গল্প : মা
গল্পকার : মাধবী তাপসী
গ্রন্থ :
প্রকাশকাল :
রচনাকাল :
আমার এই কংক্রিটের চার দেয়ালের ঘরটায় এখন অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা! সকালের কড়া আলোটা সস্তা পর্দার ফাঁক গলে যখন ঘরে ঢোকে, তখন নিজের ভুল সিদ্ধান্তের ওপর একরাশ বিরক্তি জাগে, ক্যয়ান যে ওটা কিনতে গেলাম!
বারান্দার গাছগুলো নীরব দর্শকের মতো তাকিয়ে থাকে, আর বাথরুমের টুপটাপ পানির শব্দটা এখন আর ভয় জাগায় না, বরং অভ্যাসে পরিণত হয়েছে! ঘরের মেঝেতে অগোছালো পলিথিনের সেই চিকচিক শব্দ যা আসলে আমার ভেতরের একাকিত্ব আর বিষণ্ণতারই প্রতিধ্বনি! একে হয়তো মনস্তত্ত্বের ভাষায় এনভায়রনমেন্টাল হাইপার ভিজিল্যান্স বলা যায়, যেখানে মনের ভেতরের অস্থিরতা বাইরের তুচ্ছ শব্দকে তীব্র করে তোলে! আমি জানি না কাল কী হবে, আমি কিছুই জানি নাহ! এই না জানার পৃথিবীতে মা-ই আমার একমাত্র স্থির বিন্দু! মায়ের গর্ভে কাটানো সেই সুরক্ষিত সময়ের কথা মনে পড়লেই এক অদ্ভুত শান্তি পাই!
আমাদের পরিবারটি ছিল বিশাল! সেখানে ভাতের প্রতি আমার এক ধরনের অনীহা কাজ করত, তবে ব্যাপারটা এমন না যে আমি একদমই ভাত খেতে পারতাম নাহ, ভাত খেয়েই তো আসলে বাঙালিদের বাঁচতে হয়, কিন্তু ভাত আমি এত বেশি পছন্দ করতাম নাহ! সবাই যখন একসাথে পাত পেড়ে তৃপ্তি করে খেত, আমি তখন সেই চেনা ভিড়ের মাঝে এক অদ্ভুত বিচ্ছিন্নতায় ডুবে থাকতাম! ভাতের প্রতি আমার এই পছন্দ না থাকার কারণেই মেম্বার বেশি হওয়ার ঐ সংসারে মা আমার জন্য একটা আলাদা ব্যবস্থা রাখতেন!
সংসারে চা পাতা খুব দ্রুত ফুরিয়ে যেত এবং সবাই যখন চা খেতে চাইত, সবসময় তা পাওয়া যেত নাহ! কিন্তু মা জানতেন, সকালে এক কাপ গরম চা-ই আমার একমাত্র প্রশান্তি! তাই মা সবার অলক্ষ্যে, খুব গোপনে আমার জন্য একটুখানি চা পাতা লুকিয়ে রাখতেন!
সকালে পড়তে বসে যখন জিজ্ঞেস করতাম, আম্মু চা আছে? আর আম্মু যখন বলত, হ্যাঁ, আছে, তখন মনে হতো আমি আসমানের চাঁদ হাতে পেয়েছি! সেই এক কাপ চা আর দুটো বিস্কুট আমার কাছে কেবল সকালের নাস্তা ছিল নাহ, ওটা ছিল এক বিশাল যৌথ পরিবারের আড়ালে মায়ের সাথে আমার এক গোপন, নীরব ভালোবাসার বোঝাপড়া!
আমার হোস্টেল জীবনের সেই দিনগুলোর কথা মনে হলে আজও বুকটা কেঁপে ওঠে! এলাকার একটা লোকাল ছেলে আমাকে চরমভাবে উত্ত্যক্ত করত! ডিস্টার্ব বলতে যা বোঝায়, তা একদম চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গিয়েছিল! মা একদিন হোস্টেলে আমাকে দেখতে এসেছিলেন! তিনি চলে যাওয়ার পর, আমার টেবিলের ওপর এক টুকরো চিরকুট খুঁজে পাই!
মায়ের সেই চেনা হাতের কাঁপা কাঁপা অক্ষরে লেখা ছিল, বাবা, তুমি আমার মেয়েটারে গালিগালাজ কইরো নাহ, ও গালিগালাজ নিতে পারে নাহ! করা সুরে কথা বইলো না, ও অস্থির হয়ে যায়, অসুস্থ হয়ে যায়!
মা আমার কোনো আইনি লড়াইয়ের ভাষা জানতেন নাহ, প্রতিবাদের চড়া সুর জানতেন নাহ! তিনি কেবল জানতেন তার সন্তান কতটা নরম, কতটা স্পর্শকাতর! কী অসীম সরলতা! ভাবি, সেই চিরকুটটা কি ওই ছেলেটার কাছে আজও আছে? সে কি কোনোদিন বুঝতে পেরেছে একটা মায়ের বুকফাটা আকুতি কী জিনিস?
কিন্তু আমার শৈশব আর কৈশোরের সবচেয়ে বড় ট্রমা ছিল ওই জোর করে খাওয়ানো! ভাত আমার খুব একটা পছন্দের ছিল না বলেই হয়তো আমার গলা দিয়ে ওটা সহজে গলত না, কিন্তু বাড়ির... অন্য সহোদরেরা সেটা মানতে চাইত নাহ! আমাকে বিছানায় বা মেঝেতে চেপে ধরে, বুকে আর গলায় পাড়া দিয়ে, হাত দুটো লক করে জোর করে মুখের ভেতর খাবার ঠেসে দেওয়া হতো!
এমনকি গলার ভেতর আঙুল ঢুকিয়েও খাওয়ানোর চেষ্টা করা হতো! আমার ব্রেইন তখন কোনো চিৎকার-চেঁচাসেচি বা ঝগড়া করত নাহ, বলতে গেলে ঝগড়ার ভাষা কেমন হয় সেটাও বুঝতাম নাহ কেবল স্তব্ধ হয়ে মস্তিষ্ক এক নীরব বিদ্রোহ ঘোষণা করত!
ওই নরকীয় টর্চারের সময় মা আসতেন আমার ত্রাণকর্তা হয়ে! মা যখন দেখতেন আমি যন্ত্রণায় কুঁকড়ে আছি, মা অন্যদের থামিয়ে দিয়ে শান্ত গলায় বলতেন, ওকে কোনো একটা কিছু খাওয়াইলই হইছে, ভাত যে খাইতেই হবে এমন কোনো কথা নাই! আমি বরাবরই লিকুইড খাবার পছন্দ করতাম! মা তখন পরম মমতায় বড় মগের ভেতর খাবার ব্লেন্ড করে আনতেন আর মাথায় হাত বুলিয়ে বলতেন, একটু খাও বাবা!
আজ এই কথাগুলো লিখতে লিখতে আমার চোখ ফেটে জল আসছে, বুকটা কেমন যেন ভেঙে যাচ্ছে! মানুষ কতদিন না খেয়ে থাকলে মারা যায়? জানি নাহ ! কিন্তু আমার মায়ের ওই মগের ব্লেন্ড করা খাবার আর নরম হাতের স্পর্শ না থাকলে আমি বোধহয় অনেক আগেই মরে যেতাম!
আমাদের জীবনের টানাপোড়েনটা মোটেও সহজ ছিল না! নিজের কোনো দোষ বা কোনো অহেতুক কারণ ছাড়াই মাকে জীবনের সবচেয়ে বড় রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল! আব্বুর নিজের কোনো ভাইবোন ছিল না, তাই আব্বুকে যারা ছোটবেলায় লালন-পালন করেছিল, সেই আত্মীয়দের আরও দুটো পরিবারের সম্পূর্ণ ভরণপোষণ আব্বুকেই করতে হতো!
অথচ চরম নিষ্ঠুরতা হলো, আব্বু যাদের দিনের পর দিন টাকা পয়সা দিয়ে খাওয়াতেন, ভরণপোষণ করতেন, তারাই আমার মাকে দিনের পর দিন মানসিক টর্চার করেছে! মা চাইলে তো সব ছেড়ে নিজের বাপের বাড়ি চলে যেতে পারতেন! সেখানে গিয়ে শান্তিতে থাকতে পারতেন! কিন্তু মা যাননি! নিজের সব সুখ বিসর্জন দিয়ে, এই গভীর অন্যায় আর অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করে মা শুধু আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে ঐ নরকে পড়ে ছিলেন, আমাদের আগলে রেখেছিলেন!
একটা মধ্যবিত্ত সংসারে চার চারটে মেয়ের খরচ চালানো যে কী অসাধ্য সাধন, তা কেবল আমার মা-ই জানেন! চারটে মেয়ের যদি দুটো করে সালোয়ার কামিজ কিনতে হতো, তাও তো কত খরচ! মেয়েদের স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনা, সাবান কেনা থেকে শুরু করে তাদের পড়াশোনা, বড় করে তোলা, ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়া কত শত ঝড় যে মা নিজের বুকের ভেতর সয়েছেন, তার কোনো হিসেব নেই!
সংসারে এই চাকা সচল রাখতে মা কী না করেছেন! তিনি চাকরি করেছেন, দিনের পর দিন টিউশনি করেছেন, ফার্মেসি চালিয়েছেন! একহাতে বাইরের সেই রক্ত-ঘাম ঝরানো লড়াই আর অন্যহাতে পুরো ঘর সামলেছেন!
মা এত বড় সংসারের দায়িত্ব সামলাতেন, মেয়েদের কাপড় দিবেন নাকি আত্মীয়-স্বজনদের কাপড় দিবেন এই টানাপোড়েনের ভেতর নিজেও ছিলেন বড্ড রুচিশীল আর পরিপাটি! বাসায় পরার জন্য তার ছিল মাত্র দুটি শাড়ি! কিন্তু মা সেই দুটি শাড়িই এমন সুন্দর করে মাড় দিয়ে রাখতেন যে দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যেত!
শাড়িতে মাড় দেওয়ার পর এক হাতে আমি ধরতাম, অন্য হাতে মা ধরতেন, দুজন মিলে দুই দিক থেকে টেনে ওটাকে একদম আয়রনের মতো মসৃণ করে ফেলতাম! তারপর খুব যত্ন করে সেই শাড়ি ভাঁজ করে বালিশের কাভারের নিচে লুকিয়ে রাখতেন, যাতে নিজের শরীরের ওজনে ওটা একদম সোজা আর পরিপাটি থাকে! মায়ের এই অল্পে তুষ্ট থাকার পরিচ্ছন্ন সৌন্দর্যবোধ আমাকে আজও মুগ্ধ করে!
তবুও মায়ের মনের ভেতর কোনো কলুষতা ছিল নাহ! সমরেশ মজুমদারের কালপুরুষ উপন্যাসের সেই বিখ্যাত কথাটি আমার মায়ের চরিত্রের সাথে হুবহু মিলে যায়!! বাচ্চাদের মধ্যে ঝগড়া হলে মা হিসেবে সবসময় নিজের সন্তানের দোষটা আগে খুঁজে বের করা উচিত! আমার মা ঠিক তেমনই ছিলেন! ছেলেমানুষি কোনো ঝগড়া হলে তিনি কখনোই অন্যের সামনে নিজের সন্তানের দোষ ঢাকতে যেতেন না, বরং নিরপেক্ষভাবে আমাদের ভুলটাই আগে ধরতেন! মায়ের এই আকাশসম নৈতিক সততা আর উদার মানসিকতা আমাকে বারবার তার প্রতি কৃতজ্ঞ করে তোলে!
মায়ের আরেকটা অভ্যাস আমার খুব ভালো লাগে! বই হোক, খবরের কাগজ হোক বা পথের ধারে পড়ে থাকা কোনো কাগজের টুকরো যেখানে যা লিখিত পেতেন, মা চশমাটা চোখে দিয়ে পড়তে বসে যেতেন! আর সবচেয়ে বড় শান্তির বিষয় কী জানেন? আমার মা আমাকে কোনোদিন এসেট বা বার্ধক্যের বিমা হিসেবে দেখেননি!
অনেক মা-বাবাই সন্তানকে নিজের ভবিষ্যৎ ইনভেস্টমেন্ট ভাবেন, আমার মা আমাকে কেবল একজন স্বাধীন মানুষ হিসেবে ভালোবেসেছেন, কোনো প্রত্যাশার বোঝা চাপিয়ে দেননি!
ফিলোসফি দিয়ে যদি জীবনকে মাপি, তবে জঁ-পল সার্ত্র বা কামুর মতো অস্তিত্ববাদীরা বলেন, মানুষের সব সম্পর্কই আসলে এক ধরনের সিচুয়েশনাল বিহেভিয়ার যেখানে নিঃস্বার্থ বলে কিছু নেই, মানুষ মূলত একা আর তার ভালোবাসার পেছনেও একটা স্বার্থ বা অস্তিত্বের লড়াই থাকে! কিন্তু আমার মায়ের ক্ষেত্রে এসে আমার এই সব ফিলোসফি, সব থিওরি এক নিমেষে হেরে যায়!
মায়ের এই নিঃশর্ত ত্যাগ আর পাহাড়সম সংগ্রাম প্রমাণ করে যে, অস্তিত্ববাদের ঊর্ধ্বে গিয়েও এক অদ্ভুত অতিপ্রাকৃতিক মায়ার জগৎ আছে, যার কোনো লজিক হয় নাহ! নিখিলেশ, বিশ্বাস করো, আমি নিজেকেও এতটা ভালোবাসি না, যতটা ভালোবাসি আমার মাকে! মা তুমি বড্ড ভালো, বড্ড সরল! এই অনিশ্চিত, অচেনা পৃথিবীতে তুমিই আমার একমাত্র চেনা আকাশ!
আমি সম্পর্কের মারপ্যাঁচে একদমই চলি নাহ, ভীষণ স্ট্রেট-ফরোয়ার্ড একজন মানুষ! সমাজ যাকে তথাকথিত সফলতা বলে, ভালোবাসা বা বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে তেমন কোনো সফলতা আমি দেখাতে পারিনি! আর মায়ের প্রতি আমার এই গভীর টান কেবল অন্ধ কোনো আবেগের কারণে নয়, বরং তাঁর ভেতরের কিছু অসাধারণ গুণের জন্য!
প্রথমত, মা আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে খুব অল্পতেই পরম তুষ্ট থাকা যায়! মাত্র দুই-তিন জোড়া কাপড় নিয়েও কীভাবে পরিপাটি আর সুন্দরভাবে চলাফেরা করা যায়, তা আমি মায়ের জীবন দেখেই শিখেছি!
দ্বিতীয়ত, অন্যের সন্তানের সাথে নিজের সন্তানের কোনো বিরোধ হলে, মা অন্ধের মতো নিজের সন্তানের পক্ষ নেননি, বরং নিজের সন্তানের ভুলটাই আগে খুঁজে বের করেছেন!
আমি খুব সোজাসাপ্টাভাবেই ভাবি—মায়ের মধ্যে যদি এই আকাশসম নৈতিক সততা আর পরিচ্ছন্ন জীবনবোধ না থাকত, তবে হয়তো আমি তাঁকে ফেলে দিতাম না সত্যি, কিন্তু এই অকৃত্রিম ভালোবাসাটাও বাসতাম নাহ! তখন হয়তো কেবল সামাজিক নিয়মের খাতিরে একটা দায়িত্ব পালন করে যেতাম! কিন্তু মা তাঁর এই অনন্য গুণগুলো দিয়েই আজ আমার চেনা আকাশ হয়ে উঠেছেন!
আর লিখতে পারছি না, বুকের ভেতর বড্ড ব্রিদিং প্রবলেম হচ্ছে! হাত আর চলছে নাহ! তবু মনের কোণে একটা অদ্ভুত উপলব্ধি জমা হয়ে আছে! আমি শুধু আমার নিজের মা-কেই নয়, আমি হয়তো অবচেতনভাবে সেই সব মায়েদেরও ভীষণ ভালোবাসি যাঁরা একসময় বুক ফুলিয়ে বিশ্বাস নিয়ে বলেছিলেন, আমার ছেলে কখনোই প্রেমে পড়তে পারে নাহ, আমার ছেলেকে কোনোদিন এমন দেখিনি অথচ সেই ছেলেই ভালোবাসার টানে টিএসসির মতো জনাকীর্ণ জায়গায় হাঁটু গেড়ে বসে প্রিয়তমার শাড়ির কুচি ঠিক করে দেয়!
আমি এমন মায়ের কথাও শুনেছি, যিনি অবাক হয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছিলেন, আমার ছেলের পেছনে যেখানে এতগুলো মেয়ে ঘোরে, তুমি তাকে নিশ্চয়ই কোনো ব্ল্যাক ম্যাজিক করে আটকে রেখেছ! না হলে সে কেন সারাক্ষণ শুধু মাধবী আর মাধবী করে!
এরকম উদাহরণ দিলে হয়তো আরও অনেক দেওয়া যাবে!
কতটা নিষ্ঠুরভাবে জাজ করে! আসলে এই মায়েরা যখন তাঁদের সন্তানদের আমার প্রতি এই তীব্র, অবাধ্য ভালোবাসায় ডুবতে দেখেন, তখন তাঁদের সেই চিরায়ত বিস্ময়, আকুলতা, আর এমনকি এই কর্কশ আক্রমণটাকেও আমি এক অদ্ভুত মায়ায় ভালোবাসে ফেলি!
অথচ এই মায়েরা বা তাঁদের পরিবারই যখন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন ৩-৪ দিন আগের সেই ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসা অভ্যাসবশত কর্কশ ভাষার মতো করে গভীর আত্মিক টানকে সস্তা কিছুর তকমা দিয়ে দেয়! কতটা নিষ্ঠুরভাবে জাজ করে!
আমি আরও বেশি আশ্চর্য হই এই ভেবে যে, কোনো এক মায়ের সামনেই তাঁর সন্তান যখন ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে সস্তা ফ্যাট নেয় আর হুমকি দিয়ে বলে, ফার্মগেটের কোন জায়গায় আছে দেখে নেব! তখন রাগের চেয়ে হাসিই বেশি পায়!
হায় ইশ্বর, মানুষের ক্ষমতার দম্ভ যে কতটা ঠুনকো আর সস্তা হতে পারে, ও মাই গড! এই ফাঁকা আওয়াজ আর ক্ষমতার অহংকার দেখলে করুণা হয়! আসলে এই মায়েরা যখন তাঁদের সন্তানদের আমার প্রতি এই তীব্র, অবাধ্য ভালোবাসায় ডুবতে দেখেন, কিংবা সেই মোহভঙ্গের ক্ষোভে যখন তাঁদের পরিবার এমন সস্তা আস্ফালন দেখায় তখন তাঁদের সেই চিরায়ত বিস্ময়, আকুলতা, আর এমনকি এই কর্কশ আক্রমণটাকেও আমি এক অদ্ভুত মায়ায় ভালোবাসে ফেলি! চিরায়ত বিস্ময়, আকুলতা, আর এমনকি এই কর্কশ আক্রমণটাকেও আমি এক অদ্ভুত মায়ায় ভালোবাসে ফেলি!
আপনার লেখা পাঠাতে আমাদের ইমেইল করুন। ইমেইল ঠিকানা- kobiyal.com@gmail.com
Follow Now Our Google News
মাধবী তাপসী’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস
লেখক সংক্ষেপ:
কবিয়াল
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন