একটা ফাঁকা সন্ধ্যায় আমারে খুঁজতেছি || সৈয়দা নীলিমা দোলা
বুকের মধ্যে একটা ফাঁকা সন্ধ্যা
ঝনঝনিয়ে ওঠে।
ক্যালেন্ডারে নতুন একটা দিন আসে;
আমি ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাই।
দেখি, এখনো আমাকে ঘিরে ধরে আছে একটা ছটফটে ছোট্ট মেয়ে!
হুল্লোড় করে মেয়েটা আমার ভেতরে,
আমি সেই নিরীহ কিশোরীকে বাঁচাতে চাই না।
চাই না তার পায়ে পায়ে ফেরত যেতে!
বুকের মধ্যে একটা ফাঁকা সন্ধ্যা
ঝনঝনিয়ে ওঠে।
বিস্মৃতির কাছে রেখে এসেছি আমাকে।
সাথে রেখে এসেছি কানামাছি, পুতুল খেলা
সেই আমাকে রেখে এসেছি এক জাদুর বাক্সে,
যার চাবি নেই এই সময়ের হাতে।
এই যে এখন দাঁড়িয়ে আছি আমি,
যাকে চেনে না এই শহর আর মানুষেরা।
যে জানে না জেব্রাক্রসিং কেনো গুরুত্বপূর্ণ!
বুকের মধ্যে একটা ফাঁকা সন্ধ্যা
ঝনঝনিয়ে ওঠে।
মরা থেকে একটু একটু করে বাঁচার চেষ্টা করি।
যদি একদিন ভালো লেগে যায় পৃথিবী!
আমি রোজ সকালের চায়ে চুমুক দিয়ে ভাবি,
সব্বাইকে দেখে নেবো।
ট্রাফিক মোড়ে মেরে ঝুলিয়ে রাখবো শয়তানের চামড়া।
লাভ হয় না, জানেন?
হয় মাতাল, নয় বিষণ্ণ হয়ে পা রাখি বাড়িতে।
নিজেকে একটা ছেঁড়া খাতা মনে হয়।
বুকের মধ্যে একটা ফাঁকা সন্ধ্যা
ঝনঝনিয়ে ওঠে।
আপনারা কি জীবনকে ইচ্ছামতো খরচ করতে পারছেন?
এই সন্ধ্যাগুলো ভাল কাটছে?
আপনাদেরও কি ঘিরে ধরে আছে শৈশবের দুটো ছটফটে হাত?
এতোগুলো বছর সেই কিশোরীকে নিয়ে চলেছি যে,
নিজেকে একঘেয়ে সেতারের সুর মনে হয়!
আমার বুকের মধ্যে একটা ফাঁকা সন্ধ্যা
ঝনঝনিয়ে ওঠে।
আমার চোখ-মুখ ভেঙ্গে ভেঙ্গে যাচ্ছে।
গত ২০ বছরের স্মৃতিকে কেনো মনে হয় কয়েক শতাব্দী আগে?
কেনো সময়কে মনে হয় একটা মেডিকেল কলেজের গেইট?
যেখানে শুধুই ভাঙাচোরা মানুষেরা!
তারপর আবারো
আমার বুকের মধ্যে একটা ফাঁকা সন্ধ্যা
ঝনঝনিয়ে ওঠে।
জীবনের সব নিষ্পাপ নদীর পথ পেছনে ফেলে,
চলে এসেছি বহু বহুদূর।
এখন বাকি আছে শুধুই সন্তাপ, ক্ষিধা আর ভুল ধরে বের করা।
এই যে জীবন এখানে মাফ নেই,
কারো নেই নিস্তার!
আমার মনে হয়,
মায়ের একটা দুঃখ ছিলো!
সেতারের মতো ঝংকারে সে দুঃখ জায়গা করে নিয়েছে বাবার পাঁজরে।
তাই আমি হয়েছি রক্তে-মাংসে-দুঃখে তৈরি মানুষ।
আমার তাই
বুকের মধ্যে একটা ফাঁকা সন্ধ্যা
ঝনঝনিয়ে ওঠে।
এই শহরটাকে বুকপকেটে নিয়ে অনেকেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
তাদের কাছে জানতে ইচ্ছা করে,
কবিতা কি বোঝেন আপনারা?
ভালো লাগে পড়তে?
আমার এই লেখা নির্লোভ।
আমি অনেক ভেবেছি কবিতা নিয়ে।
নিঃস্পৃহতা আর কবিতা
এই আছে আমার কাছে।
আর নেই কিছু!
আমি বৃষ্টিভেজা ঢাকার সন্ধ্যায় চুপ করে দাঁড়াই।
একটা ছোট্ট কিশোরী ছুটে যায় মাঝ রাস্তায়!
তার গালে, চুলে, ফ্রকে আর চোখে লেগে আছে,
হাওয়াই মিঠাই, বন্ধুদের সাথে বরফ-পানি খেলা!
আমার জীবনকে সে নিয়ে গেছে অনেক দূরের কোনো সময়ে!
আমি শুধুই খুঁজছি একটা সন্ধ্যা,
একটা আশাবাদ!
যা আমাকে বাঁচিয়ে দেবে!
আপনার পছন্দের কবিতা নাম কমেন্টে জানান
Follow Now Our Google News
সৈয়দা নীলিমা দোলা’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস
- মফস্বলীয় ইন্টেন্সিটি (কাব্যগ্রন্থ)
- মহামারী ড্রিমস অ্যান্ড আদার্স (কাব্যগ্রন্থ)
লেখক সংক্ষেপ:
সৈয়দা নীলিমা দোলা হলেন একজন কবি, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক। তিনি ‘মফস্বলীয় ইন্টেন্সিটি’ এবং ‘মহামারী ড্রিমস অ্যান্ড আদার্স’সহ একাধিক কাব্যগ্রন্থের লেখক। দোলা ফরিদপুর জেলা মহিলা লীগের সভাপতি মাহমুদা বেগমের মেয়ে।
কবিয়াল
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন