিনের সামনে থেকে একটা স্যান্ডউইচ নিয়ে রান্নাঘরে যায়।
উপমা রান্নাঘরে ছিলো। ইরা স্যান্ডউইচটা উপমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো, “আমাকে মাফ করে দাও ভাবী।গতরাতে ভাইয়া তোমার সাথে ঝগড়াঝাটি করেছে সম্ভবত।আমাকে নিয়ে তোমাদের অনেক অশান্তি হচ্ছে আমি বুঝতে পারছি।আমি সামনের মাসে হোস্টেলে উঠে যাবো।তোমাদের স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক যদি আমার জন্য খারাপ হয়ে থাকে আমি-ই না হয় দূরে চলে যাবো।তবুও তোমরা মিলেমিশে থাকো।আমার ভালো লাগে না অশান্তি।”
উপমা অনেক কিছু বলতে চায়।কিন্তু থেমে যায়। ইরা যদি হোস্টেলে উঠে যায় তাহলে তো ভালোই হবে।কিন্তু হোস্টেলে উঠলে তো ইরার পেছনে আবার খরচ বেড়ে যাবে। সেই খরচ নিশ্চয় সাগরকে দিতে হবে।খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি হয়ে যাবে।
ইরা চলে গেলো রান্নাঘর থেকে। উপমা পেছন থেকে তাকিয়ে থাকে ইরার দিকে। ইরাকে কেমন স্নিগ্ধ লাগছিলো।
কোনো সাজগোজ ছাড়াই ন্যাচারালি ভীষণ সুন্দর লাগে।উপমার বুকের ভেতর খচখচ করে।
ইরার সৌন্দর্য ও উপমার সহ্য হয় না আর না সহ্য হয় ইরার ভালোমানুষি।
স্যান্ডউইচ কেমন বিস্বাদ ঠেকে উপমার মুখে। অন্তরে যদি বিষ থাকে তবে সেই বিষে সারা শরীর বিষাক্ত হয়ে যায়। মুখের আর দোষ কী!
লিনার পরনে অফ শোল্ডার টপস আর মিনি স্কার্ট। ইরার ভীষণ অস্বস্তি লাগে লিনার সাথে সিঁড়ি বেয়ে নামতে।আশেপাশের সব ফ্ল্যাটের লোকজন হা করে তাকিয়ে থাকে।লিনার গাড়িটা এই গলির মুখে রাখা।বাসা থেকে এইটুকু পথ হেঁটে যেতে হয়।লিনা কথা বলতে বলতে যাচ্ছে। ইরা শুনছে আর আশেপাশে তাকাচ্ছে। সব কটা চোখ লিনার উপর নিবদ্ধ হয়ে আছে।ইরার অস্বস্তি হয়। লিনাকে কতো বার বলেছে এসব পড়ে এখানে না আসতে।মানুষ নানান ব্যাড কমেন্ট করে অথচ লিনা সেসব কমপ্লিমেন্ট হিসেবে নেয়।
তাকাতে তাকাতে রাফির সাথে চোখাচোখি হয় ইরার।রাফি অপলক তাকিয়ে আছে ইরার দিকে। ইরা চোখ নামিয়ে নেয়।আজকের দিনে এই লোকটার সাথে দুই বার দেখা হয়ে গেলো। কে লোকটা!
এভাবে তাকিয়ে আছে কেনো তার দিকে?ভ্রু জোড়া কুঞ্চিত হয়ে আসে ইরার।
গাড়ির চারদিকে বাচ্চাদের ভীড়। সবাই দেখছে লিনার গাড়িটা। চকচকে পার্ল হোয়াইট কালারের সিএইচআরটার দরজা খুলে লিনা ইরাকে উঠতে বলে।
ইরা উঠে বসে।
লিনা ড্রাইভিং সিটে বসে সিটবেল্ট বেঁধে নেয়।ইরাও বেঁধে নেয়।
দুই মাস ধরে লিনা ইরাকে আসা যাওয়ার সময় ড্রপ করে দিচ্ছে।
ইরার ইচ্ছে করে না লিনার এতো দামী গাড়িতে করে আসা যাওয়া করতে।কিন্তু ঝামেলাটা লাগিয়েছে ইরার মা।
প্রথম একদিন লিনা ইরাকে ড্রপ করতে এসেছিলো।ভার্সিটিতে উঠে লিনার সাথে পরিচয়। তখনও এতো ভালো বন্ধুত্ব হয় নি।লিনার সাথে ক্লাসের সব মেয়েদের সাথেই ভালো সম্পর্ক। সবার সাথে লিনা এমন ভাবে মিশে যায় যেনো সবাই তার ক্লোজ ফ্রেন্ড।
তেমনই ইরাও।
লিনার ভীষণ ঘোরাঘুরি করার শখ।তাই প্রায়দিনই কোনো না কোনো ক্লাসমেটকে লিনার গাড়িতে দেখা যেতো।যার এলাকায় লিনা গাড়ি নিয়ে ঘুরতে যাচ্ছে সাথে তাকেও ড্রপ করে দিবে।
ওভাবেই ইরাকে ছাড়তে যায় একদিন। ইরা বাসায় আসতে বলে লিনাকে।
বাসায় গিয়ে শারমিনের সাথে পরিচয় হয় লিনার।শারমিন যখন বুঝতে পারলো লিনা সোনার ডিম পাড়া হাঁস তখন থেকেই শারমিন লিনার সাথে কথা বলার সময় গলায় মধু ঢেলে কথা বলে।মা ছাড়া কথা বলে না।
ইরার ভীষণ খারাপ লাগে মা'য়ের এসব হ্যাংলামি।
শারমিন আঁচলে চোখ মুছে লিনাকে বললো আসা যাওয়ায় ইরার অনেক টাকা খরচা হয়।বাপ নাই,এতো খরচা কে দিবে ওর।এজন্য মাঝেমাঝে ক্লাসে যেতে পারে না।
যদিও কথা মিথ্যা না তাই বলে এভাবে লিনাকে বলাটা ইরার ভীষণ খারাপ লেগেছে। সাগর মাঝেমাঝে ভাড়ার টাকা দেয়।ইরা একটা টিউশনি করায়।
মোটামুটি চলে যায় ইরার।
কষ্ট হলেও ইরা অভ্যস্ত হয়ে গেছে। বাবা মারা গেছে ইরা যখন ক্লাস সেভেনে পড়ে তখন।
তখন থেকেই তো ইরাকে প্রতিনিয়ত বুঝতে হচ্ছে জগৎ কতটা কঠিন।
ইরা অবশ্য এসব নিয়ে ভাবে না।ভাগ্যে যা আছে তা-ই হবে।
লিনা ইরাকে বললো, “জানিস,সামনে আমার ভাইয়াদের বিয়ে। বড় ভাইয়ার পরপরই ছোট ভাইয়াকে বিয়ে করানো হবে।আমার যে কী আনন্দ লাগছে তোকে বলে বুঝাতে পারবো না।”
ইরা মুচকি হাসে। ভাইয়ের বিয়ে নিয়ে ইরা ও কী কম এক্সাইটেড ছিলো?
ইরা তখন ক্লাস টেনে পড়ে।
উপমাকে দেখতে যাওয়ার সময় ইরার ছোট মামী,বড় ফুফু,বড় খালা ও সঙ্গে যায়।
উপমার গায়ের রঙ শ্যামবর্ণ। যাকে লোকে বলে কালো।সাগর ইরা দু'জনেই ওদের বাবার মতো ফর্সা। উপমাকে দেখে ইরার ছোট মামী ফিসফিস করে বড় ফুফুকে বললো, “মেয়ে তো পাতিলের তলার মতো কালা।ছোট আপারা আগে ছবি দেখে নাই?এমন মেয়ে দেখতে আসছে টাকা পয়সা খরচা করে?”
ইরা মামীকে বললো, “মামী দেখো,ওনার চোখগুলো কি সুন্দর! এই চোখের দিকে এক জীবন কাটিয়ে দেওয়া যাবে মামী।”
বড় খালা ঠোঁট বাঁকিয়ে বললেন, “আরে না,এরকম কালা মাইয়া সাগরের লগে মানাবে না।সাগর হইছে চান্দের টুকরা।”
বড় ফুফু গর্ব করে অহংকারী হাসি হেসে বললেন, “আমার ভাই আছিলো চান,সেই ঘরের পোলা মাইয়া হইছে চান্দের টুকরার মতো।আমার ভাই যেমন ভাবী ও তেমন। এখন ভাইপুতের জন্য এরকম কালা বউ ঘরে তুলবো না আমরা।এর ঘরে পোলা মাইয়া সব হইবো পাতিলের তলা।”
ফিসফিস করে বললেও সবকথা উপমার কানে যাচ্ছিলো সব।অপমানে, লজ্জায় উপমার চোখ ভিজে উঠে।
ইরা উপমার হাত ধরে বসে ছিলো।টুপ করে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে ইরার হাতে পড়ে।ইরার ও কান্না পায় উপমার অপমানে।আল্লাহ তো ভালোবেসে তার বান্দাকে নিজের মনের মতো করে সৃষ্টি করে তাহলে তার সৃষ্টি কেনো আবার একে অন্যকের অপমান করে আল্লাহর দেওয়া জিনিস নিয়ে!
অথচ আজ পর্যন্ত কাউকে দেখলো না যে ঘুষ খায়,সুদ খায়,নামাজ পড়ে না,রোজা রাখে না,অন্যের হক মেরে খায়,এতিমের উপর জুলুম করে যেগুলো মানুষের নিজের করা খারাপ কাজ সেসবের জন্য কেউ কাউকে ঘৃণা করতে।
উপরন্তু যে ঘুষের টাকার যত বড় পাহাড় তৈরি করেছে মানুষ তাকে ততই হুজুর হুজুর করে।
চুপিচুপি ইরা সাগরকে গিয়ে বলে, “ভাইয়া,উপমা আপুকেই ভাবী বানাও।প্লিজ ভাইয়া।সবাই অনেক কথা বলছে ওনার গায়ের রঙ নিয়ে। গায়ের রঙ দিয়ে তো মানুষ বিচার করা যায় না ভাইয়া, বিচার করতে হয় তার আচার ব্যবহার দিয়ে। অযথা ফুফু,খালা,মামী আপুকে কথা শোনায়।”
সাগর বোনের সরলতা, কোমলতার কথা জানে।বোনের কপালে চুমু খেয়ে বললো, “এসব বড়দের ব্যাপার। ওরা ঠিক করবে।বিয়ের বর কণে দেখার সময় এরকম অনেক কথাই বলে মানুষ.।”
ইরা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো, “তাহলে আমার বিয়ের সময় ও তো আমাকে অনেক কথা শুনতে হবে।লোকে বলবে মেয়ের বাবা নাই,জামাই আদর পাবে না তাদের ছেলে।জায়গা জমি নাই মেয়েদের। এই মেয়ে বিয়ে করালে ছেলে শ্বশুর বাড়ি থেকে কোনো সাপোর্ট পাবে না।তাহলে আমাকে ও এসব সহ্য করতে হবে ভাইয়া!
এরচেয়ে ভালো আল্লাহ তাহলে মেয়েদের তার কাছেই নিয়ে যাক যাদের যাদের মধ্যে মানুষ বিভিন্ন খুঁত খুঁজে পায়।”
ইরার এই কথাটাই সাগরকে চমকে দেয়।তখনই সাগর সিদ্ধান্ত নেয় এই মেয়েকেই সে বিয়ে করবে।
বাসায় গিয়ে সাগর নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়।শারমিনের অবশ্য খুব একটা অমত ছিলো না। উপমার গায়ের রঙ কালো হলেও ওর ভাই এসআই,বাপের টাকা পয়সা আছে।
বিয়েটা হয়ে যায়। ইরা কী ভীষণ আনন্দিত ছিলো। রোজ নিয়ম করে ভাবীর চুলে তেল মেখে দিতো।উপমা রূপ চর্চা করতে পছন্দ করে। হয়তো প্রিয় মানুষটার চোখে মুগ্ধতা দেখতে চায় সে ও।
ইরা উপমার চুলে হেয়ার প্যাক লাগিয়ে দিতো।ইউটিউব দেখে দেখে পেডিকিউর মেনিকিউর করা শিখেছে ইরা।ভাবীর সুবিধার জন্য টুকটাক অনেক কিছুই শিখেছে নিজে থেকে।ভাবীকে খুশি করতে চাইতো।
উপমা যখন ইরার গালে হাত দিয়ে বলতো, “তোমার ত্বক কী কোমল ইরা,কোনো দাগ নেই,কোনো পিম্পল নেই।আর আমার দেখো!”
ইরা তখন মনে মনে আল্লাহকে বলতো, “আল্লাহ আমার মুখে অনেক পিম্পল দিয়ে দাও।যাতে ভাবীর আফসোস না হয়।”
কতো আন্তরিকতা ছিলো ইরার ভাবীর জন্য। অথচ ভাবীর দিক থেকে!
ইরা আর ভাবে না।সে তো কিছু পাওয়ার আশায় এসব করে নি,আজও করে না। প্রতিদান ইরা চায় না।শুধু চায় ভাই,ভাবী,মা ভালো থাকুক।তাতে যদি ইরাকে দূরে যেতে হয় তা যাবে ইরা।
এগারোটায় ক্লাস শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ক্লাস দুটোর সময়। ইরা কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে গিয়ে বসলো।এই গাছটি ইরার ভীষণ পছন্দের। লিনাকে দেখা গেলো তিন চারজন ছেলেমেয়ের মাঝখানে বসে আছে মাঠে।ইরা সেদিকে তাকিয়ে ভাবে জীবন একেক জনের কাছে একেক রকম। লিনার কাছে জীবন মানে উপভোগ করা আর ইরার কাছে জীবন মানে স্ট্রাগল করা।
মাঠ থেকে লিনা উঠে এলো ইরার কাছে।ইরার হাত ধরে বললো, “আজকে আমার বাসায় যাবি আমার সাথে। আমরা পার্টি করবো।আন্টির থেকে আমি অনুমতি নিয়ে রেখেছি কিন্তু। না বলতে পারবি না।”
ইরা অপ্রস্তুত হয়ে বললো, “না রে,আমার যাওয়া হবে না।টিউশনি আছে।”
“একদিন ছুটি নিলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না।চল তো।সবাই যাবে।দারুণ মজা হবে।অনেক কিছু টেস্ট করে দেখা হবে।তুই জানিস আমাদের বাসায় ড্যাডির একটা বার ও আছে।অনেক ভ্যারাইটির কালেকশন আছে।সবাই মিলে দারুণ এনজয় করবো।”
“পাগল হয়েছিস?তোরা মদ খাবি!”
ইরা চেঁচিয়ে উঠলো।
লিনা তাৎক্ষণিক ইরার মুখ চেপে ধরে বললো, “আরে আস্তে!তুই এতো বুদ্ধু কেনো বল তো!এসব নরমাল ব্যাপার এতো চিৎকার করা লাগে!”
“তোর ভয় করছে না?পুলিশ ধরবে না তোদের?”
লিনা খিলখিল করে হাসে। হেসে বলে, “এরকম ডজন ডজন পুলিশ আমরা ভাই বোনরা পকেটে নিয়ে ঘুরি।আর আমার ড্যাডি হাস মুরগির মতো পালে এদের।লাইসেন্স আছে, পুলিশের বাপের ও ক্ষমতা নাই কিছু বলার।চল তো,তুই ড্রিঙ্ক না করলে নাই।তুই না হয় কোল্ডড্রিঙ্কস পান করবি।”
ইরা শক্ত হয়ে বললো, “না আমি যাবো না লিনা।এসব কিছুতেই আমি যাবো না।ভাইয়া জানতে পারলে আমাকে কেটে ফেলবে।আমি যাবো না।”
লিনা ইরার দিকে তাকিয়ে থাকে।ইরা উঠে ক্লাসের দিকে চলে যায়। লিনার আশেপাশেই থাকবে না।নয়তো ঘ্যানঘ্যান করবে লিনা।
ইরা চলে যেতেই লিনা চুপচাপ বসে পড়ে ইরার জায়গায়। হাসি আসে লিনার।
ভাই বোনের সম্পর্ক কী এরকম মধুর হয়!
এই যে ইরা তার ভাইকে ভয় পায়,তার ভাই তার খবর রাখে। কই লিনার ভাইয়েরা তো কখনো লিনা বেঁচে আছে কি-না তা ও জানতে চায় না।
মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর এসব ব্যাপার ভীষণ মধুর লাগে লিনার।
না আজকে আর পার্টি করবে না।তার কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।
বাসায় যাওয়ার গলিতে ঢুকতেই ইরার সাথে আরেকটুর জন্য ধাক্কা লাগতে নিলো ছেলেটার সাথে। ইরা দ্রুত সরে যায়। বিরক্ত হয়ে যায় ইরা।এই ছেলেটাকে এখন বিরক্ত লাগছে ইরার।বারবার এরকম দেখা হওয়া মোটেও কাকতালীয় মনে হচ্ছে না ইরার।
সিড়ি দিয়ে উঠতে যেতেই তিনতলার এক আন্টি ইরাকে বললেন, “তোমার সাথে আধা লেংটা মাইয়াটা কে ইরা?
ছি!ছি!ছি!
এসব কী পরে এই মাইয়া?এর বাপ মা কী মরে গেছে?এসব পরে মাইয়ারে বাইর হইতে দেয়?আমার মাইয়া হইলে আমি জ বা ই করে দিতাম।”
ইরা উত্তর দিতে পারে না।
মধ্যবিত্ত রক্ষণশীল পরিবারের আর কিছু না থাকলেও এই মানসিকতাটুকুই তাদের সবার থেকে আলাদা করে রাখে।
আপনার পছন্দের গল্পের নাম কমেন্টে জানান
Follow Now Our Google News
চলবে ...
৩য় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক/ট্যাপ করুন
রাজিয়া রহমান’র গল্প ও উপন্যাস:
- শালুক ফুলের লাজ নাই
- তুমি অন্য কারো সঙ্গে বেঁধো ঘর
- তুমি অন্য কারো ছন্দে বেঁধো গান
- তুমি অপরূপা
- কেয়া পাতার নৌকা
- শালুক ফুল
- চন্দ্রাণী
- প্রিয় ইরাবতী
লেখক সংক্ষেপ:
তরুণ লেখিকা রাজিয়া রহমান বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্মগ্রহন করেন। লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন তিনি। তরুণ এই লেখিকা বৈবাহিক সূত্রে লক্ষ্মীপুরেই বসবাস করছেন। বর্তমানে তিনি একটি পুত্র সন্তানের জননী। পেশাগতভাবে তিনি গৃহিনী হলেও লেখালেখির প্রতি তার ভিষন ঝোক। আর তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও শখের বশে ধারাবাহিকভাবে লিখে যাচ্ছেন একের পর এক উপন্যাস। ২০২২ সালের মধ্যদিকে গর্ভকালিন সময়ে লেখিকা হিসেবে হাতেখড়ি নিলেও এরই মধ্যে লিখে ফেলেছেন “তুমি অন্য কারো সঙ্গে বেঁধো ঘর” ও “শালুক ফুলের লাঁজ নাই” -এর মতো বহুল জনপ্রিয় উপন্যাস।
কবিয়াল
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন