কবিতা          :         গোল টেবিলের কাছে মহাবিশ্বের ব্যর্থতা
কবি              :         তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
গ্রন্থ               :         
প্রকাশকাল   :         ৬ আগস্ট, ২০২৬ ইং
রচনাকাল     :         ৫ আগস্ট, ২০২৬ ইং

গোল টেবিলের কাছে মহাবিশ্বের ব্যর্থতা || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
গোল টেবিলের কাছে মহাবিশ্বের ব্যর্থতা || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ


গোল টেবিলের কাছে মহাবিশ্বের ব্যর্থতা || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ


একটি গোল টেবিল—মহাশূন্যের নির্বাসিত উপগ্রহের মতো পৃথিবীর বুকের ওপর নীরবে ঘুরে চলে; তার দুই প্রান্তে বসে থাকে দুটি মানুষ, যেন সৃষ্টির প্রথম ভুলের দুটি জীবন্ত প্রমাণ। তারা মুখোমুখি, অথচ তাদের মাঝখানে এমন এক অতল শূন্যতা শুয়ে থাকে, যেখানে ঈশ্বরও একদিন নিজের উচ্চারণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তারা একে অপরের দিকে তাকায়, যেমন বিলুপ্ত নক্ষত্র নিজের মৃত আলোকে দেখে—জানে, এই দীপ্তি কেবল বিলম্বিত মৃত্যুর সংবাদ।

তাদের নীরবতা কোনো ভাষার অনুপস্থিতি নয়; বরং সমস্ত ভাষার গণকবর। প্রতিটি অব্যক্ত বাক্য কফিনের পেরেকের মতো তাদের বুকে ঠুকে যায়, আর প্রতিটি নিশ্বাস পৃথিবীর প্রাচীনতম সমাধিক্ষেত্রে জন্ম নেওয়া এক অনাথ বাতাস, যে জানে—সকল মিলনই আসলে বিচ্ছেদের দীর্ঘ প্রস্তুতি।

সময় তাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ায় একজন অন্ধ জল্লাদের মতো। সে প্রতিদিন তাদের একই চেয়ারে বসায়, একই আলোয় রাখে, একই দৃষ্টির ভেতর নিক্ষেপ করে; অথচ প্রতিটি সন্ধ্যার গোপন প্রান্তে সে ইতিমধ্যে লিখে রেখেছে—এই দেখা কোনো ভবিষ্যৎ জন্ম দেবে না। কারণ ভবিষ্যৎ বলে কিছু নেই; আছে কেবল ক্ষয়ের ধীর, শীতল অনুশীলন।

শেষ তারাটি যখন নিভে যায়, আকাশ অন্ধকার হয় না; বরং মহাবিশ্ব নিজের শূন্যতার সাক্ষ্য নিজেই মুছে ফেলে। মানুষ ভাবে রাত শেষ হলো। অথচ শেষ হয় কেবল আরেকটি সম্ভাবনা—যে সম্ভাবনার জন্মই হয়নি। তারা উঠে দাঁড়ায়, বিপরীত দিকে হাঁটে, যেন একই কবরের ভেতর শুয়ে থাকা দুটি কঙ্কাল, যাদের মাঝে হাজার বছরের ধুলো জমে আছে, কিন্তু কোনোদিন একে অপরের অস্থি স্পর্শ করেনি।

তখন গোল টেবিলটি একা পড়ে থাকে। তার বৃত্ত যেন অনন্তের ব্যর্থ স্বাক্ষর—শুরু আছে, শেষ নেই; আবার শেষ আছে, কোনো অর্থ নেই। পৃথিবী তার চারদিকে ঘুরতেই থাকে, সভ্যতা নতুন নতুন প্রেমের ভাষা আবিষ্কার করে, শিশুরা জন্মায়, নদী সমুদ্রের দিকে যায়, নক্ষত্র ধ্বংস হয়—কিন্তু অস্তিত্বের চূড়ান্ত রায় বদলায় না: সব পথ শেষ পর্যন্ত শূন্যতার কাছেই আত্মসমর্পণ করে।

হয়তো আগামীকাল আবার দুটি মানুষ এসে বসবে। আবার কেউ ভাববে, পরিচয় জন্ম নেবে। কিন্তু নিয়তি বহু আগেই সমস্ত করমর্দনের ভেতর বিচ্ছেদের বিষ মিশিয়ে রেখেছে। আমরা কেবল সেই বিষের ধীর বিস্তারকে ‘জীবন’ নামে ডাকি; আর মৃত্যু—সে তো কেবল সেই নামের বানান সংশোধন করে।

আপনার কবিতা পাঠান - kobiyal.com@gmail.com 


 Follow Now Our Google News

তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস




লেখক সংক্ষেপ:
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ। জন্ম ৪ মার্চ ১৯৯৯। শব্দের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক নীরব যাত্রার নাম এই তরুণ কবি। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। সাহিত্য ও সমাজচিন্তার এই দ্বৈত পথচলা তাঁর ভাবনায় তৈরি করেছে আলাদা এক দৃষ্টিভঙ্গি।
লেখালেখি ও বইপড়া তাঁর কাছে শুধু অভ্যাস নয়, এক ধরনের আত্মরক্ষা। একা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন; নিঃসঙ্গতার ভেতরেই তিনি খুঁজে পান ভাষার অন্তরঙ্গতা। একসময় অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জীবনের ভিন্ন মোড় তাকে নিয়ে এসেছে শব্দের মঞ্চে।
অন্যের অহেতুক আলোচনা তাঁর অপছন্দ। হয়তো সেই কারণেই তাঁর লেখায় অপ্রয়োজনীয় কোলাহল নেই; আছে সংযত অনুভব, ব্যক্তিগত স্বর, আর নীরব অথচ দৃঢ় অবস্থান।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন