বইয়ের নাম  :         দুধ, রক্ত ও নির্বাণ
ধরন              :         কাব্যগ্রন্থ
কবি              :          তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
প্রকাশকাল   :         ২০২৬ ইং
পর্যালোচনা  :          অঞ্জন কর

কবি তাওহীদাহ্ রহমান নূভের ‘দুধ, রক্ত ও নির্বাণ’ শিরোনামের কাব্যগ্রন্থটি ২০২৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে। এটি প্রকাশ করেছে কোটাল’স প্রকাশনী। অসম্ভব সুন্দর কবিতামালার এই গ্রন্থটি নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন কবি ও সাংবাদিক অঞ্জন কর।
দুধ, রক্ত ও নির্বাণ: ক্ষতের ভেতর থেকে আলো খোঁজার কাব্যভ্রমণ
দুধ, রক্ত ও নির্বাণ: ক্ষতের ভেতর থেকে আলো খোঁজার কাব্যভ্রমণ


দুধ, রক্ত ও নির্বাণ: ক্ষতের ভেতর থেকে আলো খোঁজার কাব্যভ্রমণ || অঞ্জন কর


কিছু বই প্রচ্ছদেই নিজের মেজাজ জানিয়ে দেয়। ‘দুধ, রক্ত ও নির্বাণ’ তেমনই একটি বই। কালো কালির আঁচড়ে আঁকা পাহাড়ি ঢাল, তার গা বেয়ে নেমে আসা সাদা কুয়াশার রেখা, মাঝখানে রক্তলাল একটি বৃত্ত, যা থেকে সরু ধারায় রক্ত গড়িয়ে পড়ছে নিচের কালো জলে। সেই জলের বুকে ফুটে আছে একটি সাদা পদ্ম। আকাশে উড়ছে কয়েকটি পাখি। বইয়ের নামের তিনটি শব্দই যেন ছবি হয়ে উঠেছে; সাদা ধারা দুধ, লাল ধারা রক্ত, আর জলের ওপর স্থির পদ্মটি নির্বাণের ইঙ্গিত।

এই প্রচ্ছদ পাঠককে আগেই জানিয়ে দেয়, ভেতরে সহজ সান্ত্বনার কবিতা নেই। আছে ক্ষত, আছে ইতিহাসের দাগ, আর আছে সেই দাগের ভেতর থেকে আলো খুঁজে নেওয়ার জেদ। তাওহীদাহ্ রহমান নূভের এই কাব্যগ্রন্থ পড়তে গিয়ে বারবার মনে হয়েছে- কবি বেদনাকে এড়িয়ে যাননি, তার চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়েছেন।

নূভের জন্ম ৪ মার্চ। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে তিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে পড়ছেন। পাশাপাশি অনলাইন গণমাধ্যম 'ঢাকা রিপোর্টার'-এ সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন।

বইয়ের কবি পরিচিতিতে এই দ্বৈত পথচলাকে বলা হয়েছে সাহিত্য ও সমাজচিন্তার যাত্রা, যা তাঁর ভাবনায় এক আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। কথাটা বইয়ের পাতায় পাতায় জ্বলন্ত বাংলা সাহিত্যের পড়ুয়া হিসেবে ভাষার প্রতি তাঁর মনোযোগ স্পষ্ট, আর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র ও সংবাদমাধ্যমের কর্মী হিসেবে রাষ্ট্র, ক্ষমতা ও সমাজের প্রশ্ন তাঁর কবিতায় বারবার ফিরে এসেছে।

পরিচিতিতে আরও জানা যায়, লেখালেখি ও বইপড়া তাঁর কাছে শুধু অভ্যাস নয়, এক ধরনের আত্মরক্ষা। একা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন, নিঃসঙ্গতার ভেতরেই খুঁজে পান ভাষার অন্তরঙ্গতা। একসময় অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল, পরে জীবনের ভিন্ন মোড় তাঁকে নিয়ে এসেছে শব্দের মধ্যে। এই নিঃসঙ্গ, অন্তর্মুখী মেজাজের ছাপ কবিতাগুলোর স্বরেও পাওয়া যায়।

সূচিপত্রে চোখ রাখলেই বোঝা যায়, বইটির পরিধি কতটা বিস্তৃত। শিরোনামগুলো একেকটি ছোট্ট ধাঁধার মতো। অধিকাংশ শিরোনামেই এমন এক ধরনের তাত্ত্বিক ও বৌদ্ধিক আবহ রয়েছে, যা কবিতার বক্তব্য সম্পর্কে পাঠককে আগাম ধারণা দেয়। প্রতিটি শিরোনাম যেন নিজস্ব এক রহস্যময় জগৎ তৈরি করে, যেখানে শব্দ, প্রতীক, অনুভূতি ও চিন্তার নানা স্তর পাঠককে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।

শিরোনামের এই তালিকা থেকেই কবির ভাষাজগতের একটা আন্দাজ মেলে। এখানে বিজ্ঞানের পরিভাষা যেমন অ্যান্টিমেট্রিক, অক্ষাংশ ও অ্যাস্ট্রাল, ধর্মীয় প্রতীক যেমন যিশু, ঈশ্বর, নির্বাণ ও অর্ঘ্য, রাজনৈতিক শব্দ যেমন ইশতেহার, রাষ্ট্র ও শৌর্য এবং প্রকৃতির উপাদান যেমন শিমুল, শস্য, পাতা ও মুকুলের পাশাপাশি শরীরী চিত্রকল্পও স্থান পেয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত শব্দযুগলই বইটির প্রধান বৈশিষ্ট্য। বইয়ে কবিতা ও গদ্যকবিতা পাশাপাশি রয়েছে। কিছু লেখা ছন্দের টানে এগিয়েছে, আবার কিছু লেখা ভাবনার স্রোতে প্রবাহিত হয়েছে।

বিষয়বস্তুর পাশাপাশি সুরের বৈচিত্র্যও বইটিকে স্বতন্ত্র করেছে। কোথাও শৈশবের স্মৃতি উঠে এসেছে সহজ ও খেলাচ্ছলে, কোথাও ব্যক্তিগত শোক গভীর বিষণ্নতা তৈরি করেছে, আবার কোথাও প্রকাশ পেয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদ। এই বহুমাত্রিকতা বইটির পাঠ-অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেছে এবং পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।

বইয়ের ফ্ল্যাপে বলা হয়েছে, কিছু কবিতা কেবল কবিতা নয়, তারা সময়ের শরীরে রেখে যাওয়া ক্ষতের ভাষা। এই বইয়ে বেদনা নিছক ব্যক্তিগত নয়। রাষ্ট্রের অন্যায়, ইতিহাসের স্মৃতি, পারিবারিক ক্ষত, সামাজিক ভণ্ডামি এবং সভ্যতার অন্তর্গত ক্ষুধা, সবকিছু এসে মিশেছে কবির নিজস্ব আত্মস্বীকারোক্তির সঙ্গে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত যন্ত্রণা এখানে আলাদা কোনো কুঠুরিতে আটকে থাকেনি; ধীরে ধীরে তা সমাজ, সভ্যতা, ধর্ম, রাষ্ট্র, প্রেম ও মানুষের অস্তিত্বের বৃহত্তর প্রশ্নে গিয়ে মেশে।

বইয়ের তিনটি নামশব্দকে এই ভাবনার সূত্র ধরে পড়া যায়। ফ্ল্যাপের ভাষ্যে, এখানে জীবন দুধ হয়ে ওঠে, ইতিহাস হয়ে ওঠে রক্ত, আর নির্বাণ হয়ে ওঠে এক অনবরত প্রশ্ন। নির্বাণ এখানে কোনো চূড়ান্ত মুক্তি নয়, বরং এমন এক প্রশ্ন যার উত্তর মেলে না, অথচ যা মানুষকে বারবার ভাবায়।

‘এভাবেও ঈশ্বর দেখা যায়’ লেখাটি শুরু হয় ‘কিছু আগুন আছে’ দিয়ে; যা চোখের, ঠোঁটের কিংবা গোঁফের হতে পারে। তারপর একের পর এক আসে মেঘের শব্দ, ঝর্ণা, হাসি, মহামারী, শিউলির গন্ধ, শার্টে লেগে থাকা ঘাম। ছোট ছোট চিত্রের এই মিছিল শেষ হয় এক তীক্ষ্ণ উপলব্ধিতে: অধিকারহীনতা সবচেয়ে বড় অধিকার। লেখাটির বিশেষত্ব এর মেজাজে। ঈশ্বর এখানে মন্দির বা মসজিদের চৌহদ্দিতে নেই। তাঁকে দেখা যায় জানালা দিয়ে আকাশ দেখার মতো, আয়নায় নিজের বাষ্পায়িত মুখে, এমনকি গর্ভবতী নারীর নিজের উঁচু পেট দেখার মুহূর্তে। জাত সংকটে মন্দিরে যাওয়া বারণ, এমন ইঙ্গিতে সামাজিক বিভাজনের প্রশ্নও হালকাভাবে ছুঁয়ে যায়।

‘জীর্ণ যিশুর মুখ’ বইয়ের প্রথম কবিতা, এবং সম্ভবত সবচেয়ে ভারী। তোমার দিকে তাকালেই আমার চোখে ভেসে ওঠে জীর্ণ যিশুর মুখ, এই পঙ্‌ক্তি ফিরে ফিরে আসে ধ্রুবপদের মতো। কবিতায় যিশুর ছবির পাশে আসে কুরুক্ষেত্র, গীতা, অর্জুনের বিষাদ, আর কুরআনের সূরার আভাস। ধর্ম, যুদ্ধ আর নীরবতার এই মিলনে কবিতাটি এক বিশাল ক্যানভাসে ছড়িয়ে পড়ে। রাজা কাঁদে, প্রজা কাঁদে, আর ঈশ্বর নীরব থেকে শোনেন, এই ছবি পাঠককে থমকে দেয়।

‘মুড়ির দাঁত, শাদাটে ভূত! কবিতা হয়ে যাওয়ার দুর্ঘটনা’ একেবারে ভিন্ন মেজাজের লেখা। শৈশবের একটি সরল স্মৃতি দিয়ে এর শুরু: ছোটবেলায় মুড়ি খাওয়ার সময় ঠোঁটের দুপাশে দুটো মুড়ি আটকে নিজেকে ভূত বলে দাবি করা। দাঁতের মতো সেই মুড়ি নিয়ে খেলা, হাসা, ভয় দেখানো। কিন্তু লেখা এগোতে এগোতে স্মৃতির সেই খেলা গিয়ে মেশে আয়নার সামনে নিজেকে দেখার মুহূর্তে, আর শেষে হয়ে ওঠে কবিতা হয়ে ওঠার এক রূপক। শিরোনামের ‘দুর্ঘটনা’ শব্দটি এখানে চমৎকার ব্যঞ্জনা তৈরি করে, কবিতা যেন পরিকল্পনা করে আসে না, ঘটে যায়।

‘অ্যাস্ট্রাল হার্বেরিয়ামের ধূসর-সুবাস তত্ত্ব’ বইয়ের সবচেয়ে কোমল লেখাগুলোর একটি। এখানে এক বকুল ফুলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শোকের আখ্যান: ট্রেনিং সেন্টারের লম্বা ঘোড়ার আস্তাবলে বাঁধা সবচেয়ে সুদর্শন বকুল, যার চোখে ছিল শেকলের ভেতরেও মুক্তির উজ্জ্বলতা। বকুল শুকিয়ে গেলে কবি তাকে হারাননি, নিজের লম্বা চুলের ফাঁকে ফাঁকে তার সুবাস গেঁথে নিয়েছেন, যেন মাথার ভেতর খুলে রেখেছেন এক গোপন বাগান। হারানোর এই বিবরণ কখনোই চিৎকার করে না, সুগন্ধি শোকের মতো ধীরে ছড়ায়। লেখার শেষ দিকের পঙ্‌ক্তিগুলোয় ভালোবাসার ধারণা নিয়ে একটি গভীর উপলব্ধি আছে: কিছু ভালোবাসা ফুল হয়ে ফোটে না, তারা মানুষকে কূলে ঠেকিয়ে দেয়, আর চলে যাওয়ার সময় রেখে যায় চিরস্থায়ী এক প্রাণ-প্রতিমা।

‘বিদ্ধ মলাট ও কর্দমাক্ত আবর্তন’ লেখায় কবি অতীতের প্রভাব ও তার থেকে বেরিয়ে আসার অসহায় চেষ্টাকে তুলে ধরেছেন। তাঁর কল্পনায় অতীত যেন মরা মাছের মতো, যা নতুন সময়ের স্রোতেও বারবার ফিরে আসে। ইতিহাসকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা থাকলেও অতীতের স্মৃতি ও প্রভাব আমাদের পিছু ছাড়ে না। একসময় স্পষ্ট হয়, আমরা যতই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি না কেন, অতীতের বেড়াজালেই আটকে আছি। বড়শিতে বিদ্ধ দুটি প্রাণের ছটফটানি দিয়ে কবি এই বন্দিদশা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে ফুটিয়ে তুলেছেন। শেষ পর্যন্ত অতীতের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে না পাওয়ার বেদনাই লেখাটিতে গভীর হয়ে ওঠে।

‘চেতনার লবণাক্ত রস’ কবিতায় শরীরের নানা অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে কবি শোক, বেদনা ও শূন্যতার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। চোখ, কপাল, মাথা আর চোখের জলের চিত্রকল্পে ফুটে উঠেছে মানুষের ভেতরে জমে থাকা কষ্ট। এই পৃথিবীতে কেউ অন্যের কান্না শুনতে চায় না। বুকের ভেতর অসহনীয় যন্ত্রণা জমলেও তার কোনো শব্দ হয় না, ঝরে পড়ে শুধু রক্ত। এমন চিত্রকল্পের মধ্য দিয়ে কবি মানুষের নীরব কষ্টকে তুলে ধরেছেন। কবিতার শেষাংশে মাসীমার পোড়া শরীর, কাটা মাথা এবং দুটি নদীর এক সমুদ্রে মিশে যাওয়ার বেদনাময় চিত্র এক বিষণ্ন আবহ তৈরি করেছে, যা পাঠকের মনে গভীর ছাপ ফেলে।

‘নির্বীজ শৌর্যের প্রতি এক নিরুদ্দেশ ইশতেহার’ লেখাটিতে কবি প্রতিবাদের এক ভিন্ন রূপ তুলে ধরেছেন। এখানে সরাসরি প্রতিবাদ না করে পরাজয় মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। লেখার কথক স্বেচ্ছায় হার স্বীকার করেন এমন এক শক্তির কাছে, যা বীরত্বের দাবি করলেও ধ্বংস ছাড়া আর কিছু দিতে পারে না। এই আত্মসমর্পণ আসলে ক্ষমতার অহংকার ও মিথ্যা বীরত্বের প্রতি তীব্র ঘৃণার প্রকাশ। যে শক্তি নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারে না, শুধু ধ্বংস করতে জানে, তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকাটাই যেন লজ্জার। লেখাটির মূল বক্তব্য হলো, কখনো কখনো মাথা নত করার মধ্য দিয়েও সবচেয়ে কঠিন প্রতিবাদ জানানো যায়।

কবি তাওহীদাহ্ রহমান নূভের ভাষা ঘন, চিত্রময় এবং কখনো কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে ভারী। তিনি সংস্কৃতঘেঁষা তৎসম শব্দ, বৈজ্ঞানিক পরিভাষা আর শরীর-নির্ভর চিত্রকল্প পাশাপাশি বসাতে ভয় পান না। তাঁর বাক্য প্রায়ই দীর্ঘ, স্তরে স্তরে সাজানো, একটি রূপকের ভেতর আরেকটি রূপক ঢুকিয়ে দেওয়া।

বইটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো রূপকের ঘনত্ব ও অভিনব ব্যবহার। গলিত মৎস্য, বড়শি, হার্বেরিয়াম, আস্তাবলের বকুল কিংবা জীর্ণ যিশুর মতো চিত্রকল্পগুলো শুধু অলংকার হিসেবে আসেনি, বরং লেখার মূল ভাব ও বক্তব্য নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ধর্ম ও পুরাণের নানা অনুষঙ্গও বইটিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। খ্রিস্টীয়, হিন্দু, ইসলামি ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যের প্রতীকগুলো কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের বিশ্বাস, সংকট ও অভিজ্ঞতার প্রকাশ ঘটিয়েছে। একইভাবে চোখ, ঠোঁট, দাঁত ও গর্ভের মতো শারীরিক অনুষঙ্গের সঙ্গে প্রকৃতির নানা উপাদান মিশে কবিতাগুলোকে একদিকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, অন্যদিকে দার্শনিক করে তুলেছে।

যাঁরা সহজ ছন্দের হালকা কবিতা খোঁজেন, এই বই তাঁদের জন্য নয়। কিন্তু যাঁরা ঘনবুননের, ভাবনাপ্রধান, প্রতীক ও রূপকে ভরা কবিতা পড়তে ভালোবাসেন; এই বই তাদের জন্য। যাঁরা কবিতার মধ্যে শুধু আবেগের প্রকাশ নয়; জীবন, সমাজ ও বাস্তবতা নিয়ে গভীর চিন্তা এবং নানা প্রশ্নের খোরাক খোঁজেন- তাঁদের জন্য বইটি এক মনোযোগী পাঠ দাবি করে। সমকালীন বাংলা কবিতার নতুন কণ্ঠস্বর খুঁজতে চাওয়া পাঠকের কাছেও এটি আগ্রহের বিষয় হতে পারে।

‘দুধ, রক্ত ও নির্বাণ’ নিছক প্রেম বা বিষাদের কবিতার বই নয়। এটি এক আহত মানুষের চোখে দেখা পৃথিবীর আয়না, যেখানে জীবন দুধ হয়ে ওঠে, ইতিহাস হয় রক্ত, আর নির্বাণ হয়ে ওঠে এক অনবরত প্রশ্ন।

ক্ষত আর আলো, ধ্বংস আর সম্ভাবনা, এই দুইয়ের টানাপোড়েনই তাওহীদাহ্ রহমান নুভের কবিতার মূল সুর। বইটি সবার জন্য সহজ পাঠ নয়। কিন্তু যাঁরা ধৈর্য ধরে পড়বেন, তাঁরা এমন এক কবির সন্ধান পাবেন যিনি শব্দ দিয়ে ক্ষতকে স্পর্শ করতে জানেন এবং ক্ষতের ভেতর থেকেই আলো তুলে আনতে চান।

আপনার কবিতা পাঠান - kobiyal.com@gmail.com 


 Follow Now Our Google News

অঞ্জন কর’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস
  • শেষ রাতের পরে





লেখক সংক্ষেপ:
কবি ও সাংবাদিক অঞ্জন কর বর্তমানে ‘ভিউজ বাংলাদেশ’ নামের একটি অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যমে কর্মরত আছেন।  তার প্রকাশিত কবিতার বই ‘শেষ রাতের পরে’।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন