কবিতা          :         চুপ হয়ে যাবার শিল্প
কবি              :         তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
গ্রন্থ               :         
প্রকাশকাল   :         
রচনাকাল     :         ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ইং

কবি তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র লেখা ‘চুপ হয়ে যাবার শিল্প’ শিরোনামের কবিতাটি তার ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া হয়েছে। কবির অনুমতি সাপেক্ষে এই কবিতাটি কবিয়াল পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।
 
চুপ হয়ে যাবার শিল্প || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
চুপ হয়ে যাবার শিল্প || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ



চুপ হয়ে যাবার শিল্প || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ


দুঃখ কমে না—সে নদীর মতো। বর্ষায় যেমন নদী ফুলে ওঠে, দু’কূল ভাসিয়ে নিতে চায়, তেমনি জীবনের কোনো এক সময়ে দুঃখও মানুষকে প্লাবিত করে। তখন মানুষ ছটফট করে, ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে, দু’হাত ছুঁড়ে আকাশে প্রশ্ন তোলে। কিন্তু সময় গেলে নদী আর গর্জন করে না; সে গভীর হয়। দুঃখও তেমন—চিৎকার ছেড়ে একসময় গভীরতায় নেমে যায়।

মানুষ তখন আর আগের মতো আস্ফালন করে না। সে বুঝে নেয়, ভাঙা কূলের সামনে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে লাভ নেই। তাই সে চুপ হতে শেখে। এই চুপ থাকা শূন্যতা নয়; এটা দীর্ঘ ক্লান্তির পর নেওয়া এক গভীর শ্বাস। যেমন যুদ্ধফেরত সৈনিক শব্দে নয়, নীরবতায় নিজের ক্ষত গোনে, মানুষও তেমনি নিজের দুঃখ গুনে গুনে বুকে জমা রাখে। বাইরে থেকে সে শান্ত, অথচ ভেতরে অনবরত ক্ষরণ।

দুঃখ তখন আর কাঁটার মতো বিঁধে থাকে না, সে হয়ে ওঠে পাথরের ভার—বুকের ওপর চেপে বসা এক নীরব শিলা। মানুষ এই ভার নিয়েই হাঁটতে শেখে। প্রতিটি পদক্ষেপে সে সাবধানী হয়, ধীরে চলে। একসময় বোঝা যায়, এই ভারই তাকে মাটির সঙ্গে যুক্ত রেখেছে; না হলে সে হয়তো হাওয়ার মতো উড়ে গিয়ে কোথাও হারিয়ে যেত। দুঃখ তাকে ভার দেয়, আর সেই ভার থেকেই জন্ম নেয় স্থিরতা।

এই চুপ হয়ে যাওয়াটাই আসলে অনন্তের পথে যাত্রার প্রস্তুতি। যেমন তীর্থযাত্রার আগে মানুষ অপ্রয়োজনীয় বোঝা ফেলে দেয়, তেমনি জীবনের দীর্ঘ পথে পা বাড়ানোর আগে মানুষ শব্দ, অহংকার, অতিরিক্ত প্রত্যাশা ঝরিয়ে ফেলে। দুঃখ তাকে শেখায়—সব প্রশ্নের উত্তর নেই, সব দরজাই খোলে না। তাই সে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দরজা ভাঙে না, অপেক্ষা করতে শেখে।

শেষ পর্যন্ত মানুষ আর দুঃখ আলাদা থাকে না। দুঃখ ছায়ার মতো তার সঙ্গে হাঁটে—কখনো লম্বা, কখনো ছোট, কিন্তু কখনোই পুরোপুরি হারায় না। আর মানুষ সেই ছায়াসহই অনন্তের দিকে এগিয়ে যায়। শব্দহীন, আস্ফালনহীন—একটি ধীর, গভীর প্রস্তুতির ভেতর দিয়ে। দুঃখ কমে না, কিন্তু মানুষ দুঃখ বহনের শিল্প রপ্ত করে নেয়—এই শিল্পই তাকে শেষ পর্যন্ত মানুষ করে তোলে।


আপনার পছন্দের কবিতার নাম কমেন্টে জানান 


 Follow Now Our Google News

তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস




লেখক সংক্ষেপ:
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ। জন্ম ৪ মার্চ ১৯৯৯। শব্দের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক নীরব যাত্রার নাম এই তরুণ কবি। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। সাহিত্য ও সমাজচিন্তার এই দ্বৈত পথচলা তাঁর ভাবনায় তৈরি করেছে আলাদা এক দৃষ্টিভঙ্গি।
লেখালেখি ও বইপড়া তাঁর কাছে শুধু অভ্যাস নয়, এক ধরনের আত্মরক্ষা। একা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন; নিঃসঙ্গতার ভেতরেই তিনি খুঁজে পান ভাষার অন্তরঙ্গতা। একসময় অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জীবনের ভিন্ন মোড় তাকে নিয়ে এসেছে শব্দের মঞ্চে।
অন্যের অহেতুক আলোচনা তাঁর অপছন্দ। হয়তো সেই কারণেই তাঁর লেখায় অপ্রয়োজনীয় কোলাহল নেই; আছে সংযত অনুভব, ব্যক্তিগত স্বর, আর নীরব অথচ দৃঢ় অবস্থান।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন