উপন্যাস       :        তাজমহল প্রথম খন্ড
লেখিকা        :         প্রিমা ফারনাজ চৌধুরী
গ্রন্থ               :         
প্রকাশকাল   :         
রচনাকাল     :         ১লা অক্টোবর, ২০২৫ ইং

লেখিকা প্রিমা ফারনাজ চৌধুরীর “তাজমহল - ১ম খন্ড” শিরোনামের এই ধারাবাহিক উপন্যাসটি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া হয়েছে। ‘কবিয়াল’ পাঠকদের জন্য উপন্যাসটি পর্ব আকারেই প্রকাশ করা হলো। লেখিকা অনবদ্য এ উপন্যাসটি ২০২৫ সালের ১লা অক্টোবর থেকে লেখা শুরু করেছেন।

তাজমহল || প্রিমা ফারনাজ চৌধুরী
তাজমহল || প্রিমা ফারনাজ চৌধুরী


তাজমহল || প্রিমা ফারনাজ চৌধুরী || প্রথম খন্ড (পর্ব - ১২)

সাতপুকুরের পানি তুলতে এসেছে বাড়ির সব মেয়েরা মিলে। শাইনার কাজিন আর তিতলিদের কাজিন সবাই। সবাই সাজগোছ করেছে। শাড়ি পরেছে। তিতলির হাতে রঙিন মাটির কলস আর গ্লাস।

তাদের বাড়িতে মোট তিনটে পুকুর। আরও চারটে পুকুরের সন্ধান আছে তাদের। পানি তোলার সময় সবাই সারি সারি করে দাঁড়ায়। একজন গ্লাসে পানি নিয়ে তার পেছনের জনকে দেয়। সে আবার তার পেছনের জনকে দেয়। এভাবে একে একে শেষে যে দাঁড়িয়ে থাকে কলস নিয়ে তার হাত অব্দি গ্লাসটা পৌঁছায়।

বাড়ির পুকুর থেকে পানি তোলা শেষ। তাসনুভা সবার পেছনে দাঁড়ানো। ধীরেধীরে হাঁটছে সে। তাদের বাড়ির সামনের রাস্তাটা সুন্দর। চওড়া পিচঢালা রাস্তা দুইপাশে সবুজ গাছগাছালি। তারপর কিছুদূর গিয়ে একটা ব্রিজ। ব্রিজের সামনে দাঁড়িয়ে তাসনুভা অনেক ছবি তুললো। তৌসিফ তার উপর তিক্তবিরক্ত। ছবি তোলার জন্য জ্বালিয়ে মারে তাকে।

তাসনুভা তাকে বিরক্ত হতে দেখে বলল,"তোমাকে আমিই ফটোগ্রাফার বানিয়েছি বুঝলে? তোমার বউ তোমাকে মাথায় তুলে রাখবে এভাবে ছবি তুলে দিলে। আরেকটা নাও।"

তৌফিক বলল,"পারব না। চল।"

তাসনুভা জেদ দেখিয়ে বলল,"তাহলে বাড়ি চলে যাচ্ছি।"

তৌসিফ ক্যামেরা তাক করে কয়েকটা ছবি তুলে নিল। তারপর ঝাড়ি মেরে বলল,"চল।"

তাদের পাশের বাড়িতে দুটো পুকুর পাওয়া গিয়েছে। সামনের পুকুরের পাড়ে একটা নারিকেল গাছ আছে। গাছটা বাঁকা হয়ে পুকুরের উপর পড়ে আছে। গাছটার উপর বসে পা নামালে পানি ছোঁয়া যায়।

তাসনুভা গাছটার গায়ে উঠে বসলো। তৌসিফকে বলল ছবি তুলতে।

ওইদিকে ঘাটে নেমে মেয়েরা পানি তুলছে। তৌসিফ ক্যামেরায় ক্লিক করবে ঠিক ওই মুহূর্তে হঠাৎ ধপাস করে শব্দ হলো। সবাই চমকে তাকালো।

ঘাটে পিছলা খেয়ে তিতলি পড়ে গেছে পুকুরে।
তাসনুভা ঘাড় ফিরিয়ে তাকাচ্ছিল শব্দ শুনে। সেও নারিকেল গাছ থেকে ধপাস করে পড়ে গেল পুকুরের পানিতে। সবাই হো হো করে হেসে উঠলো। শাওন আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলল,

"আরেকটার কান্ড দেখ।"

সবার চোখ ঘুরে গেল তাসনুভার দিকে। পানিতে ডাবুসডুবুস করছে তাসনুভা।

এদিকে তিতলির রাগে কান্না পাচ্ছে। সে পুকুরের নিচ থেকে কাঁদা তুলে নিয়ে শাওন আর তৌসিফের দিকে ছুঁড়ে মারলো। যারা ঘাটে দাঁড়িয়েছিল সবাই একে অপরকে ধাক্কা মেরে পানিতে ফেলে দিয়েছে।

তাসনুভা পানিতে দাঁড়িয়ে আছে। তৌসিফ হাসতে হাসতে বলল,"উঠে আয়। নিজেরাই তো পড়ে গেলি। আমরা কি করলাম।"

তাসনুভা হনহনিয়ে পুকুর থেকে উঠলো। পানিতে নেমে সবাই দাপাদাপি করছে।

ছোট ছোট মেয়েরা বাকি পুকুর থেকে পানি তুলতে চলে গেল। তিতলি আর তাসনুভা বাড়ি ফিরে এল।

আশরাফ, রায়হান, আনিস সবাই মোটামুটি সামনের পুকুরের ঘাটের সামনে দাঁড়িয়ে জরুরি কথাবার্তা বলছিল। আশরাফ আর আনিস একনাগাড়ে রায়হানকে কিছু একটা বলে যাচ্ছে।

তিতলি আর তাসনুভাকে এই অবস্থায় দেখে কপাল কুঁচকে তাকালো তারা। রায়হান গম্ভীরমুখে বলল,"গিয়েছিলে কোথায়?"

তাসনুভা আর তিতলি মাথা নামিয়ে দ্রুত চলে যেতে লাগলো। উত্তরটা তৌসিফ দিল,"পানি তুলতে।"

"ওদের যেতে হলো কেন? বাড়িতে মেয়ে আর নেই?"

তৌসিফ চুপ করে রইলো। তাসনুভা আর তিতলি জিভ কামড়ে দৌড়ে দৌড়ে চলে এল।

বাড়ি ফিরে দেখলো তাজউদ্দীন সিদ্দিকী রওশনআরার উপর চড়াও হয়েছেন। কারণ ক্লাবে স্টেজ ভেঙে আবার নতুন করে স্টেজ করতে দিয়েছে তাজদার। স্টেজ তার পছন্দমতো হয়নি।

আশরাফ আর আনিস তার কাজে অসন্তুষ্ট হয়েছে। কারণ স্টেজ করার দায়িত্ব পড়েছিল শাইনার দুলাভাইদের উপর। তাজদারের নতুন স্টেজ করতে দেয়া দেখে তারা অপমানিত হয়েছে।
রওশনআরা বললেন,"আমার কিছু বলার নেই এখানে। তার বিয়ে তার সিদ্ধান্ত।"

তাজউদ্দীন সিদ্দিকী বললেন,"কে কি মনে করছে সেটা অন্তত বোঝার দরকার ছিল তার। অন্তত বিয়ের অনুষ্ঠানটা সুস্থভাবে হতে দেয়া উচিত ছিল। স্টেজটা যে ভেঙে ফেলেছে তার ভাবা উচিত ছিল না স্টেজের দায়িত্বে কে ছিল? এখন ওরা বলছে ওদের জামাইদের অপমান করেছে।"

রওশনআরা বললেন,"এতকিছু ভাবলে স্টেজ ভাঙতো না।"

"ভাবেনি কেন?"

তাজউদ্দীনের মা আনোয়ারা বেগম বললেন,"তাজদারকে বলো তাদের সাথে কথা বলতে।"

তাজউদ্দীন সিদ্দিকী বলে উঠলেন,"আমি কিচ্ছু বলবো না ওকে। যা ইচ্ছে করুক।"

_____

শারমিলা রান্নাঘরে প্যানপ্যান শুরু করে দিয়েছে শাহিদা বেগমের উপর।

"তোমাদের নতুন জামাই তো দেখছি আমাদেরগুলোকে দামও দেবেনা। স্টেজটা খারাপ তো হয়নি। এভাবে অপমান করার কি দরকার ছিল? বউ তুলে নেয়নি। এখন থেকে শুরু করে দিয়েছে।"

শাবরিন বলল,"এতই যখন বাছাবাছি নিজেরা সাজাতে দেয়নি কেন শুরুতে? মানে আমাদের সবকিছুতে তাদের ভুল ধরতে হবে।"

শাইনাকে গোসল দেয়া হয়েছে। চাচীরা সবাই মিলে তার নাকে নাকফুল পরিয়ে দিয়েছে। রওশনআরা নাকফুল আর হাতের বালা আগেভাগে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

রান্নাঘরের দরজার পাশে এসে দাঁড়ালো সে। মা বোনদের কথাবার্তা শুনলো চুপচাপ। সাবিনা তাকে দেখে সবাইকে সতর্ক করলো,

"মেয়েটা এখন পার্লারে চলে যাবে। আপনারা আর ওর সামনে কিছু বলিয়েন না।"

শাহিদা বেগম তখুনি শাইনাকে দেখলো। নিজেকে সামলে নিল দ্রুত। এমন ভাব করলেন যেন সব ঠিক। কোথাও কোনো সমস্যা নেই। শাইনার দিকে এগিয়ে এসে বললেন,

"কিছু খাবিনা?"

শাইনা চুপ করে আপাদের দিকে তাকিয়ে আছে। শারমিলা আর শাবরিনও চুপ হয়ে গেছে। পেছন থেকে হঠাৎ শাওন বলল,

"মণি রেডি হ। গাড়ি এসেছে।"

বিদায়ের ক্ষণ!
শাইনার বুকের ভেতর কেমন যেন করছে। দাদীমা এসে তার মাথায় আর গালে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। বলল,

"আর যাইহোক জামাইয়ের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখবি সবার সামনে। যদি ওরা দেখে জামাই বউয়ের সম্পর্ক ভালো নেই তাহলে সবাই তোকে পেয়ে বসবে। পরের বাড়িতে কত কিছু হবে। সহজে মুখ খুলিস না।"

শাইনা বলল,"মুখ কি নিজের বাড়িতে খুলতে পেরেছিলাম কখনো?"

সবাই চুপ। শারমিলা এসে বলল,"যাওয়ার সময় এইসব কথা থাক। এই সানজু সবাইকে ডেকে আন। বল শানু চলে যাচ্ছে পার্লারে।"

শাইনার চাচাতো বোন সানজু সবাইকে ডাকতে চলে গেল। আফসার সাহেব মাত্রই ক্লাব থেকে এসেছেন। শাবরিন উনাকে ডেকে নিয়ে এল। শাইনার গায়ে সেলোয়ার-কামিজ। গাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়েছে সে। একবার নিজেদের বাড়িটার দিকে তাকালো সে। বুক ভার হয়ে এল। পরক্ষণেই মনে হলো এখানে কেউ তার আপন ছিল না।

দাদীমা কাঁদছেন। মা, বোনেরা কাঁদছে। বাবা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছেন মুখভার করে।
কিন্তু আল্লাহ শাইনাকে আজ অসম্ভব ধৈর্য দিয়েছেন। সে সবাইকে থামিয়ে দিল এককথায়।

"আমি খারাপ থাকলেও কোনোদিন তোমাদের কাছে দুঃখের কথা বলতে আসব না। বোঝা হালকা করেছ। এবার শান্তিতে ঘুমাও সবাই।"

দাদীমা বললেন,"এমন করে বলতে নাই বইন।"

শাইনা ফুঁপিয়ে উঠলো।

"খবরদার বোন ডাকবেনা।"

ফোঁপানিটা গিলে ফেলে গাড়িতে উঠে বসলো সে। তাসনুভা, তিতলি, তাসমীন, ঝিমলি সবাই এসে গাড়িতে বসলো। গাড়ি ছেড়ে দিল। কন্যা বিদায় হলো। সবাইকে কাঁদতে দেখে রওশনআরা বললেন,

"মেয়েকে প্রতিদিন দেখতে পাবে। এত কাঁদার কি আছে? যাও কাজটাজ সেড়ে নাও। ক্লাবে যেতে হবে।"

___________

চট্টগ্রাম কনভেনশন সেন্টারে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। কনেপক্ষ আর বরপক্ষের লোকজনের খাওয়াদাওয়া চলছে। যেহেতু দিনটা শুক্রবার সেহেতু জুমার পর মানুষের ঢল একটু বেশিই নেমেছে।

পার্লার থেকে কনে এসেছে আড়াইটা নাগাদ। গাড়ি থামামাত্রই আনিস আর শাওন এগিয়ে এল গাড়ির দিকে। সবাই স্যুট-বুট পরেছে। শাইনার শাড়ির রঙ মেরুন রঙের। গোল্ডেন রঙের ঘোমটা। সাজ, পোশাক সবকিছুতে একটা রাজকীয় ভাব আছে। তাসনুভা পাকিস্তানি ব্রাইডাল সাজ দিয়েছে তাকে।

শাইনাকে নিজের মনমতো সাজাতে পেরে সে খুব খুশি। সে সবাইকে জিজ্ঞেস করছে বউয়ের সাজ কেমন হয়েছে। সবাই প্রশংসা করছে। সে আর তিতলিও সুন্দর সেজেছে। দুজনেই অফ হোয়াট লেহেঙ্গা পরেছে।

তৌসিফ তার কথা শুনে বলল,"এটা পাকিস্তানি হলে বাংলাদেশী সাজ কোনটা? তোকে সবকিছুতে পাকিস্তান টানতে হবে কেন?"

তাসনুভা বলল,"পাকিস্তানি হলে সমস্যা কি? বিয়েতে সুন্দর লাগতে হবে এটাই হচ্ছে মূলকথা।"

তৌসিফের সাথে একদফা ঝগড়াঝাটি করে সে চলে গেল।

বরের গাড়ি এসে পড়লো কিছুক্ষণের মধ্যে। গাড়িতে বরের মা, খালা, চাচী সবাই। মেয়েরা সবাই গাড়ি ঘিরে ধরলো বর বরণের জন্য। তাজদারকে অফ হোয়াইট রঙের নবাবি শেরওয়ানি দিয়েছে শাইনার বাড়ি থেকে। আনিস আর আশরাফ চিন্তিত ছিল তাজদার পছন্দ করবে কিনা। পছন্দ করেছে।

মেয়েরা বর বরণ করলো। পাঁচ হাজার টাকা পেল তারা। আবার ক্লাবে প্রবেশের সময় ছেলেরা ফিতা ধরলো। ফিতা কাটার সময় ছয় হাজার ছাড়তে হলো বরপক্ষকে। তৌসিফ শাওনকে বলল,

"ফতুর বানিয়ে ছাড়লি।"

শাওনা টাকা পেয়ে হাসছে দাঁত খেলিয়ে।

তাজদার ক্লাবে প্রবেশ করামাত্রই সবাই ফুল ছিটাতে লাগলো। সে মাথার পাগড়ি খুলে তৌসিফের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে। আর পরবেনা।
স্টেজটা দেখলো হেঁটে হেঁটে। তার মনমতো হয়েছে এবার।

শাইনাকে দোতলার স্টেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাজদার আসার অপেক্ষায় ছিল সবাই। তাজদার স্টেজে উঠে পেছনে দু-হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে দেখছে সবাইকে। শাহিদা বেগম শারমিলাকে ফিসফিস করে বলল,"স্টেজ নিজের টাকায় করবে মানে করবে। কি জেদি লোক রে বাবা।"

শারমিলা বলল,"আল্লাহ জানে কি আছে আমার বোনটার কপালে।"

কিছুক্ষণ পর দেখা গেল দোতলার সিঁড়ি বেয়ে লম্বা ঘোমটা টেনে বউ নামছে। ক্যামেরাম্যানরা সবাই ঝেঁকে ধরেছে তাকে। কনের পেছনে তার বান্ধবী, ননদ আর কাজিনরা। শাইনাকে স্টেজের সামনে চলে এল।

তৌসিফ চেঁচিয়ে বলল,"ব্রো হাত বাড়িয়ে দাও।"

তাজদার সিদ্দিকী চুপচাপ দাঁড়িয়েছিল পিঠের পেছনে হাত ভাঁজ করে। তৌসিফের কথা শুনে সে ধীরপায়ে হেঁটে এগিয়ে এল। শাইনার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। ঘোমটার আড়াল থেকে হাতটার দিকে তাকালো শাইনা। পেছন থেকে সবাই বলছে হাতটা বাড়িয়ে দিতে। শতশত মানুষ তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। শাইনা ধীরেধীরে কম্পিত হাতটা বাড়িয়ে দিল। সাথে সাথে ফুলের পাপড়ি ঝড়ে পড়লো তাদের উপর। তাজদার সিদ্দিকী তার হাত ধরে টেনে তুলে নিল স্টেজের উপর।

তারপর শুরু ঘোমটা তোলার পর্ব। ক্যামেরাম্যানের কথামতো ধীরেধীরে শাইনার ঘোমটা তুলে দিল তাজদার। শাইনা একবারের জন্যও চোখ তুললো না। তাই তাজদার সিদ্দিকীরও চোখ সরানোর তাড়া ছিল না।

বিয়ে শেষ হতে হতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বধূ বিদায়ের সময়টাতে আকাশও যেন মন খারাপ করে ফেলেছে। শেষবারের মতো বরপক্ষের হাতে মেয়েকে তুলে দিলেন আফসার সাহেব। তারপর মেয়ের মাথায় হাত রাখলেন। শাইনা হাতটা নামিয়ে দিল ধীরেধীরে। তারপর একে মা বাবা, ভাই বোন সবার দিকে তাকালো। সবাই ভেবেছিল সে খুব কাঁদবে। তার কিচ্ছু হয়নি। শাইনা বরঞ্চ নিজে নিজেই গাড়িতে উঠে বসেছে। কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে তাজদার সিদ্দিকী পুরো দৃশ্যটা চুপচাপ দেখলো। আনোয়ার বেগম এসে বলল,"দাদুভাই বউ নিয়ে বাড়ি চলে যাও। দুই বাড়ির লোকদের এখন ঝামেলা লাগবে।"

তাজদার কপাল কুঁচকে তাকালো।

"কেন?"

আনোয়ারা বেগম বললেন,"তুমি স্টেজ ভেঙেছ তাই তারা খেপে আছে। কাজটা তুমি ঠিক করোনি।"

তাজদারের কপাল কুঁচকে গেল। সে বলল,

"আমি দাঁড়িয়ে আছি। বাড়ির সবাইকে গাড়িতে উঠতে বলো। এমনকি বাবাদেরকেও। ঝগড়া কিভাবে লাগে আমি দেখি।"

আপনার পছন্দের গল্পের নাম কমেন্টে জানান 


 Follow Now Our Google News



চলবে ...

১৩ তম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক/ট্যাপ করুন

প্রিমা ফারনাজ চৌধুরীর গল্প ও উপন্যাস:

লেখক সংক্ষেপ:

তরুণ লেখিকা প্রিয়া ফারনাজ চৌধুরী চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। চার ভাই বোনের মধ্যে তিনি বড়। কল্পনার ভূবনকে শব্দে রুপ দিতে লেখালেখির জগতে তার পদচারণা শুরু হয়েছে ২০২১ সালের মার্চ মাসে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রিমা পড়াশোনার পাশাপাশি যুক্ত আছেন অনলাইনভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং পেশায়। ‘প্রিয় বেগম’ উপন্যাসের মাধ্যমে তার পরিচিতি বেড়েছে। ২০২৪ সালের একুশে বইমেলায় তার প্রথম বই প্রকাশিত হয়েছে যা পাঠকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। শব্দের জগতে তার পথচলা এখনো চলমান। ভবিষ্যতে আরও পরিপক্ক, আরও বৈচিত্রময় লেখালেখির মাধ্যমে পাঠকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিতে চান তিনি।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন