বহুল পরিচিত কবি ও সাংবাদিক শিমুল চৌধুরী ধ্রুব “প্রথম কবিতার আগে” শিরোনামের এই কবিতাটি তিনি এবস্ট্রাক্ট ফর্মে লিখেছেন। তিনি এ কবিতাটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ঢাকার নিকেতনে বসে লিখেছেন।
![]() |
| প্রথম কবিতার আগে || শিমুল চৌধুরী ধ্রুব |
প্রথম কবিতার আগে || শিমুল চৌধুরী ধ্রুব
একদিন ঘুম ভেঙে দেখি আমার
বুকের ভেতর একটি পরিত্যক্ত রেলস্টেশন।
সেখানে কোনো ট্রেন আসে না।
কেবল একটি বানর চেয়ারে বাঁধা
বসে আকাশের বানান লিখছে।
তার কব্জিতে পেন্সিল বাঁধা।
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
কে তোমাকে কবিতা লিখতে শিখিয়েছে?
সে বলল, মানুষ প্রথমে আমাকে বেঁধেছে,
তারপর বলেছে, “এবার তুমি স্বাধীন।”
দুপুরে যিশু এলেন।
তার গাধাটি আমার উঠোনে ঘাস খাচ্ছিল।
আমি তাকে এক কাপ চা দিলাম।
তিনি চায়ের ভেতর তাকিয়ে বললেন, মানুষ অলৌকিকতায় নয়,
আশ্বাসে বিশ্বাস করে।
অলৌকিকতা এত গোপনে আসে যে, কেউ তাকে কখনই চিনতে পারেনি।
ঠিক তখন একটি প্রায় গাভীর মতো এক প্রাণী দরজায় এসে দাঁড়াল।
তার গোলাপি চোখে দূরের ভোর জমে ছিল।
তার ওলান চিরে ঝরছিল ‘সারাবান তাহুরা’
সে বলল, আমাকে একজন সত্যিকারের বাথানিয়ার কাছে নিয়ে যাবে?
আমি বললাম, এই শহরে আর বাথানিয়া নেই।
এখানে সবাই নিজের মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে কাজে যায়।
সন্ধ্যায় ফিরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখে, মুখের জায়গায় একটি খোলা জানালা।
সে আমার বুকের ভেতর থেকে একটি মানচিত্র টেনে বের করল।
সেখানে কোনো দেশ ছিল না।
কেবল অসংখ্য দরজা।
প্রতিটি দরজার ওপারে একই ঘর, একই চেয়ার, একই বানর
যে বারবার নতুন করে প্রথম কবিতাটি লিখছে।
যিশু উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, আজ কেউ মরবে না।
আজ কেবল কিছু নাম পৃথিবী থেকে মুছে যাবে।
ভোর হলে বানরটি আর ছিল না। চেয়ারটি খালি।
পেন্সিলটি মাটিতে পড়ে আছে।
কাগজে মাত্র একটি বাক্য লেখা ছিল
“যে ভাষার কোনো হাড় নেই, সে ভাষাই সবচেয়ে বেশি রক্তপাত ঘটায়।”
তার নিচে কোনো স্বাক্ষর ছিল না।
শুধু একটি ছোট পদচিহ্ন
যা ধীরে ধীরে শিকড় হয়ে মাটির ভেতর নেমে যাচ্ছিল।
১৪ জুলাই, ২০২৬
নিকেতন, ঢাকা
লেখক সংক্ষেপ:
কবি শিমুল চৌধুরী ধ্রুব তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'নিষিদ্ধ পাণ্ডুলিপিতে' নিজের পরিচিতি সম্পর্কে লিখেছেন ❝নাম, ধাম, বয়স, জন্ম, সময়-বিবিধের বেড়াজালে আমি কোনোদিন হারাতে চাইনি এবং ভবিষ্যতেও চাইনা। বইয়ের শেষ পৃষ্টা উল্টিয়ে কবি'র পরিচয় পাওয়া কি আদৌ সম্ভব! কবি যুবক নাকি বৃদ্ধ, ধনী নাকি দরিদ্র, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত কিনা, এসব আমার কাছে বরাবরই অপ্রাসঙ্গিক। কবির পরিচয় নিহিত থাকে মূলত তার সন্তানসম কবিতায়। আমার পরিচয়ের কথা যদি বলতেই হয়, সেক্ষেত্রে আমি অতি সাধারণ এবং নগন্য এক মানুষ। এর বাইরে দেবার মতো পরিচয় আমার নেই।
কবিয়াল
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন