কবিতা          :         দ্যা গ্রামার অব আনফিনিশড সিজনস!
কবি              :         তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
গ্রন্থ               :         
প্রকাশকাল   :         ১৯ জুলাই, ২০২৬ ইং
রচনাকাল     :         ১৮ জুলাই, ২০২৬ ইং

দ্যা গ্রামার অব আনফিনিশড সিজনস! || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
দ্যা গ্রামার অব আনফিনিশড সিজনস! || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ


দ্যা গ্রামার অব আনফিনিশড সিজনস! || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ


আমাদের জীবনের সবচেয়ে বিপজ্জনক ঘটনাগুলো কখনও বিস্ফোরণের শব্দে ঘটে না; ঘটে একটি অসমাপ্ত বাক্যের ভেতর। যেখানে শেষ শব্দটি অনুপস্থিত থাকে, সেখানে ভাষা ধীরে ধীরে নিজের শরীর ত্যাগ করে, আর নীরবতা একটি নতুন বর্ণমালা আবিষ্কার করে।

আমি বহুদিন ধরে সন্দেহ করি—যতিচিহ্নগুলো আসলে মৃত নয়। কমাগুলো উদ্বাস্তু পাখির মতো এক বাক্য থেকে আরেক বাক্যে আশ্রয় চায়। দাঁড়িগুলো পুরোনো সমাধিফলক, যাদের নিচে চাপা পড়ে আছে উচ্চারণহীন ভালোবাসা। আর প্রশ্নবোধক চিহ্ন? সে তো একটি বাঁকানো মেরুদণ্ড, যে এখনো পৃথিবীর কাছে জানতে চায়—শেষ পর্যন্ত মানুষ কি সত্যিই নিজের কথা বলতে পেরেছিল?

আমার ভেতরে যে বাক্যটি শেষ হয়নি, সেটি ধীরে ধীরে একটি ঋতু নয়, একটি বিকল্প সময়ে পরিণত হয়েছে। সেখানে ক্যালেন্ডার উল্টো দিকে হাঁটে, ঘড়িগুলো অনুপস্থিতির সময় মাপে, আর স্মৃতিরা নিজেদের জন্মতারিখ প্রতিদিন বদলে ফেলে।

হয়তো জীবন কোনো পূর্ণাঙ্গ অনুচ্ছেদ নয়। হয়তো আমরা সবাই একটি সম্পাদিত খসড়া, যার গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলো অদৃশ্য সম্পাদক কেটে দিয়েছেন। তাই একে অপরকে পড়তে গিয়ে আমরা বারবার ভুল অর্থে পৌঁছে যাই।

শেষ পর্যন্ত বুঝলাম—অপূর্ণ বাক্যের ওপারে কোনো স্বর্গ অপেক্ষা করে না, কোনো নিশ্চিত ঋতুও নয়। অপেক্ষা করে কেবল আরেকটি অসমাপ্ত বাক্য, যে আমাদের নাম ধার করে নিজেকে লিখতে চায়।

হয়তো মানুষ কখনও মারা যায় না। কেবল তার শেষ না-বলা বাক্যটি অন্য কারও কণ্ঠে আশ্রয় নেয়—আর পৃথিবী তাকে ভুল করে কবিতা বলে ডাকে।

আপনার কবিতা পাঠান - kobiyal.com@gmail.com 


 Follow Now Our Google News

তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস




লেখক সংক্ষেপ:
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ। জন্ম ৪ মার্চ ১৯৯৯। শব্দের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক নীরব যাত্রার নাম এই তরুণ কবি। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। সাহিত্য ও সমাজচিন্তার এই দ্বৈত পথচলা তাঁর ভাবনায় তৈরি করেছে আলাদা এক দৃষ্টিভঙ্গি।
লেখালেখি ও বইপড়া তাঁর কাছে শুধু অভ্যাস নয়, এক ধরনের আত্মরক্ষা। একা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন; নিঃসঙ্গতার ভেতরেই তিনি খুঁজে পান ভাষার অন্তরঙ্গতা। একসময় অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জীবনের ভিন্ন মোড় তাকে নিয়ে এসেছে শব্দের মঞ্চে।
অন্যের অহেতুক আলোচনা তাঁর অপছন্দ। হয়তো সেই কারণেই তাঁর লেখায় অপ্রয়োজনীয় কোলাহল নেই; আছে সংযত অনুভব, ব্যক্তিগত স্বর, আর নীরব অথচ দৃঢ় অবস্থান।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন