কবিতা : নির্বাসিত মুকুলের শেষ সঞ্চয়পত্র
কবি : তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
গ্রন্থ :
প্রকাশকাল : ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
রচনাকাল : ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
কবি তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র লেখা ‘নির্বাসিত মুকুলের শেষ সঞ্চয়পত্র’ শিরোনামের কবিতাটি তার ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া হয়েছে। কবির অনুমতি সাপেক্ষে এই কবিতাটি কবিয়াল পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।
![]() |
| নির্বাসিত মুকুলের শেষ সঞ্চয়পত্র || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ |
নির্বাসিত মুকুলের শেষ সঞ্চয়পত্র || তাওহীদাহ্ রহমান নূভ
চূড়ান্ত অভাবের দিনে ধন হারানো যেন স্বর্গচ্যুত আত্মার নীরব পতন—যেখানে আলো ছিল একসময়, এখন সেখানে শুধু অনন্ত অন্ধকারের শূন্যতা। মনে হয় পকেটের ভেতর থেকে শেষ আশ্রয়টুকুও খুলে পড়ে গেছে, যেমন কোনো নিষিদ্ধ আদেশে নক্ষত্রেরা তাদের আসন ছেড়ে দেয়। আমি দু’টি হাত জড়ো করে ঘষতে থাকি, যেন এই হাতের রেখাগুলো কোনো অদৃশ্য বিধাতার লেখা কঠিন শাস্ত্র—ইচ্ছে করে সেগুলো মুছে ফেলি, কারণ নিয়তির লেখা যদি অশ্রু দিয়ে গাঁথা হয়, তবে তা পড়ার সাহস কই?
ঝুমঝুম অন্ধকার নেমে আসে চারপাশে, যেন আকাশ নিজেই ক্লান্ত হয়ে পতনের দিকে ঝুঁকে পড়ে, আর সেই গাঢ় অন্ধকারে আমি জীবনকে ডাকি—নরম হও, হে অদৃশ্য শাসক, নত হও এই ক্ষুদ্র অস্তিত্বের সামনে। কারণ আমি তো সেই আমের মুকুল—ঝড়ের করাল নিঃশ্বাসে কাঁপতে থাকা এক অসম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি; আমার জন্ম বসন্তের মৃদু আশায়, অথচ প্রতিটি বাতাস আমাকে শেখায় ঝরে পড়ার প্রাচীন বিধান। তবুও আমি চাই ফুটতে, চাই ফলতে—যেমন ধ্বংসের ভেতরেও কোনো এক ক্ষীণ আলো নিজের অস্তিত্ব জাগিয়ে রাখে, যেমন পতিত ফেরেশতা তার নির্বাসনে থেকেও স্বর্গের স্মৃতি ভুলতে পারে না।
আর ভালোবাসা—তা আমার কাছে শেষ সঞ্চয়পত্রের মতো, যেখানে লেখা থাকে বেঁচে থাকার শেষ স্বাক্ষর। তার ভেতর লুকিয়ে থাকে এমন এক মূল্য, যা বাজার জানে না, সময় বোঝে না, কিন্তু অস্তিত্ব জানে। সেটি হারালে আমি কেবল দারিদ্র্যে পতিত হই না—আমি পতিত হই নিজের ভেতরের স্বর্গ থেকে, নিঃস্ব হয়ে যাই আমারই আলোয়।
তাই আমি তোমাকে আঁকড়ে রাখি সেই শেষ সঞ্চয়ের মতো—যেমন কোনো নির্বাসিত প্রাণ আঁকড়ে ধরে তার শেষ প্রার্থনা, শেষ নাম, শেষ ঈশ্বরের দিকে ফেরা পথটুকু।
আপনার কবিতা পাঠান - kobiyal.com@gmail.com
Follow Now Our Google News
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ’র কাব্যগ্রন্থ, গল্প ও উপন্যাস
লেখক সংক্ষেপ:
তাওহীদাহ্ রহমান নূভ। জন্ম ৪ মার্চ ১৯৯৯। শব্দের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক নীরব যাত্রার নাম এই তরুণ কবি। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। সাহিত্য ও সমাজচিন্তার এই দ্বৈত পথচলা তাঁর ভাবনায় তৈরি করেছে আলাদা এক দৃষ্টিভঙ্গি।
লেখালেখি ও বইপড়া তাঁর কাছে শুধু অভ্যাস নয়, এক ধরনের আত্মরক্ষা। একা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন; নিঃসঙ্গতার ভেতরেই তিনি খুঁজে পান ভাষার অন্তরঙ্গতা। একসময় অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জীবনের ভিন্ন মোড় তাকে নিয়ে এসেছে শব্দের মঞ্চে।
অন্যের অহেতুক আলোচনা তাঁর অপছন্দ। হয়তো সেই কারণেই তাঁর লেখায় অপ্রয়োজনীয় কোলাহল নেই; আছে সংযত অনুভব, ব্যক্তিগত স্বর, আর নীরব অথচ দৃঢ় অবস্থান।
কবিয়াল
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন