কবিতা          :         মুড়ির দাঁত, শাদাটে ভূত! কবিতা হয়ে যাওয়ার দুর্ঘটনা
কবি              :         তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
গ্রন্থ               :         
প্রকাশকাল   :         ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
রচনাকাল     :         ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ইং

কবি তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র লেখা ‘মুড়ির দাঁত, শাদাটে ভূত! কবিতা হয়ে যাওয়ার দুর্ঘটনা’ শিরোনামের কবিতাটি তার ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া হয়েছে। কবির অনুমতি সাপেক্ষে এই কবিতাটি কবিয়াল পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।

মুড়ির দাঁত, শাদাটে ভূত! কবিতা হয়ে যাওয়ার দুর্ঘটনা || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
মুড়ির দাঁত, শাদাটে ভূত! কবিতা হয়ে যাওয়ার দুর্ঘটনা || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ


মুড়ির দাঁত, শাদাটে ভূত! কবিতা হয়ে যাওয়ার দুর্ঘটনা || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ


ছোটোবেলায় মুড়ি খাওয়ার সময় আমি ঠোঁটের দু’পাশে দুটো মুড়ি গুঁজে নিজেকে ভূত বলে দাবি করতাম। তখন ভূত হওয়া ছিলো একটা খেলা—একটা শিশুসুলভ বিজয়। ভয় দেখিয়ে হাসা, হাসতে হাসতে বেঁচে থাকা। উঠোনের বাতাস পর্যন্ত যেন একটু কেঁপে উঠতো, আর আমি মনে মনে ভাবতাম—দেখো, আমি কতটা ভয়ংকর!

আজও মাঝে মাঝে সেই অভ্যাসটা ফিরে আসে। আমি আবার ঠোঁটের পাশে মুড়ি বসাতে যাই, কিন্তু দেখি—সবকিছু কেমন আবছা হয়ে গেছে। ঠোঁট আগের মতো টানে না, হাসি আগের মতো জ্বলে না। সময় যেন আমার মুখের রেখাগুলোকে মুছে দিয়েছে, আমার শৈশবকে পিষে দিয়েছে এক অদৃশ্য চাকার নিচে।

তারপর আমি বাটির পানিতে মুখ নামাই। পানির ভিতর একটা মুখ দেখি—কিন্তু সেটা আমার মুখ নয়, আমার মুখের ভিতর জমে থাকা ছাই। আর সেই ছাইয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে কতগুলো শাদাটে দুঃখ—ভূতের মতো। ওদের চোখ নেই, তবু ওরা তাকিয়ে থাকে। ওদের মুখ নেই, তবু ওরা কথা বলে। ওদের কোনো শরীর নেই, তবু ওরা আমার বুকের উপর বসে থাকে, যেন জন্মগত অধিকার নিয়ে বসে থাকা কিছু শীতল অভিশাপ।
আমি তখন বুঝি, ভূত আমি ছিলাম না—ভূত আমি হয়ে গেছি।

আমি মুড়ির মতো করে দুঃখগুলো গুনতে শুরু করি। এক… দুই… তিন… প্রতিটা দুঃখ যেন একটা করে দাঁত। আমি ভাবি, এই দাঁত দিয়ে আমি আবার ভয় দেখাবো। আবার মানুষকে দেখাবো আমি হারাইনি, আমি ভাঙিনি। কিন্তু দাঁত তৈরি হয় না। দাঁত তৈরি হওয়ার আগেই দুঃখগুলো কেমন করে যেন শব্দ হয়ে যায়। বাক্য হয়ে যায়। দীর্ঘশ্বাস হয়ে যায়। আর তারপর—একটা কবিতার মতো কিছু একটা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।

আমি বুঝে যাই, এটা কর্মফল। তবে ধর্মগ্রন্থের মতো কর্মফল না—এটা জীবনের কর্মফল। শৈশবে যে ভূত আমি অভিনয় করেছিলাম, বড় হয়ে সেই ভূতই আমাকে অভিনয় করাচ্ছে। আমি এখন আর ঠোঁটের পাশে মুড়ি বসাই না—আমি ঠোঁটের পাশে শব্দ বসাই। কারণ আমার কাছে আর ভয় দেখানোর দাঁত নেই, আছে শুধু কবিতা।

আর কবিতা… কবিতা হলো সেই দাঁত, যা দুঃখকে কামড়ে ধরে। কবিতা হলো সেই ভূত, যে নিজেই নিজের ভয়।


আপনার কবিতা পাঠান - kobiyal.com@gmail.com 


 Follow Now Our Google News

তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস




লেখক সংক্ষেপ:
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ। জন্ম ৪ মার্চ ১৯৯৯। শব্দের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক নীরব যাত্রার নাম এই তরুণ কবি। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। সাহিত্য ও সমাজচিন্তার এই দ্বৈত পথচলা তাঁর ভাবনায় তৈরি করেছে আলাদা এক দৃষ্টিভঙ্গি।
লেখালেখি ও বইপড়া তাঁর কাছে শুধু অভ্যাস নয়, এক ধরনের আত্মরক্ষা। একা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন; নিঃসঙ্গতার ভেতরেই তিনি খুঁজে পান ভাষার অন্তরঙ্গতা। একসময় অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জীবনের ভিন্ন মোড় তাকে নিয়ে এসেছে শব্দের মঞ্চে।
অন্যের অহেতুক আলোচনা তাঁর অপছন্দ। হয়তো সেই কারণেই তাঁর লেখায় অপ্রয়োজনীয় কোলাহল নেই; আছে সংযত অনুভব, ব্যক্তিগত স্বর, আর নীরব অথচ দৃঢ় অবস্থান।

কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন