কবিতা : অচিরুণ্যের উপাখ্যান
কবি : তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
গ্রন্থ :
প্রকাশকাল : ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ইং
রচনাকাল : ২ অক্টোবর, ২০২৬ ইং
![]() |
| অচিরুণ্যের উপাখ্যান || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ |
অচিরুণ্যের উপাখ্যান || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
তীব্র অযত্নে বেড়ে ওঠা কোনো ভবঘুরের খসখসে, ধুলো-মাখা চুলের মতো আমার জীবন; কোথাও কোনো সিঁথি নেই, নেই নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার মতো একটি নির্ভরযোগ্য হাত। দিনগুলো যেন বৃষ্টিহীন কোনো পরিত্যক্ত মাঠ, রাতগুলো নিজের মধ্যেই আটকে থাকা মরচেধরা দরজা, আর আমার ভেতরের সমস্ত জট যেন দীর্ঘদিনের অনাদরে শক্ত হয়ে যাওয়া একেকটি গিঁট। অথচ তোমাকে কতবার চেয়েছি, একটি বিশ্বস্ত চিরুনির মতো; যে আমার এলোমেলোতাকে ঘৃণা করবে না, জট দেখে বিরক্ত হবে না, বরং ধৈর্য ধরে একেকটি গিঁট খুলে দেবে। জানবে, সব অগোছালো মানুষ আসলে অগোছালো নয়, কেউ কেউ শুধু বহুদিন কারও যত্নের হাত পায়নি। তুমি আসোনি। তাই আমার ভেতরের চুলগুলো আজও বাতাসের কাছে ছেড়ে দেওয়া, স্মৃতিরা শেকড় গেড়েছে, অভিমানগুলো লতাগুল্মের মতো চারপাশ জড়িয়ে ধরেছে, আর একাকিত্ব ধীরে ধীরে আমাকে এমন এক আয়নায় পরিণত করেছে যেখানে দাঁড়িয়ে নিজেকেই আর চেনা যায় না। তোমাকে চেয়েছিলাম এমন একজন হয়ে, যে জানে চুল আঁচড়াতে গেলে দু-একটি চুল ছিঁড়বেই, তবু হাত থামিয়ে দেওয়া যায় না; কারণ জটকে বাঁচিয়ে রাখতে গেলে শেষ পর্যন্ত মানুষটাকেই হারিয়ে ফেলতে হয়। তুমি সেই হাত হওনি, তাই এখন বাতাস এলেই আমি আর চুল সামলাই না, জীবনও না; এলোমেলো হয়ে যাওয়াকে নিয়তি ভেবে নিই। শুধু কখনো কখনো মনে হয়, একজন মানুষকে গুছিয়ে দিতে খুব বেশি কিছু লাগে না, একটি বিশ্বস্ত হাত, সামান্য ধৈর্য আর এমন একজন মানুষ, যে জট খুলতে গিয়ে মানুষটাকেই ছিঁড়ে ফেলবে না। তোমাকে বহুবার সেই চিরুনি হয়ে চেয়েছিলাম, অথচ তুমি আসোনি; তাই আজও আমার জীবন এক ভবঘুরের মাথার মতো, বাতাসে উড়ে যায়, বৃষ্টিতে জট বাঁধে, রোদে পুড়ে খসখসে হয়, তবু কোনো এক অদৃশ্য অপেক্ষায় তোমার হাতের সেই প্রথম আঁচড়টির শব্দ শুনতে থাকে।
আপনার কবিতা পাঠান - kobiyal.com@gmail.com
Follow Now Our Google News
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস
- দুধ রক্ত ও নির্বাণ (২০২৬)
লেখক সংক্ষেপ:
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ। জন্ম ৪ মার্চ ১৯৯৯। শব্দের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক নীরব যাত্রার নাম এই তরুণ কবি। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। সাহিত্য ও সমাজচিন্তার এই দ্বৈত পথচলা তাঁর ভাবনায় তৈরি করেছে আলাদা এক দৃষ্টিভঙ্গি।
লেখালেখি ও বইপড়া তাঁর কাছে শুধু অভ্যাস নয়, এক ধরনের আত্মরক্ষা। একা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন; নিঃসঙ্গতার ভেতরেই তিনি খুঁজে পান ভাষার অন্তরঙ্গতা। একসময় অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জীবনের ভিন্ন মোড় তাকে নিয়ে এসেছে শব্দের মঞ্চে।
অন্যের অহেতুক আলোচনা তাঁর অপছন্দ। হয়তো সেই কারণেই তাঁর লেখায় অপ্রয়োজনীয় কোলাহল নেই; আছে সংযত অনুভব, ব্যক্তিগত স্বর, আর নীরব অথচ দৃঢ় অবস্থান।
কবিয়াল
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন