কবিতা          :         ক্লান্ত বাহু, বিবর্ণ মুখ ও থেমে যাওয়া মানবতা
কবি              :         তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
গ্রন্থ               :         
প্রকাশকাল   :         
রচনাকাল     :         ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ইং

কবি তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র লেখা ‘ক্লান্ত বাহু, বিবর্ণ মুখ ও থেমে যাওয়া মানবতা’ শিরোনামের কবিতাটি তার ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া হয়েছে। কবির অনুমতি সাপেক্ষে এই কবিতাটি কবিয়াল পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।
 
ক্লান্ত বাহু, বিবর্ণ মুখ ও থেমে যাওয়া মানবতা || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
ক্লান্ত বাহু, বিবর্ণ মুখ ও থেমে যাওয়া মানবতা || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ



ক্লান্ত বাহু, বিবর্ণ মুখ ও থেমে যাওয়া মানবতা || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ


আমি পিতার ক্লান্ত বাহুর মতো নুয়ে মাটি ছুঁই; এটা কোনো কাব্যিক অতিশয়োক্তি নয়, এ এক সামাজিক সত্য। এই দেশে শ্রমিক পিতা প্রতিদিন নিজের শরীর ভাঙেন, আর বিনিময়ে পান শুধু আরও ক্লান্তি। তাঁর বাহু আর শক্তি নয়, তা হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতীক। যে সমাজ পিতার ঘামে মাথা নত করে না, সে সমাজ নিজেই একদিন মাটিতে মুখ ঠেকায়—নীরবে, লজ্জায়।

মায়ের বিবর্ণ মুখ কোনো ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি সামষ্টিক অবহেলার দলিল। তাঁর তালুতে স্নায়ুর নৃত্য মানে শুধুই বার্ধক্য নয়;এটা অনাহার, দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তার ফল। মা এখানে স্নেহের প্রতিমা নন; মা এখানে বেঁচে থাকার দীর্ঘ যন্ত্রণার জীবন্ত দলিল। এই সমাজে মায়েরা কাঁদে না, কারণ কাঁদবার শক্তিটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

অন্তঃসত্ত্বা নারীর শেষ চিৎকারের পর যে নীরবতা নামে, তা অলৌকিক নয়;তা ভয়াবহ। কারণ সেই নীরবতায় নতুন জীবনের আগমন যেমন আছে, তেমনি আছে পুরোনো অব্যবস্থার পুনর্জন্ম। একটি শিশু জন্মায়, আর সঙ্গে সঙ্গেই তাকে উত্তরাধিকার হিসেবে দিয়ে দেওয়া হয় ঋণ, বৈষম্য আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। আমরা শিশুকে স্বাগত জানাই না—আমরা তাকে ব্যবস্থার হাতে তুলে দিই।

ধর্ম আমাদের শেখায় ইসরাফিলের ফুঁ মানেই শেষ সময়। কিন্তু বাস্তবে ইসরাফিলের ফুঁ প্রতিদিন বাজে ক্ষুধার পেটে, বেকার যুবকের মাথায়, আর ন্যায়বিচারের কবরস্থানে। এই ফুঁ কোনো আসমানি সতর্কতা নয়, এটা সামাজিক অ্যালার্ম; যা আমরা শুনেও না শোনার ভান করি। হৃদয়ের তান এখানে সুরে বাঁধা নয়; তা কোরাতে কোরাতে খুঁত হয়ে যায়, কারণ মানুষ নিখুঁত থাকলে এই ব্যবস্থায় টিকে থাকা যায় না।


আপনার পছন্দের কবিতার নাম কমেন্টে জানান 


 Follow Now Our Google News

তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস




লেখক সংক্ষেপ:
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ। জন্ম ৪ মার্চ ১৯৯৯। শব্দের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক নীরব যাত্রার নাম এই তরুণ কবি। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। সাহিত্য ও সমাজচিন্তার এই দ্বৈত পথচলা তাঁর ভাবনায় তৈরি করেছে আলাদা এক দৃষ্টিভঙ্গি।
লেখালেখি ও বইপড়া তাঁর কাছে শুধু অভ্যাস নয়, এক ধরনের আত্মরক্ষা। একা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন; নিঃসঙ্গতার ভেতরেই তিনি খুঁজে পান ভাষার অন্তরঙ্গতা। একসময় অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জীবনের ভিন্ন মোড় তাকে নিয়ে এসেছে শব্দের মঞ্চে।
অন্যের অহেতুক আলোচনা তাঁর অপছন্দ। হয়তো সেই কারণেই তাঁর লেখায় অপ্রয়োজনীয় কোলাহল নেই; আছে সংযত অনুভব, ব্যক্তিগত স্বর, আর নীরব অথচ দৃঢ় অবস্থান।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন