উপন্যাস        :         অঘটনের প্রত্যাবর্তন
লেখিকা          :         সাইফ নাসির জিতু
গ্রন্থ                :         
প্রকাশকাল    :         
রচনাকাল      :         ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ইং

অঘটনের প্রত্যাবর্তন || সাইফ নাসির জিতু
অঘটনের প্রত্যাবর্তন || সাইফ নাসির জিতু


অঘটনের প্রত্যাবর্তন || সাইফ নাসির জিতু (পর্ব - ১)

গাড়ির জানালা দিয়ে বাম পাশে তাকাতেই কানাডিয়ান এম্বাসির লাল ইটগুলো দেখতে পেল জাহেদ। গাড়ি দ্রুত চলছে, তাই মুহূর্তেই আড়াল হয়ে গেল দৃশ্যটা। রাত ১টা, গুলশান এলাকাটা প্রায় ফাঁকা। আর বৃষ্টির কারণে লোকজন নেই। ফুটপাথের দোকানদাররা বাক্স-পেটরা গুছিয়ে আগেই চলে গেছে। গাড়ি চলছে দ্রুত গতিতে, এভাবে চললে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বনানী পৌঁছে যাবে জাহেদ। সেখানে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে।

দেশের মাঝারি সাইজের একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান ম্যাকপাই গ্রুপের এমডির সঙ্গে তার মিটিং। যদিও দেশে আসার পর কোনো কিছুই গুছিয়ে উঠতে পারেনি সে। তবে গোছানোরও কিছু নেই। আজকের মিটিংয়ে কী হতে যাচ্ছে, তা আগে থেকেই প্রায় ঠিক হয়ে আছে। কর্পোরেট নেগোশিয়েটে দক্ষ জাহেদ ফর্মালিটির ধার ধারে না খুব একটা। তবে অপজিশনকে প্রাপ্য সম্মানটুকু দেন।

জাহেদের খুব কাছের লোকেরাও কখনো জোর দিয়ে বলতে পারে না জাহেদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কটি কেমন। কখনো মনে হয় খুব কাছের, কখনো অচেনা। নিন্দুকেরা বলে জাহেদ কাউকে বা** দিয়েও পুছে না। কিন্তু বাস্তবে তার মন এতটা শক্ত না। তার বহু নিন্দুককেও সে অকাতরে সাহায্য করে। তবে জাহেদের নাক উঁচু। কম বুদ্ধির মানুষদের তিনি দূরে রাখেন।

জাহেদের ৩৬ বছরের জীবনের পুরোটাই মানুষ নিয়ে কাজ করেছেন। এদের মধ্যে চোর, ডাকাত, পুলিশ থেকে শুরু করে ঝানু পলিটিশিয়ানরাও ছিলেন। সম্মান আদায় করেছেন সবার কাছ থেকেই। সাকসেস রেটও হাই, ব্যর্থতার স্বাদ জীবনে কমই পেয়েছেন। তবে জীবনে একবারই বুদ্ধির কাছে বড় রকমের পরাজয় বরণ করতে হয়েছে তাকে। জীবন থেকে প্রায় ছিটকে গিয়েছিলেন। তারপর থেকে চিরচেনা জাহেদকে আর খুঁজে পায়নি কেউ।

জাহেদের এককালের বস ছিলেন সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মুকসেদুর রহমান। চৌকস গোয়েন্দা। পরিচিতরা এর বেশি কিছু জানে না। তবে এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা সম্পর্কে যথেষ্টই ধারণা আছে জাহেদের। দীর্ঘদিন তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন।

প্রায় মাস তিনেক আগে দুনিয়ার কোনো এক স্থানে এই মুকসেদুর রহমানের সঙ্গে ম্যাকপাই গ্রুপের মালিকের কিছু আলোচনা হয়। তারপরই ডাক পড়ে জাহেদের। রোমানিয়ার নিরিবিলি জীবন ছেড়ে জাহেদ কিছুতেই ঢাকায় আসতে চায়নি। কিন্তু মুকসেদুর রহমানকে সে ভালো করেই চেনে। তার যাকে দরকার, তাকে সে হাজির করবেই। হাজার এক্সকিউজ দেখালেও লাভ নেই। সবগুলোর ষোলআনা ব্যবস্থা করেই তিনি ডাকেন। না করার উপায় থাকে না।

গাড়ি এখন হোটেল আমারি পেরিয়ে বনানী ব্রিজের দিকে যাচ্ছে। অনেকটা জোর করেই ডান দিকের গলির দিকে তাকালো না জাহেদ। এই শহরের কোনো কিছুই সে আর মনে করতে চায় না। ঢাকায় আসার পর থেকেই পুরোনো স্মৃতিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ফুটপাথের লাল ইটগুলো যেন জিজ্ঞেস করছে, কী এতদিন পর? স্মৃতিরা দলবেঁধে আসতে শুরু করেছে। এসব থেকে মুক্তি পেতে চায় জাহেদ। সে প্রাণপণ চেষ্টা করছে এই শহরের স্মৃতিগুলো না হাতড়েই কাজ শেষ করে রোমানিয়া ফিরে যেতে। শহরটিতে তার শেকড় গজিয়ে গেছে এতদিনে।

ম্যাকপাই গ্রুপের এমডি শফিকুর রহমান যথেষ্ট ভদ্রলোক, তবে চতুর। নামডাক নেই এমন একজন সাংবাদিককে ম্যাকপাই গ্রুপের মালিক কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেটিও ভেবে পাচ্ছেন না তিনি। খোঁজ নিয়ে যতটুকু জানা গেছে, ঢাকার কয়েকটি বিখ্যাত-অখ্যাত পত্রিকার সাংবাদিক ছিলেন জাহেদ। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজখবর নেই। যেন একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাংবাদিকতার অভিনয় করতে এসেছিলেন। অভিনয় শেষে স্টেজ থেকে নেমে গিয়েছেন।

ম্যাকপাই গ্রুপের নিজস্ব একটি পত্রিকাও আছে। সেই সূত্রে ঢাকার বড় বড় সাংবাদিক নেতারা বনানীর অফিসে প্রায়ই ধর্না দেন। নানান জন নানান ফন্দি-ফিকির নিয়ে আসেন। তবে মালিক তো দুরের থাক, এমডির সঙ্গে দেখা হয় কালে ভাদ্রে। অথচ অখ্যাত এই সাংবাদিকের জন্য রাত দেড়টায় তাকে অফিসে থাকতে বলা হয়েছে। এমন ঘটনা তার জীবনে প্রথম।
শফিকুর রহমান রাত দেড়টা পর্যন্ত যে জাহেদের জন্যই অপেক্ষা করছিলেন, সেটা আগত অতিথিকে বুঝতে দিতে চান না। তাই তিনি আরও কয়েকজন স্টাফকে নানা ধরনের কাজ দিয়ে অফিসে বসিয়ে রেখেছেন। তিনি খুব ব্যস্ত, তাই রাত জেগে অফিস করছেন—এটাই বোঝাতে চান। নিজের অজান্তেই জাহেদ নামের এই ব্যক্তির সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু করেছেন তিনি।

এমন সময় দরজায় নক দিয়ে পিয়ন বলল, “স্যার, একজন সাংবাদিক এসেছে।” এমডি মুখ গম্ভীর করে বললেন, “আমার রুমে নিয়ে আসো।” কিন্তু পিয়ন বলল, “স্যার, উনি আপনাকে লনে যেতে বলেছেন।”
শফিকুর রহমান নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলেন না।
নিচে তাকিয়ে দেখলেন, লম্বামতো এক লোক লনে বসে সিগারেট খাচ্ছে।

 Follow Now Our Google News


চলবে ...

২য় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক/ট্যাপ করুন


সাইফ নাসির জিতু’র গল্প ও উপন্যাস:

  •  




লেখক সংক্ষেপ:


কবিয়াল
 
কবিয়াল’এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখা ও লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত কবিয়াল’র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় কবিয়াল কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। কবিয়াল’এ প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন