কবিতা          :         তোমাকে না পাওয়াই শান্তি
কবি              :         ইলা জাহান নদী
গ্রন্থ               :         
প্রকাশকাল   :         
রচনাকাল     :         ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ইং

তরুণ লেখিকা ইলা জাহান নদীর “তোমাকে না পাওয়াই শান্তি” কবিতাটি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট থেকে নেয়া হয়েছে। তিনি এটি ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বরে রাজধানীর হাতিরঝিলে বসে লিখেছেন।

তোমাকে না পাওয়াই শান্তি || ইলা জাহান নদী
তোমাকে না পাওয়াই শান্তি || ইলা জাহান নদী


তোমাকে না পাওয়াই শান্তি || ইলা জাহান নদী


“তোমাকে” পেয়ে গেলে-
সুখ হয়ে যেতো অ-সুখ,
প্রতিদিনের নিয়ম
যেখানে আকাঙ্ক্ষার কোনো চিঠি আর ডাকযোগে আসতো না।

“তোমাকে” পেয়ে গেলে--
জোছনার আলোয় ভেজার আনন্দ হয়তো পেতাম...
কিন্তু রাতের নিঃশব্দ হাওয়া যেভাবে গায়ে মমতার হাত রাখে,
সে মায়াবী গন্ধমাখা নিঃসঙ্গতা আর পেতাম না।

“তোমাকে” পেয়ে গেলে--
ফ্রিজ এর পানির শীতলতা বুঝতাম ঠিকই,
কিন্তু তীব্র গরমে, এক গ্লাস ঠান্ডা পানি যে
নিজেকেই নিজের মমতায় জড়িয়ে ধরার শক্তিশালী অনুভূতি- তা শিখতাম না।

একটা “তুমি” থাকলে--
অপেক্ষার অনুশীলনটা ছিঁড়ে যেতো।
নিশির আকাশে একা দাঁড়িয়ে চাঁদের সাথে জীবনের গল্প বলা
আর হতো না।

“তোমাকে” না পাওয়াতেই শিখেছি--
প্রেম। নিজের প্রতি, নিজের সমস্ত একাকীত্বের প্রতি।

একটা “তুমি” থাকলে হয়তো সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যেতাম,
তবে হারিয়ে ফেলতাম
উত্তর খুঁজতে খুঁজতে যে “আমি” তৈরি হয়েছিলাম- তাকে।

আপনার পছন্দের কবিতার নাম কমেন্টে জানান 


 Follow Now Our Google News



লেখক সংক্ষেপঃ
কবি ইলা জাহান নদীর জন্ম ঢাকায়। তিনি সাহিত্যজগতের বাইরে একজন চিকিৎসক, মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব, চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং পরিচালক। ২০২০ সালের বইমেলায় তার ‘ইচ্ছে গাছের পাতাগুলো’ ও ‘কালাই কইতরি আরণ্যক’ নামে দুটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। 
ইলা তার কাব্যগ্রন্থ ‘ইচ্ছে গাছের পাতাগুলো’য় নিজের সম্পর্কে লিখেছেন, “আব্বু (মৃত আ.ফ.ম জাকারিয়া) লন্ডন থাকার সুবাদে আমার ছোট্টবেলার একটা সময় কেটেছে নানুবাড়িতে। আব্বু ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স কমপ্লিট করে বিজনেস এর উপর বিশেষ ডিগ্রি নিতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাস্ট থেকে তাদের অর্থায়নে গিয়েছিলেন। যাক সে গল্প আরেকদিন করব।
নানাবাড়িতে আমার সমবয়সী কয়েকজন ছেলেমেয়ে ছিল। আম্মু (মুক্তা নাহার ঝর্ণা) বা নানুমনির মেন্টালিটির কারণে আমি কোনদিনই নারী, পুরুষ, ছেলে, মেয়ে এরকম আলাদা করে কিছু বুঝিনি। আমার কাছে সব ছিল নামে পরিচয়।
আমাদের নানান রকম খেলা ছিল। সুপারির ডাল এর এক কোণায় বসে থাকলে আরেকজন ডালের অন্য মাথা ধরে টানত। এটা নৌকা খেলা। একটা গোল চাকা, একটা লাঠির সাহায্যে ঘুড়িয়ে ঘুড়িয়ে নিয়ে যেতাম বহুদূর। মুরগী ঢেকে রাখার পোলো পানির নিচের মাটিতে চেপে ভেতরে হাত ঢুকিয়ে মাছ ধরা আমি ভয় পেতাম। যদি ব্যাঙ বা সাপ এসে পরে।
কলা পাতায় ডিম বা আলু রান্না তো ছিল কমন খেলা। এটিও আমার অভ্যাস ছিল না। আমার চেয়ে তারাই ভাল পারত। আমি খুলে খেতাম। ঘুরে ফিরে ওই বসে থেকে নৌকা খেলাটাই আমার অভ্যাসের বড় খেলা ছিল। মানে অলস বা অকর্মা যাকে বলে, ছোটবেলা থেকেই আমি তাই।
আমরা দুই বোন, ভাই নাই। আমি আমার ছোটবোনের নয় বছরের বড়। তাই পরিস্থিতি, আব্বু-আম্মুর ইন্সট্রাকশন আর সাহসে আমি শিখে গেছি ঘরের এবং বাইরের কাজ এমনকি দালান তোলার প্রাথমিক কাজগুলিও। বড় হবার পর আমি অনেকগুলো কাজ একই সাথে করতে শিখেছি। আমি এখন কর্মঠ আর সামাজিকও।
আসলে সত্যের একটা আলাদা শক্তি থাকে। মনের ভাল ইচ্ছার একটা আলাদা জোর থাকে। আর সব ভাল কাজের একটা ভাল আউটপুট থাকে।”

কবিয়াল

কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন