মৃত্যুপুরী থেকে লেখা দুটি সত্যি গল্প
মৃত্যুপুরী থেকে লেখা দুটি সত্যি গল্প

মৃত্যুপুরী থেকে লেখা দুটি সত্যি গল্প || শিমুল চৌধুরী ধ্রুব


সাংবাদিকতার এই জীবনটা বড় অদ্ভুত।  এই পেশাটা বাইরে থেকে দেখতে যতটা রোমাঞ্চকর, ভেতরটা ততটাই নির্মম আর ভারী। প্রতিদিন পত্রিকার শিরোনামের জন্য আমাদের ছোট ছোট শব্দের খাঁচায় আটকে ফেলতে হয় মানুষের জলজ্যান্ত আবেগ, বেঁচে থাকা আর হঠাৎ করে নিভে যাওয়ার গল্পগুলোকে।  আর সংবাদপত্রের পাতা জুড়ে ছাপা হয়—দুর্ঘটনা, অপরাধ, কিংবা মৃত্যুর শুকনো খবরের মতো কত শত হেডলাইন। যা ছাপা হয়—তা স্রেফ কিছু সংখ্যা, ঘটনার স্থান, সময়ের হিসেব আর পুলিশের শুষ্ক বয়ান। কিন্তু এই সংখ্যার পেছনে, সংবাদের শীতল খোলসের নিচে কত যে না-বলা হাহাকার, কত অপ্রকাশিত অশ্রু আর নিঃশব্দ মহাকাব্য চাপা পড়ে থাকে, তার খবর ক’জনই বা রাখে?

একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে আমি প্রতিদিন হাজারো ঘটনার মুখোমুখি হই। কলম ধরে অভ্যস্ত এই হাত দুটিকে পেশাদারিত্বের বরফ-শীতল নিয়মে বাঁধতেই হয়। কিন্তু মাঝে মাঝে জীবনের এমন কিছু ট্র্যাজেডি, এমন কিছু সত্য ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়, যা একজন রিপোর্টার হিসেবে আমাদের দুমড়ে-মুচড়ে দেয়। সংবাদের ফ্রেমে সেসব বেদনাকে আটকে রাখা যায় না;-এমন হৃদয়বিদারক সব সত্যি উপাখ্যানকে লিখে রাখি ডায়েরির পাতায়।

আজ আমার ব্যক্তিগত ডায়েরিতে তেমনই দুটি ঘটনা যুক্ত হলো।  একটিতে ভালোবাসার এমন এক অন্ধ হাহাকার—যেখানে প্রিয় মানুষের চলে যাওয়ার পথ ধরে অন্যজনও পা বাড়াল অচিনপুরে। আর অন্যটিতে মৃত্যুর বরফ-শীতল ছায়ার নিচে দাঁড়িয়ে এক প্রেমিকের নিঃশব্দ প্রতিবাদ—যেখানে নিথর প্রিয়তমাকে বরণ করে মৃত্যুকে হারিয়ে দেওয়া হলো ভালোবাসার চিরন্তন বিজয়ে। এগুলো কোনো বানানো গল্প নয়, কাল্পনিক উপন্যাসের পাতাও নয়। এগুলো বাস্তব জীবনের রক্তের অক্ষরে লেখা দুটি চিরন্তন ভালোবাসার গল্প—যা হয়তো খবরের কাগজে স্রেফ অপমৃত্যুর সংবাদের সারিতে হারিয়ে যাবে একদিন, কিংবা আমার ডায়েরিতে থেকে যাবে এক বুকচাপা হাহাকার হয়ে....


অপেক্ষার শেষ দরজাটি যেখানে বন্ধ ছিল


ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ এলাকার বাতাসটা সবসময়ই কেমন যেন ভারী হয়ে থাকে। প্রতিদিন কতো মৃত্যুর খবর কভার করতে হয়, কত লাশ কাটা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে রক্তহীন মুখে স্বজনদের কান্না দেখতে হয়—সাংবাদিকতার এই জীবনে তার কোনো হিসাব নেই। কিন্তু কিছু ঘটনা এমনভাবে বুকের ভেতরে গিয়ে বিঁধে, যা পেশাদারিত্বের সমস্ত খোলস ছাড়িয়ে হৃদয়ে এক চরম হাহাকার তৈরি করে। আজ তেমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার মুখোমুখি হলাম।

এই ট্র্যাজেডির শুরুটা রবিবার (৪ অক্টোবর, ২০২৬) বিকেলে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মালোপাড়া মিন্টু হাজীর গলির এক অন্ধকার ঘরে। পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মাখন চন্দ্র মিত্রের ৩৬ বছর বয়সী ছেলে আকাশ মিত্র—যিনি হক কোম্পানিতে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন—তিনি ঘরের সিলিংয়ে নিজের জীবনটা ঝুলিয়ে দিলেন। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই রফিকুল ইসলামের মুখে শুনলাম, দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে নাকি এই পথ বেছে নিয়েছেন আকাশ। মৃত্যুর আগে ডায়েরির পাতায় লিখে গেছেন নিজের নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার কথা। আকাশ বিবাহিত ছিলেন, তাঁর স্ত্রী নিপা রায় এবং একটি সন্তান রয়েছে। সংসারের টানাপোড়েন আর দেনার চাপ সইতে না পেরে নিভে গেল একটি জীবন। কিন্তু আকাশ হয়তো জানতেনও না, তাঁর এই চলে যাওয়ার পেছনে রেখে যাচ্ছেন আরও এক করুণ সমাপ্তির ইতিহাস।

আকাশের এই মৃত্যুর খবর যখন পৌঁছে যায় ২৯ বছর বয়সী তন্ময়ী মন্ডলের কানে, তখন হয়তো তাঁর পৃথিবীর সমস্ত আলো এক নিমেষে নিভে গিয়েছিল।

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার মৃত বিভূতি মন্ডলের ছোট মেয়ে তন্ময়ী। ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বারডেম)-এ নার্স হিসেবে কাজ করতেন। মানুষের জীবন বাঁচানোই ছিল যার প্রতিদিনের কাজ, তিনি নিজের ভেতরের আলোটাকে আর জ্বালিয়ে রাখতে পারলেন না।

আকাশকে নাকি পাগলের মতো ভালোবাসতেন তন্ময়ী। যদিও আকাশ বিবাহিত ছিলেন এবং সে কথা তন্ময়ী জানতেন, তবুও সম্পর্কের এক মায়াজালে তিনি আটকে পড়েছিলেন। আকাশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্ত্রীকে ডিভোর্স দেবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা দেননি। এ নিয়ে অশান্তি ছিল, ছিল প্রতারণার গভীর ক্ষত। এমনকি দেনায় ডুবতে থাকা প্রেমিককে বাঁচাতে তন্ময়ী নিজে কয়েকজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করে প্রায় দুই লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন আকাশের হাতে। ভালোবাসা আর বিশ্বাসের এমন চরম মূল্য দিতে হবে, তা কি তন্ময়ী কখনও ভেবেছিলেন?

রবিবার বিকেলে যখন তন্ময়ী জানতে পারলেন তাঁর প্রিয় মানুষ আকাশের লাশ রাখা আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে, তিনি ছুটে গেলেন ঢামেকে।

সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেলের প্রত্যক্ষদর্শীদের মুখে শুনছিলাম—রবিবার বিকেল থেকে তন্ময়ী ঢামেক প্রাঙ্গণে এক নিঃসঙ্গ ছায়ার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। ঢামেকের বারান্দায়, মর্গের সামনে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল হয়তো এক নিঃশব্দ হাহাকার। যে মানুষকে ভালোবাসলেন, যে মানুষের জন্য দেনা করে টাকা এনে দিলেন, সেই মানুষটি তাকে না জানিয়ে, না বলে চিরতরে চলে গেছে—এই সত্যটা হয়তো তিনি নিতে পারেননি। তারপর একসময়, ঢামেক হাসপাতালের নিচতলার এক বাথরুমে ঢুকে গেলেন তন্ময়ী। ভেতর থেকে বন্ধ করে দিলেন দরজা।

সোমবার সকালে শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান এবং পুলিশের একটি দল ঢামেকের নিচতলার সেই বাথরুম থেকে তন্ময়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। প্রথমে কেউ চিনতে পারেনি তাঁকে। পরে মর্গে এসে বোনের নিচ্ছল দেহ দেখে বোনকে শনাক্ত করেন তন্দ্রা মন্ডল—যিনি নিজে হলি ফ্যামিলি নার্সিংয়ের ছাত্রী। বোনকে হারিয়ে মর্গের সামনে তন্দ্রার সেই আর্তনাদ পুরো ঢামেকের বাতাসকে ভারী করে তুলেছিল। এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দুটি লাশ পাশাপাশি রাখা। একটি আকাশ মিত্রের, অন্যটি তন্ময়ী মন্ডলের।

সাংবাদিক হিসেবে পুলিশের খাতার দুটো পৃথক অপমৃত্যুর মামলার নোট নিলাম—একটি শাহবাগ থানায়, অন্যটি কেরানীগঞ্জ মডেল থানায়। কিন্তু খাতার বাইরে থেকে গেল এক বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্ন। ভুল, প্রতারণা, দেনা আর অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির আড়ালেও এমন কী গভীর টান ছিল, যা একটা মানুষকে একই হাসপাতালের বাথরুমে গিয়ে নিজের প্রাণটা দিয়ে দিতে বাধ্য করল?

মেডিকেলের ঠান্ডা মর্গের অনুভূতি নিয়ে লিখতে গিয়ে আমার হাত কাঁপছে। এক ভালোবাসার গল্প এভাবে ঢামেকের বাথরুমের এক টুকরো রশিতে আর মর্গের হিমশীতল টেবিলে এসে শেষ হয়ে যাবে, তা কে জানত!


বিদায়ের শেষ আলোয় অনন্তের কনে


গল্পটি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের নৈয়ারবাড়ি গ্রামের ২২ বছর বয়সী তরুণী বৃষ্টি ঘরামীকে নিয়ে। গোপালগঞ্জ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কলেজের ২০২০-২১ ব্যাচের ছাত্রী ছিল মেয়েটি। পাশাপাশি গত ৯ মাস ধরে ঢাকার শ্যামলীর ট্রমা সেন্টারে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিল। মানুষকে সেবা দেওয়া, রোগীর চোখের কোণে একটু ভরসা ফুটিয়ে তোলা ছিল তার রোদের মতো উজ্জ্বল জীবন। গত ১৯ সেপ্টেম্বরও তার এক খুদে রোগীর কথা লিখেছিলেন ফেসবুকে—‘কতখানি বিশ্বাস, ভরসা আর ভালোবাসা... এত বড় দুর্ঘটনা থেকে সুস্থ হতে ওর সময় লাগবে... কী সুন্দর করে আপু বলে ডাক দেয়...’। রোগীদের প্রতি এত মায়া, এত ভালোবাসা যে বুকে পুষে রাখত, সেই বৃষ্টির নিজের জীবন প্রদীপই যে এমন নির্মমভাবে নিভে যাবে, তা কে জানত?

সামনের ১৬ অক্টোবর ছিল পরম প্রতীক্ষিত এক দিন। ওই একই দিনে বৃষ্টির যমজ বোন বন্যা ঘরামীরও বিয়ের কথা। একই মণ্ডপে, একই আলোয় রাঙা হয়ে উঠবে দুই বোনের ভবিষ্যৎ। কত আয়োজনেই না মেতে উঠেছিল পরিবারটি! কেনা হয়ে গিয়েছিল লাল বেনারসি শাড়ি, সোনার গয়না, আর রাঙা লাল সিঁদুর। নতুন জীবনের কত রঙিন স্বপ্ন, কত মায়ার গল্প সাজাত বৃষ্টি তার প্রতিদিনের কথকতায়!

কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেল এক অদৃশ্য শত্রুর হানায়। রক্তচোষা ডেঙ্গু আক্রান্ত করল বৃষ্টিকে। মৃত্যুর দিন সকালেও নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ‘বি নেগেটিভ’ রক্তের তীব্র প্রয়োজন জানিয়ে সাহায্য চেয়েছিল সে, একটি ফোন নম্বর দিয়ে অনুরোধ করেছিল রক্তদাতাদের এগিয়ে আসার জন্য। কিন্তু রক্ত আর সময়—কোনোটিই হয়তো বৃষ্টির পক্ষে ছিল না। ১০৮ ডিগ্রি জ্বর উঠে গিয়েছিল, তারপর হিট স্ট্রোক। বড় বোন মেঘলা ঘরামীর কান্নায় ভাঙা গলাটা এখনো আমার কানে বাজছে, “ওই সময় যে ধরনের ম্যানেজমেন্ট দরকার ছিল, সেটি করা হয়নি। ১০-২০ মিনিট আগে শুরু করলে হয়ত বেঁচে যেত...”

না, বাঁচেনি বৃষ্টি। শুক্রবার (২ অক্টোবর) চলে গেল সে জীবনের সব গল্প অধরা রেখে। কিন্তু এই করুণ মৃত্যুর পর যা ঘটল, তা কোনো সংবাদপত্রের বাঁধাধরা শব্দের সীমানায় প্রকাশ করা যায়না। বৃষ্টির চলে যাওয়ার পর ওর হবু বর—টেকেরহাটের ছেলে সবুজ মণ্ডল এবং বৃষ্টির হবু শ্বশুর-শাশুড়ি ঢাকা থেকে মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সাথে করে নিয়ে এলেন সমস্ত বিয়ের জিনিসপত্র। লাল শাড়ি, গয়না, আর সেই সাধের লাল সিঁদুর।

রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়ালো, তা দেখে শুধু আমার নয়, পুরো দেশের মানুষের চোখ জলে ভেসে গেল। কোনো সানাই বাজেনি, ছিল না কোনো উলুধ্বনি বা আত্মীয়দের আনন্দ কোলাহল। বদলে চারপাশজুড়ে ছিল এক বুকচাপা কান্না আর শ্মশানের নীরবতা। সেই কান্নার আবহেই নিথর, শীতল বৃষ্টির মরদেহের সামনে বসে সবুজ মণ্ডল তার হবু স্ত্রীর সিঁথিতে পরম ভালোবাসায় রাঙিয়ে দিলেন লাল সিঁদুর। বিয়ের পিঁড়িতে বসে যে ভালোবাসাকে বরণ করে নেওয়ার কথা ছিল, অশ্রুসিক্ত চোখে নিথর দেহে সেই সিঁদুর ছোঁয়া দিয়ে বৃষ্টিকে চিরকালের মতো নিজের ‘স্ত্রী’র মর্যাদা দিলেন সবুজ।

যখন মেঘলা ঘরামীর সাথে ফোনে কথা বলছিলাম, তখন ওপাশের হাহাকার যেন মোবাইল ফোনের স্ক্রিন পেরিয়ে আমার ভেতরে এসে আছড়ে পড়ছিল। মেঘলা রুদ্ধকণ্ঠে বলছিলেন, “বোনজামাই ওকে সিঁদুর পরিয়ে দিয়েছে... বিয়ের সব জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন... বিয়ে নিয়ে কত আশা ছিল, কত যে গল্প করত... বৃষ্টির চলে যাওয়া আমাদের শত জীবনের শোক হয়ে থাকবে।”

আমি সাংবাদিকতার জীবনে হাজারো খবর কভার করেছি। কিন্তু এক নিথর দেহের ওপর সিঁদুর পরানো বর আর মৃত্যুর ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা স্ত্রীর এই বাসর—কোনোদিন হয়তো ভুলতে পারব না। কাল পর্যন্ত যা ছিল স্রেফ দুটি জীবনের বিয়ের স্বপ্ন, আজ তা এক চিরন্তন ভালোবাসার ট্র্যাজেডি হয়ে রইল। শাড়ি-গয়না আর সিঁদুর দিয়ে সাজানো সেই কনে বিদায় নিল ঠিকই, তবে শেষ বিদায়ের আগে সবুজ তার ভালোবাসাকে হারতে দেয়নি—মৃত্যুকে হারিয়ে বৃষ্টিকে অমর করে দিয়ে গেছে এক অনবদ্য স্ত্রীর মর্যাদায়।

৬ অক্টোবর, ২০২৬
নিকেতন, ঢাকা

আপনার জানা সত্য ঘটনা আমাদের জানান


 Follow Now Our Google News



লেখক সংক্ষেপ:
কবি শিমুল চৌধুরী ধ্রুব তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'নিষিদ্ধ পাণ্ডুলিপিতে' নিজের পরিচিতি সম্পর্কে লিখেছেন ❝নাম, ধাম, বয়স, জন্ম, সময়-বিবিধের বেড়াজালে আমি কোনোদিন হারাতে চাইনি এবং ভবিষ্যতেও চাইনা। বইয়ের শেষ পৃষ্টা উল্টিয়ে কবি'র পরিচয় পাওয়া কি আদৌ সম্ভব! কবি যুবক নাকি বৃদ্ধ, ধনী নাকি দরিদ্র, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত কিনা, এসব আমার কাছে বরাবরই অপ্রাসঙ্গিক। কবির পরিচয় নিহিত থাকে মূলত তার সন্তানসম কবিতায়। আমার পরিচয়ের কথা যদি বলতেই হয়, সেক্ষেত্রে আমি অতি সাধারণ এবং নগন্য এক মানুষ। এর বাইরে দেবার মতো পরিচয় আমার নেই।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন