কবিতা          :         চেতনার লবনাক্ত রস
কবি              :         তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
গ্রন্থ               :         
প্রকাশকাল   :         ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
রচনাকাল     :         ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ইং

কবি তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র লেখা ‘চেতনার লবনাক্ত রস’ শিরোনামের কবিতাটি তার ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া হয়েছে। কবির অনুমতি সাপেক্ষে এই কবিতাটি কবিয়াল পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।

চেতনার লবনাক্ত রস || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
চেতনার লবনাক্ত রস || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ


চেতনার লবনাক্ত রস || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ


বুকের ওপর ফুটে ওঠে দুটো টনটনে চোখ,
আমি দেখি—
তোমার মুন্ডানো মাথা থেকে ঝরে পড়ে নীরব শোক।
কপালের ভাঁজে ভাঁজে জমে থাকা অপেক্ষার দাগ,
কেউ কোনোদিন জিজ্ঞেস করেনি—
তুমি আছো তো? নাকি নিখোঁজ ভাগ্যর পাতায় নাম?

এই শহর হাসে,
আর তোমার কপালে শুধু লবণের ক্ষত!
এই পৃথিবী শোনে না—
কারো বুক ফেটে গেলে শব্দ হয় না, হয় রক্ত!

ওই চেতনার লবণাক্ত রস—
ঝরে পড়ে, ঝরে পড়ে!
কারো চোখে জল নেই—
শুধু আগুন জমে ঘরে!
মাসীমার পোড়া শরীর,
আর তোমার কাটা মাথা—
দুইটা নদী এক সমুদ্রে,
যেখানে কান্না মানা!

কুমোরপাড়ার মাসীমা জানে মাটির ভাষা,
তার হাতের রেখা ভাগ্য না—
ওটা শ্রমের চিরকুট, আগুনের পাপড়ি, ক্ষয় হওয়া আশা।
ভোরের অন্ধকারে উঠে—
সে পাতিল বানায়,
তার বুকের ভেতর সন্তানের কান্না
আর চুলার ধোঁয়া একসাথে ঘুমায়।

কেউ তার দাগ পড়তে শেখেনি,
কারো পাঠ্যবইতে তার জীবন নেই!
শুধু দারিদ্র্যের হাতে লেখা
একটা আগুনের সই!

ওই চেতনার লবণাক্ত রস—
ঝরে পড়ে, ঝরে পড়ে!
কারো চোখে জল নেই—
শুধু আগুন জমে ঘরে!
মাসীমার পোড়া শরীর,
আর তোমার কাটা মাথা—
দুইটা নদী এক সমুদ্রে,
যেখানে কান্না মানা!

আমি দেখি—
আর দেখার মধ্যেই অভিশাপ জন্মায়।
আমি দেখি—
কারা তোমাদের নিঃশব্দ রাখে, কারা মিথ্যা ঈশ্বর সাজায়।
আমি দেখি—
কারা রক্ত চুষে খায়, কারা সভ্যতার মুখোশ পরে।
আর তোমার মাথার লবণ
আমার চোখে ঢুকে গিয়ে
একটা বিদ্রোহের গান হয়ে ওঠে!

চেতনার লবণাক্ত রস—
এই দেশ গিলে খায়!
শ্রমিকের দেহ পোড়ে,
আর শহর উৎসব সাজায়!
আমি বুকের ওপর দুটো চোখ রেখে
শুধু দেখছি, দেখছি—
একটা পাতিল ভরে উঠছে,
আর একেকটা মানুষ হারিয়ে যাচ্ছি…!


আপনার কবিতা পাঠান - kobiyal.com@gmail.com 


 Follow Now Our Google News

তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস




লেখক সংক্ষেপ:
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ। জন্ম ৪ মার্চ ১৯৯৯। শব্দের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক নীরব যাত্রার নাম এই তরুণ কবি। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। সাহিত্য ও সমাজচিন্তার এই দ্বৈত পথচলা তাঁর ভাবনায় তৈরি করেছে আলাদা এক দৃষ্টিভঙ্গি।
লেখালেখি ও বইপড়া তাঁর কাছে শুধু অভ্যাস নয়, এক ধরনের আত্মরক্ষা। একা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন; নিঃসঙ্গতার ভেতরেই তিনি খুঁজে পান ভাষার অন্তরঙ্গতা। একসময় অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জীবনের ভিন্ন মোড় তাকে নিয়ে এসেছে শব্দের মঞ্চে।
অন্যের অহেতুক আলোচনা তাঁর অপছন্দ। হয়তো সেই কারণেই তাঁর লেখায় অপ্রয়োজনীয় কোলাহল নেই; আছে সংযত অনুভব, ব্যক্তিগত স্বর, আর নীরব অথচ দৃঢ় অবস্থান।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন