 |
| Blackfoot: উত্তর আমেরিকার প্রাচীন ও জীবিত এক জনগোষ্ঠী || শিমুল চৌধুরী ধ্রুব |
ব্ল্যাকফুট: উত্তর আমেরিকার প্রাচীন ও জীবিত এক জনগোষ্ঠী || শিমুল চৌধুরী ধ্রুব
ব্ল্যাকফুট কোনো বিলুপ্ত বা হারিয়ে যাওয়া জাতি নয়। তারা উত্তর আমেরিকার গ্রেট প্লেইনস অঞ্চলের একটি প্রাচীন নেটিভ আমেরিকান জনগোষ্ঠী, যারা আজও নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয় নিয়ে টিকে আছে।
ব্ল্যাকফুট বলতে আসলে একটি গোষ্ঠীসমষ্টিকে বোঝানো হয়, যাকে বলা হয় Blackfoot Confederacy। এই কনফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত চারটি প্রধান গোষ্ঠী হলো সিকসিকা (Siksika), কাইনাই বা ব্লাড (Kainai), এবং পিকানি (Piegan), যারা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশে বসবাস করে।
বসতি ও জীবনধারা
ঐতিহাসিকভাবে ব্ল্যাকফুটরা আজকের কানাডার অ্যালবার্টা প্রদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা রাজ্যের বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে বসবাস করত। তারা ছিল যাযাবর শিকারি জনগোষ্ঠী। বাইসন ছিল তাদের জীবনধারার কেন্দ্রবিন্দু—খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান ও ধর্মীয় আচারের মূল উপাদান।
ছবি ও উপনিবেশিক প্রেক্ষাপট
উনিশ ও বিশ শতকের শুরুর দিকে ইউরোপীয় ও আমেরিকান আলোকচিত্রীদের তোলা বহু ছবিতে ব্ল্যাকফুটদের দেখা যায়। ১৯১৩ সালে গ্লাসিয়ার ন্যাশনাল পার্ক অঞ্চলে তোলা ছবিগুলো বিরল হলেও সেগুলো কোনো “শেষ সাক্ষ্য” নয়। সেই সময়টি ছিল উপনিবেশিক শাসন, রিজার্ভেশন ব্যবস্থা এবং সাংস্কৃতিক দমনের যুগ। তবুও ব্ল্যাকফুটরা নিজেদের পরিচয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
গল্প, পুরাণ ও স্মৃতির সংস্কৃতি
ব্ল্যাকফুট সংস্কৃতিতে গল্প বলা অত্যন্ত পবিত্র একটি কাজ। সব গল্প সবার জন্য নয়। নির্দিষ্ট ঋতুতে এবং নির্দিষ্ট প্রবীণ ব্যক্তিরাই কেবল এই গল্পগুলো বলতে পারেন। বহিরাগতদের কাছে অনেক কাহিনি প্রকাশ না করার রীতিও প্রচলিত আছে।
এই কারণে ব্ল্যাকফুটদের পুরাণকথার বড় একটি অংশ আজও লিখিত আকারে নেই। তবে জর্জ বার্ড গ্রিনেল, ক্লার্ক উইসলার ও জেমস উইলার্ড স্কুলজের মতো নৃতাত্ত্বিকরা দীর্ঘ সময় এই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বসবাস করে কিছু সৃষ্টিতত্ত্ব ও কাহিনি লিপিবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
নাপি: স্রষ্টা ও শিক্ষক
ব্ল্যাকফুট পুরাণে নাপি (Napi) একটি কেন্দ্রীয় চরিত্র। তিনি একাধারে স্রষ্টা, শিক্ষক এবং কখনো কখনো ট্রিকস্টার চরিত্রে আবির্ভূত হন। নাপি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, জীবনের নিয়ম শিখিয়েছেন এবং বাইসনসহ নানা প্রাণীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক স্থাপন করেছেন—এমন বিশ্বাস প্রচলিত।
নাপি সম্পর্কিত কাহিনিগুলো ব্ল্যাকফুটদের নৈতিকতা, সামাজিক আচরণ ও বিশ্বদৃষ্টির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
আজকের ব্ল্যাকফুট সমাজ
আজ ব্ল্যাকফুটরা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে স্বীকৃত আদিবাসী জাতি হিসেবে বসবাস করছে। তাদের নিজস্ব রিজার্ভেশন, স্কুল, ভাষা সংরক্ষণ কর্মসূচি ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রয়েছে। ব্ল্যাকফুট ভাষা পুনরুজ্জীবনের জন্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে সক্রিয় উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।
শেষকথা বলতে গেলে, ব্ল্যাকফুট রহস্যময় কিন্তু হারিয়ে যাওয়া উপজাতি নয়। তারা ইতিহাসের চাপ, উপনিবেশিক নিপীড়ন ও সাংস্কৃতিক দমনের মধ্যেও টিকে থাকা এক জীবন্ত জনগোষ্ঠী। তাদের পুরাণ, বিশ্বাস ও জীবনদর্শন আজও উত্তর আমেরিকার আদিবাসী ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন